📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 দালিলিক ভিত্তি

📄 দালিলিক ভিত্তি


আমার প্রবন্ধ এবং অব্যবহিত পরেই সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভীর সমালোচনা প্রকাশিত হওয়ার পর একাধিক পত্রযোগে আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন আমি হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করি। অবশ্য সাইয়্যেদ রিয়াসত আলি নদভী কিছুটা কঠোরতার সঙ্গে পীড়াপীড়ি করেছেন যেন আমি ঐ সকল রেওয়ায়েতের 'ঠিকানা' উল্লেখ করি কিংবা নিজের ভুল স্বীকার করি।
এটা তো ঠিক যে, আমার প্রবন্ধে আমি যখন হযরত আসমা রাযি.-এর চেয়ে হযরত আয়েশা রাযি. দশ বছরের ছোট হওয়ার হাওয়ালা দিই, তখন আমার মাথায় আল-ইকমাল-এর নামও ছিল। ঐ প্রবন্ধটি কিছুদিন আগে লিফলেট-প্যাম্ফলেট আকারে বিতরণ করা হয়েছিল এবং সাইয়্যেদ সুলায়মান নদভী তার ওপর পর্যালোচনা পেশ করেছিলেন। আল-ইকমাল-এর হাওয়ালা ছাড়াও আমার খুবই আস্থাভাজন এক মাওলানা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, উসদুল গাবা-র এক জায়গায় আছে— বিবাহের সময় হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স বারো বছর ছিল। দুর্ঘটনাক্রমে তখন আমার হাতের নাগালে কিতাবটি না থাকায় তাহকীক করাও সম্ভব হয়নি; বরং তার স্মৃতিশক্তির ওপর আস্থা রেখেই আমাকে ক্ষান্ত থাকতে হয়েছে। পরে অবশ্য কিতাবটিতে হযরত আসমা রাযি., আবু বকর রাযি. এবং হযরত আয়েশা রাযি.-এর আলোচনায় তালাশ করেও বারো বছরের তথ্যটি খুঁজে পাইনি। কিন্তু আমার সেই মাওলানা এখনো বলছেন, উসদুল গাবায় অবশ্যই তিনি পড়েছেন। সুযোগ পেলে আমাকে বের করে দেখাবেন। তবে এ সবকিছুর পরও নির্ভরযোগ্য কিছু হাদীসের ভিত্তিতে সবসময় আমার এটাই মনে হয়েছে যে, বারো বছর না হলেও বয়স এতটা কম ছিল না।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ

📄 গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ


আমি এটা নিঃসঙ্কোচে স্বীকার করছি যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের বয়স আমার মূল আলোচ্য বিষয় না হওয়ার কারণে বিষয়টির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জেহেনে যা ছিল তাই লিখে দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য প্রবন্ধে হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের বয়স কিছুটা বেশি উল্লেখ করার পাশাপাশি এটাও বলা হয়েছে যে, হিজরতের এক বছর পূর্বে হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হয়েছে। অথচ এ তথ্যটি ঠিক নয়; বরং বিবাহ হয়েছিল হিজরতের তিন বছর পূর্বে। আসল কথা হলো, দুই ধরনের রেওয়ায়েতই আছে। কোনো রেওয়ায়েতে এক বছর, কোনো রেওয়ায়েতে তিন বছর পূর্বে বিবাহের কথা উল্লেখ আছে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 নয় বছর বয়সে বিবাহের রেওয়ায়েত

📄 নয় বছর বয়সে বিবাহের রেওয়ায়েত


অধিকাংশ রেওয়ায়েত এ বিষয়ে একমত যে, বিবাহের সময় হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স ছয় বছর, আর রোখসতের সময় নয় বছর ছিল এবং নবীজীর ইন্তেকালের সময় ছিল আঠারো বছর। কিন্তু তাবাকাতে ইবনে সাদ-এর এই রেওয়ায়েত দুটো দেখুন—
تَزَوَّجَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَ هِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ
অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে যখন বিবাহ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। (৮/৪১)
نَكَحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَائِشَةَ وَ هِيَ ابْنَةُ تِسْعِ سِنِينَ أَوْ سَبْعٍ
অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে যখন বিবাহ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর, অথবা সাত বছর। [৮/৪২]
এখন স্বভাবত সবাই চাইবে, কোনো একটা ব্যাখ্যাট্যাখ্যা করে ভিন্ন বর্ণনার তথ্যটিকে অধিকাংশ বর্ণনার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলি। কিন্তু কী করে? অধিকাংশ বর্ণনার তথ্যও যে হিসাব অনুযায়ী মেলে না। আবার বর্ণনাকারীরা এত উচ্চ পর্যায়ের যে, তাদের বর্ণনার শুদ্ধ্যশুদ্ধি নিয়ে কথা বলার সাহসও কেউ করে না।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বিবাহের তারিখ-সংক্রান্ত বর্ণনা

📄 বিবাহের তারিখ-সংক্রান্ত বর্ণনা


হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের তারিখ নিয়ে যথেষ্ট মতভিন্নতা থাকলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কারও দ্বিমত নেই যে, নবুওয়াতের দশম বছর হযরত খাদীজা রাযি.-এর ইন্তেকালের কিছুদিন পরই হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হয়েছিল এবং তার অনতিবিলম্ব পরই হযরত সাওদা রাযি.-এর বিবাহ হয়েছিল। অর্থাৎ নবীজী প্রথমে হযরত আয়েশা রাযি.-কে, তারপর হযরত সাওদা রাযি.-কে বিবাহ করেন। আর এটা যেহেতু সর্বস্বীকৃত বিষয় যে, হযরত সাওদা রাযি.-এর বিবাহ নবুওয়াতের দশম বছর হিজরতের তিন বছর পূর্বে হয়েছিল; সুতরাং হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহও যে নবুওয়াতের দশম বছর হয়েছিল এটা অনস্বীকার্য।
হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের তারিখ-সংক্রান্ত মতভিন্নতা সম্ভবত হযরত খাদীজা রাযি.-এর ইন্তেকালের সন-তারিখের মতভিন্নতা থেকেই সৃষ্ট হয়েছে। কারণ কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে খাদীজা রাযি.-এর ইন্তেকাল হয়েছে হিজরতের চার বছর বা পাঁচ বছর আগে। তাদের মতে, হযরত খাদীজা রাযি.-এর ইন্তেকাল এবং হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের মাঝে এক অথবা দুই বছরের ব্যবধান আছে। যদিও বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, নবুওয়াতের দশম বছর তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে। যাই হোক, ইন্তেকাল ও বিবাহের এই ব্যবধানের ভিত্তিতেই সম্ভবত এটা ধরে নেওয়া হয়েছে যে, আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হিজরতের এক অথবা দুই বছর আগে হয়েছে। মোটকথা, বর্ণনাগুলোর মধ্যে যথেষ্ট বিরোধ আছে। এমনকি—খোদ বুখারীতেই দুই ধরনের রেওয়ায়েত আছে। আর বলাবাহুল্য যে, যে কোনো একটি বর্ণনা ঠিক, অপরটি ভুল। আর বিচার-পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী হয়ে কাউকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখা ন্যায়পরিপন্থী। সুতরাং বুখারী-মুসলিম সন্দেহাতীতভাবে অতিনির্ভরযোগ্য ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, ভুলের ঊর্ধ্বে শুধু কুরআন। সারকথা হলো, বিবাহের সন-তারিখ নিয়ে যে মতভিন্নতা রয়েছে তাতে অধিকাংশ আলেমের মত (অর্থাৎ নবুওয়াতের দশম বছরের মত)-ই বিশুদ্ধ। যেমনটি সাইয়্যেদ সাহেবও লিখেছেন—
বিশ্লেষকদের মতে—এবং বেশিরভাগ গ্রহণযোগ্য বর্ণনা এ মতেরই সমর্থন করে—হযরত খাদীজা রাযি. নবুওয়াতের দশম বর্ষে হিজরতের তিন বছর পূর্বে রমযান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। এক মাস পর সে বছরই শাওয়াল মাসে হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হয়। -সীরাতে আয়েশা রাযি.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00