📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারী

📄 পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারী


আমরা সিদ্দীকায়ে কুবরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর পবিত্র জীবন- চরিত অক্ষরে অক্ষরে পড়লাম। তাঁর পবিত্র জীবনের এক একটি ঘটনা আমাদের চোখে ভেসে উঠেছে। আমরা হয়তো পৃথিবীর অনেক বড় বড় নারী-ব্যক্তিত্বের কথা জেনেছি। ইতিহাস সেই জগৎ-খ্যাত নারীদের জীবনালেখ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। অনেক সময় তাদের তুলনামূলক পর্যালোচনাও করেছি।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত আয়েশা রাযি. এবং বিখ্যাত অমুসলিম নারীগণ

📄 হযরত আয়েশা রাযি. এবং বিখ্যাত অমুসলিম নারীগণ


পৃথিবীর ইতিহাসে যে বিখ্যাত অমুসলিম নারীদের নাম আসে, খুব বেশি হলে তারা হুট করে কিছু অসাধারণ কাজ করে ফেলেছেন, যা শ্রেণিপর্যায়কে—নারীত্বকে—ছাপিয়ে আরও উচ্চাসনে সমাসীন; এটাই তাদের খ্যাতি ও জ্যোতির রহস্য। কেউ জ্বালাময়ী বক্তৃতায় জনসমুদ্রে ঢেউ তুলেছেন, কেউ তীক্ষ্ণ চাতুর্যে শত্রুজালকে ভেদ করেছেন; কেউ বাহুবলেই পদানত করেছেন শত্রুশির, ভেঙে দিয়েছেন শত্রুশিবির—এ ধরনের ক্ষণকালীণ কিছু কারণই তাদের মহিমার মূল। কিন্তু, একটু গভীরভাবে ভাবুন তো—একটি বিরামহীন, ছন্দপতনহীন, অনিন্দ্যসুন্দর জীবনের সর্বতোমুখী কল্যাণকর কীর্তিমালার বিপরীতে এসব ছন্দহীন, ক্ষণকালীন, সাময়িক কিছু উদ্দীপনার কি তুলনা হতে পারে?
আমরা অনেক স্বর্গীয় রূপ-লাবণ্যের অলৌকিক জাদুময়তার অধিকারিণীকে দেখেছি; দেখেছি পুত্রসন্তানহীন রাজবংশের স্বর্ণমুকুটধারিণীকেও তেজোদীপ্ত মহিমায় আবির্ভূত হতে; কিন্তু অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করুন, একটু দেখে নিন, ইতিহাস তাদের ইতি টেনেছে আক্ষেপ আর অনুশোচনায়, ব্যর্থতা আর বেদনায়।
ঐতিহাসিক মিশর, ইরান, আফ্রিকা, ও রোমের রোমাঞ্চভরা নারী-নামও আমাদের সামনে আছে; কিন্তু বিবেক কী বলে? একটি সর্বাঙ্গীন সফল, পূত-পবিত্র, পুণ্যময় জীবনকে ওইসব নীচ, নিকৃষ্ট জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে চাওয়া-ও কি চরম অবমূল্যায়ন নয়?
আপাতমধুর, অতি নগণ্য, পার্থিব মূল্যায়নগুলোকে বাদ দিয়ে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, পাবিত্রিক আভিজাত্য ও ধর্মীয় মাহাত্ম্যের দিকটি বিবেচনায় আনুন; দেখবেন, সারা পৃথিবীর নারী-জগতের একটি তারাও এই সুউচ্চ দিগন্তে উদিত হওয়ার যোগ্য নয়। হাঁ, ভারতবর্ষের অনেক নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক, আলোকিত মুখ আমাদের বীতশ্রদ্ধ করবে; কিন্তু যথার্থ বিচারে—চরিত্রের পবিত্রতা, অগাধ স্বামীভক্তির অনুপম দৃষ্টান্ত ছাড়া আর কী আছে, যা তাদেরকে এমন মহিমায় মহিমান্বিত করতে পারে?

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত আয়েশা রাযি. এবং বিখ্যাত মুসলিম নারীগণ

📄 হযরত আয়েশা রাযি. এবং বিখ্যাত মুসলিম নারীগণ


সিদ্দীকায়ে কুবরা রাযি. ছাড়া পৃথিবীর আর কোন নারী আছেন? যিনি আপন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নৈতিক আভিজাত্য ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য-সহ ধর্মের জগতে, জ্ঞানের জগতে, সমাজ-জীবনে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এত বিচিত্র দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এত অবদান রেখে গেছেন? আর কোন নারী কীর্তিময় জীবনের মহিমায়, প্রভু-ভক্তি ও উপাসনায়, চারিত্রিক শিক্ষার প্রচারে, আত্মিক দীক্ষার প্রসারে, সুগভীর ধর্মীয় জ্ঞানে, ধর্মীয় বিধি-নিষেধের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে সারা পৃথিবীর কোটি কোটি নারীর' জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ হয়ে আছেন? এমন সর্বতোমুখী জীবনের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে আছেন? আর কোন নারী এত বৃহৎ একটি সমাজকে ধর্মীয়, সামাজিক ও জ্ঞানগত অবদানে এত ঋণী করে রেখেছেন?
মুসলিম রমণীকূলের ইতিহাসে পবিত্র স্ত্রীগণ রাযি. এবং পবিত্র কন্যাগণ রাযি. ছাড়া আর কার সঙ্গে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর তুলনা করা যেতে পারে?

টিকাঃ
১. মুসলিম নারীর আনুমানিক সংখ্যা।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত খাদীজা রাযি. এবং হযরত ফাতেমা রাযি.

📄 হযরত খাদীজা রাযি. এবং হযরত ফাতেমা রাযি.


মুসলিম-ইতিহাসে সকল পণ্ডিত একমত যে, মুসলিম নারীসমাজে হযরত খাদীজা রাযি., হযরত ফাতেমা রাযি. এবং হযরত আয়েশা রাযি.- ই শ্রেষ্ঠ। অধিকাংশ পণ্ডিত সর্বাগ্রে রেখেছেন হযরত খাদীজা রাযি.-কে, এরপর হযরত ফাতেমা রাযি.-কে, তারপর হযরত আয়েশা রাযি.-কে। কিন্তু এ স্তরবিন্যাস কোনো শরঈ নস বা সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে নয়; বরং পণ্ডিতবর্গের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, বিবেচনা ও গবেষণার আলোকে প্রদত্ত। প্রকৃতপক্ষে, এই তিন মহীয়সী আলাদা আলাদা মর্যাদা ও মহিমায় মূল্যায়িত হয়েছেন বিভিন্ন হাদীসে। তাই অনেক পণ্ডিত স্তরবিন্যাসে না যাওয়াই শ্রেয় জ্ঞান করেছেন। অপর দিকে আল্লামা ইবনে হাযাম রহ. সকল পণ্ডিতের বিপরীতে স্পষ্টত হযরত আয়েশা রাযি.-এর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, হযরত আয়েশা রাযি. শুধু আহলে বাইতের মধ্যেই নয়, শুধু পৃথিবীর নারী-জগতেই নয়; বরং সাহাবীগণের মধ্যেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি তাঁর দাবির স্বপক্ষে অসংখ্য প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। যদি কারও আগ্রহ থাকে তা হলে الملل والنحل গ্রন্থটি দেখতে পারেন।
এক্ষেত্রে আমরা আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ. এবং তাঁর শিষ্য আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহ.-এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করি। তাঁরা লিখেছেন-শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ যদি হয় পরকালীন মর্যাদা তা হলে তার প্রকৃত স্বরূপ একমাত্র আল্লাহই জ্ঞাত আছেন। কিন্তু পার্থিব বিচারে তাঁদের মূল্যায়ন বিভিন্ন আঙ্গিকে হতে পারে। যদি ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বমুখী বিপদের মোকাবেলা করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা, ছায়ার মতো তাঁর সঙ্গে থাকা, সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় তাঁকে সাহস ও শক্তি যোগানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়, তা হলে হযরত খাদীজা রাযি. সবার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু যদি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা, ব্যাপক পরিসরে ধর্মীয় কার্যক্রম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবনাদর্শের প্রচার-প্রসারের দিকটি সামনে আনা হয়, তা হলে হযরত আয়েশা রাযি.-এর সমকক্ষতার দাবিদার কেউ হতে পারেন না।'

টিকাঃ
১. যুরকানি: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00