📄 হজ্জে মেয়েলি মাজুরি
হজের সময় হয় চন্দ্র-মাসের শুরুর দিকেই পতিত। এই দিনগুলোতে অধিকাংশ মেয়েরই শারীরিক অপারগতা থাকে। এখন যদি অপবিত্র অবস্থায় হজের কাজগুলো তাদের জন্য সবই নিষিদ্ধ হয়ে যায়, তা হলে হজ-উমরার ময়দান তো কেয়ামতের ময়দানে পরিণত হবে। হাজার হাজার মেয়েকে প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হবে, তাদের সঙ্গে তাদের স্বজনরাও আটকে যাবে; অথবা হজ-উমরা না করেই এক বুক জ্বালা নিয়ে ফিরে আসতে হবে। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. নিজের জীবনের ঘটনা থেকে এর সমাধান দিয়েছেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ব্যাপারে ফতোয়া জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে আয়েশা, তাওয়াফ ছাড়া হজের সকল কাজ এ অবস্থায়ও করতে পারবে। যদি ইয়াওমুন নাহরের (দশই জিলহজ) কাছাকাছি সময়ে অপারগতা আসে, তা হলে আখেরি তাওয়াফ করতে হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিক-নির্দেশনার ভিত্তিতে হযরত আয়েশা রাযি. মুসলিম নারীদের সঙ্গে নিয়ে হজ করতেন। যাদের ব্যাপারে সন্দেহ থাকত, তাদের আখেরি তাওয়াফের পূর্বেই রোখসত করে দিতেন। আর যদি আখেরি তাওয়াফের পর সমস্যা হতো, তা হলে হজের সকল আমলই আদায় করাতেন।
হযরত যায়েদ রাযি., হযরত ইবনে উমর রাযি. এবং উমর রাযি. এ ব্যাপারে উম্মুল মুমিনীনের সঙ্গে মতভেদ করেছিলেন। পরবর্তীতে হযরত ইবনে উমর ও যায়েদ রাযি. নিজ নিজ ফতোয়া প্রত্যাহার করেছিলেন। হযরত উমর রাযি. তাঁর ফতোয়া বহাল রেখেছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. বরং এরকম সমস্যা হলে নারীদের মক্কায়ই পবিত্রতা পর্যন্ত থেকে যেতে বলতেন। একবার কিছু লোক হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে এই মাসআলাটি তুলল। তিনি বললেন, যদি এরকম না করা হয়, তা হলে হজের ময়দানে কমপক্ষে কয়েক হাজার নারীকে আটকে রাখতে হবে। এরপর তিনি অধিকাংশ সাহাবীর আমল দ্বারাও তাঁর মতটিকে সমর্থিত করলেন।' এই মাসআলায় কার কথাটি অধিক যুক্তিযুক্ত ও প্রমাণসিদ্ধ তা যে কেউই বিচার করতে পারেন।
টিকাঃ
১. মুয়াত্তা ও যুরকানী : ا باب إفاضة الحائض