📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কাপড় বা চাদরের ঝুল লম্বা-রাখা প্রসঙ্গ

📄 কাপড় বা চাদরের ঝুল লম্বা-রাখা প্রসঙ্গ


আরবরা কাপড় বা চাদরের ঝুল খুব লম্বা রাখত এবং চলতে গিয়ে মাটিতে ঝুলিয়ে-হেঁচড়িয়ে হাঁটত। তারা এটা করত অহংকারবশত। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা অহংকারবশত কাপড়ের ঝুল মাটিতে বিছিয়ে চলবে, আল্লাহ তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না। এ কথা শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, নারীদের বিষয়ে কী বিধান? তিনি বললেন, এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে দেবে। আরজ করলেন, তা হলে তো পায়ের গোছায় কাপড় থাকবে না। তিনি বললেন, তা হলে এক হাত।'

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৭৫, ১২৩। কিছু হাদীসে ঘটনাটি উম্মে সালামা রাযি.-এর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হতে পারে উভয়ই নিজ নিজ জায়গায় আরজ করেছিলেন।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বিবাহে নারীর সম্মতি প্রসঙ্গ

📄 বিবাহে নারীর সম্মতি প্রসঙ্গ


ইসলামে বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য মেয়েদের সম্মতি নেওয়া আবশ্যক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুমারী মেয়েদের কাছ থেকে সম্মতি নিতে হবে, আর বিধবাদের কাছ থেকে অনুমতি চাইতে হবে। কিন্তু আল্লাহ নারীপ্রকৃতিতে যে লাজুকতা দান করেছেন তাতে-কুমারী মেয়ে-মুখ ফুটে সম্মতি ব্যক্ত করা কঠিন। উম্মুল মুমিনীন রাযি. এটা ভালো করেই বুঝতেন, তাই আপত্তি করতে দ্বিধা করলেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নীরবতাই তার সম্মতি নির্দেশ করবে।'

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : كتاب النکاح

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 জোরপূর্বক চাপিয়ে-দেওয়া প্রসঙ্গ

📄 জোরপূর্বক চাপিয়ে-দেওয়া প্রসঙ্গ


অনেক অভিভাবক মেয়েদের সম্মতি ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী বিয়ে দিয়ে দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় হুজরায়ে আয়েশা রাযি.-ই ছিল নারীদের সর্বোচ্চ আদালত। মেয়েটি এই আদালতেই বিচার নিয়ে এল।
কিছুক্ষণ পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনার কথা। হযরত আয়েশা রাযি. মেয়েটিকে বসিয়ে রাখলেন। তিনি যখন এলেন, তখন ঘটনাটি তুলে ধরলেন। তিনি মেয়েটির পিতাকে ডেকে পাঠালেন এবং বিবাহ রাখা না-রাখার হক মেয়েটিকেই দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনে মেয়েটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতার সিদ্ধান্তে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি মূলত মেয়েদের অধিকারের সীমারেখা নিশ্চিত হতে চাইছিলাম।'

টিকাঃ
১. নাসাঈ: আল বিকরু ইযাওবিযুহা আবুহা ওয়া হিয়া কারিহা। দারাকুতনী: কিতাবুন নিকাহ (من مراسيل ابن بريدة )

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 ইদ্দতকালীন খোরপোশ

📄 ইদ্দতকালীন খোরপোশ


যদি কোনো নারীকে তার স্বামী এক বা দুই তালাক দেয় তা হলে তার ইদ্দতকালীন ভরণ-পোষণ স্বামীর ওপরই বর্তাবে, এ ব্যাপারে দ্বিমত নেই; কিন্তু যদি তিন তালাক দেয়, তা হলে স্বামীর ওপর দায়িত্ব থাকবে কি থাকবে না, এ নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেছেন, এমতাবস্থায় তার ওপর খোরপোশ আবশ্যক হবে না। প্রমাণ হিসেবে তারা বলেন, কুরআনে যে আয়াতটিতে এ আলোচনা করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, স্ত্রী না স্বামীর ঘর থেকে বের হবে, না স্বামী তাকে বের করে দেবে। এরপর বলা হয়েছে:
لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا
অর্থ: আশা করা যায়, এরপর আল্লাহ কিছু ঘটাবেন।
তারা বলতে চান, এই আয়াতটি থেকে বোঝা যায়, স্ত্রী স্বামীর ঘরেই থাকবে, অন্য কোথাও যাবে না এর কারণ হলো, এ দীর্ঘ সময়ে হতে পারে তাদের মাঝে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হয়ে যাবে; কিন্তু তিন তালাক হয়ে গেলে তো আর এই সুযোগ থাকে না; সুতরাং কুরআন মাজীদের বিধানটি তালাকে রজঈর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তালাকে বাইনের ক্ষেত্রে নয়।'
কিন্তু আমরা মনে করি, এই প্রমাণ উপস্থাপন যথার্থ নয়। ইদ্দতের সময় স্বামীর ঘরে থাকতে বলার এটাও একটা কারণ, আমরাও তা মানি; কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ, তা মানা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, এছাড়াও আরও অনেক কারণ ও কল্যাণ আছে এই নির্দেশটিতে। যেমন: তালাকের পর এও নিশ্চিত হতে হয় যে, স্ত্রী গর্ভবতী কি না? এজন্য স্ত্রীকে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়, সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিবাহ করতে পারে না; তাকে যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেটা তো প্রথম স্বামীর কারণেই হচ্ছে; তাই অপেক্ষার সময়টাতে খোরপোশ স্বামীকেই বহন করতে হবে। এ কারণেই হযরত আয়েশা রাযি. ফাতেমা বিনতে কায়সের প্রমাণ উপস্থাপনের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ফাতেমার জন্য এতে কল্যাণ নেই যে, সে তার ঘটনাটি যেখানে-সেখানে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে থাকবে। তার প্রথম স্বামীর ঘরটি অরক্ষিত ছিল বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অন্য ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। মারওয়ানের শাসনামলে হুবহু এরকমই একটি ঘটনা ঘটে গেল। মারওয়ান ফাতেমা বিনতে কায়সের ঘটনা অনুযায়ী ফায়সালা দিতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় হযরত আয়েশা রাযি. সংবাদ পাঠালেন, তোমরা এটা ঠিক করছ না। ফাতেমার ঘটনা এই ছিল যে, তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা ভালো ছিল না। আর কিছু বর্ণনায় আছে, ফাতেমা কঠোরভাষী ছিল। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।'

টিকাঃ
১. আবু দাউদ: কিতাবুত তালাক।
২. সহীহ বুখারী, আবু দাউদ, মুয়াত্তা: কিতাবুত তালাক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00