📄 নারীদের একান্ত মাসায়েলের ব্যাখ্যা
নারীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করতেন। উত্তরে অনেক সময় মেয়েলি ব্যাপার থাকত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোলা ভাষা ব্যবহার করতে লজ্জা বোধ করতেন। তাই অল্প কথায় মার্জিত বাক্যে বোঝানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু যাদের বুঝ-শক্তি কম, তাদের কাছে স্পষ্ট হতে চাইত না। এ ধরনের ক্ষেত্রগুলোতে হযরত আয়েশা রাযি.-ই ভগ্নিগণের সাহায্যে এগিয়ে আসতেন। তিনি তাদের কাছে নিয়ে গিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতেন এবং তাদের পরবর্তী জিজ্ঞাসাগুলো নিজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করতেন এবং উত্তর এনে দিতেন।'
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : باب الأحكام اللتي تعرف بالدلائل
📄 কাপড় বা চাদরের ঝুল লম্বা-রাখা প্রসঙ্গ
আরবরা কাপড় বা চাদরের ঝুল খুব লম্বা রাখত এবং চলতে গিয়ে মাটিতে ঝুলিয়ে-হেঁচড়িয়ে হাঁটত। তারা এটা করত অহংকারবশত। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা অহংকারবশত কাপড়ের ঝুল মাটিতে বিছিয়ে চলবে, আল্লাহ তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না। এ কথা শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, নারীদের বিষয়ে কী বিধান? তিনি বললেন, এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে দেবে। আরজ করলেন, তা হলে তো পায়ের গোছায় কাপড় থাকবে না। তিনি বললেন, তা হলে এক হাত।'
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৭৫, ১২৩। কিছু হাদীসে ঘটনাটি উম্মে সালামা রাযি.-এর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হতে পারে উভয়ই নিজ নিজ জায়গায় আরজ করেছিলেন।
📄 বিবাহে নারীর সম্মতি প্রসঙ্গ
ইসলামে বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য মেয়েদের সম্মতি নেওয়া আবশ্যক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুমারী মেয়েদের কাছ থেকে সম্মতি নিতে হবে, আর বিধবাদের কাছ থেকে অনুমতি চাইতে হবে। কিন্তু আল্লাহ নারীপ্রকৃতিতে যে লাজুকতা দান করেছেন তাতে-কুমারী মেয়ে-মুখ ফুটে সম্মতি ব্যক্ত করা কঠিন। উম্মুল মুমিনীন রাযি. এটা ভালো করেই বুঝতেন, তাই আপত্তি করতে দ্বিধা করলেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নীরবতাই তার সম্মতি নির্দেশ করবে।'
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : كتاب النکاح
📄 জোরপূর্বক চাপিয়ে-দেওয়া প্রসঙ্গ
অনেক অভিভাবক মেয়েদের সম্মতি ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী বিয়ে দিয়ে দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় হুজরায়ে আয়েশা রাযি.-ই ছিল নারীদের সর্বোচ্চ আদালত। মেয়েটি এই আদালতেই বিচার নিয়ে এল।
কিছুক্ষণ পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনার কথা। হযরত আয়েশা রাযি. মেয়েটিকে বসিয়ে রাখলেন। তিনি যখন এলেন, তখন ঘটনাটি তুলে ধরলেন। তিনি মেয়েটির পিতাকে ডেকে পাঠালেন এবং বিবাহ রাখা না-রাখার হক মেয়েটিকেই দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনে মেয়েটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতার সিদ্ধান্তে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি মূলত মেয়েদের অধিকারের সীমারেখা নিশ্চিত হতে চাইছিলাম।'
টিকাঃ
১. নাসাঈ: আল বিকরু ইযাওবিযুহা আবুহা ওয়া হিয়া কারিহা। দারাকুতনী: কিতাবুন নিকাহ (من مراسيل ابن بريدة )