📄 নিহতের দিয়ত বা রক্তমূল্যে নারীর অংশ
যদি কেউ কারও হাতে নিহত হয়, আর হত্যাকারী দিয়ত (রক্তমূল্য) আদায় করতে চায়, তা হলে এক-এক করে সকল উত্তরাধিকারীর সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, وَ إِنْ كَانَتِ امْرَأَةًঅর্থ: উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যদিও কোনো মেয়ে মানুষ থাকে'; অর্থাৎ যদি ওয়ারিশদের মধ্যে নারীও থাকে তা হলে তারও সম্মতি নিতে হবে; শুধু পুরুষের সম্মতি যথেষ্ট হবে না। কেননা, উত্তরাধিকার শুধু পুরুষেরই হয় না; বরং নারীরও হয়।
টিকাঃ
১. আবু দাউদ: كتاب الديات، باب عفو النساء
📄 উত্তরাধিকারে নারীর অংশ
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে মেয়েদের উত্তরাধিকার ছিল না। ইসলাম এসে তাদেরও উত্তরাধিকার প্রদান করে। উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত অধিকাংশ মাসআলাই কুরআন মাজীদে বিবৃত হয়েছে। নারীদের অংশও সবিস্তারে উঠে এসেছে। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার এমনও রয়ে গেছে, যেগুলোর সমাধানে কুরআন-হাদীসের আলোকে কিয়াস বা বিবেচনার আশ্রয় নিতে হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রগুলোতে অন্যান্য মূলনীতির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের অধিকারের বিষয়টিও হযরত আয়েশা রাযি.-এর মাথায় ছিল। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে : যদি মাইয়েতের কোনো ছেলে না থাকে, শুধু দুই বা ততোধিক মেয়ে, নাতী ও নাতনী থাকে; তা হলে ফারায়েযের বিধান কী হবে? হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.-এর বিবেচনায় নাতনীদের কোনো অংশ নেই; কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবেচনায় নাতনীদেরও অংশ সাব্যস্ত।'
টিকাঃ
২. মুসনাদে দারিমি: كتاب الفرائض
📄 নারীদের একান্ত মাসায়েলের ব্যাখ্যা
নারীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করতেন। উত্তরে অনেক সময় মেয়েলি ব্যাপার থাকত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোলা ভাষা ব্যবহার করতে লজ্জা বোধ করতেন। তাই অল্প কথায় মার্জিত বাক্যে বোঝানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু যাদের বুঝ-শক্তি কম, তাদের কাছে স্পষ্ট হতে চাইত না। এ ধরনের ক্ষেত্রগুলোতে হযরত আয়েশা রাযি.-ই ভগ্নিগণের সাহায্যে এগিয়ে আসতেন। তিনি তাদের কাছে নিয়ে গিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতেন এবং তাদের পরবর্তী জিজ্ঞাসাগুলো নিজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করতেন এবং উত্তর এনে দিতেন।'
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : باب الأحكام اللتي تعرف بالدلائل
📄 কাপড় বা চাদরের ঝুল লম্বা-রাখা প্রসঙ্গ
আরবরা কাপড় বা চাদরের ঝুল খুব লম্বা রাখত এবং চলতে গিয়ে মাটিতে ঝুলিয়ে-হেঁচড়িয়ে হাঁটত। তারা এটা করত অহংকারবশত। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা অহংকারবশত কাপড়ের ঝুল মাটিতে বিছিয়ে চলবে, আল্লাহ তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না। এ কথা শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, নারীদের বিষয়ে কী বিধান? তিনি বললেন, এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে দেবে। আরজ করলেন, তা হলে তো পায়ের গোছায় কাপড় থাকবে না। তিনি বললেন, তা হলে এক হাত।'
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৭৫, ১২৩। কিছু হাদীসে ঘটনাটি উম্মে সালামা রাযি.-এর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হতে পারে উভয়ই নিজ নিজ জায়গায় আরজ করেছিলেন।