📄 হজ্জ চুল-কাটানো প্রসঙ্গ
হজে হাজীদের মাথা চাঁছাতে বা ছাঁটাতে হয়। কিন্তু নারীরা কী করবে? এ ব্যাপারে হযরত ইবনে উমর রাযি. ফতোয়া দিতেন, নারীদেরও মেপে চার আঙ্গুল পরিমাণ ছাঁটাতে হবে। ফতোয়াটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ইবনে উমরের কথা শুনে কি তোমাদের অবাক লাগে না? সে মুহরিম নারীদের নাকি মেপে চার আঙ্গুল পরিমাণ চুল কাটাতে বলে! অথচ মাথার যে কোনো জায়গা থেকে সামান্য পরিমাণ চুল কাটানোও যথেষ্ট।'
টিকাঃ
৩. আইনুল ইসাবা, সুয়ূতি (ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর মানাসিকে কাবির-এর উদ্ধৃতিতে)।
📄 ইহরাম অবস্থায় মোজা-পরা প্রসঙ্গ
ইহরাম অবস্থায় পুরুষরা মোজা পরতে পারে না। কিন্তু যদি কেউ অপারগ হয়ে পরতে চায়, তা হলে টাখনুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হবে। হযরত ইবনে উমর রাযি. নারীদের ব্যাপারেও একই কথা বলতেন। পক্ষান্তরে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, এই বিধান শুধুমাত্র পুরুষের জন্য। নারীদের মোজা কাটতে হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই এই অনুমতি দিয়েছেন। উম্মুল মুমিনীনের ফতোয়া শুনে ইবনে উমর রাযি. আপন ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেন।'
টিকাঃ
১. আবু দাউদ : ا باب ما يلبس المحرم
📄 ইহরাম অবস্থায় খুশবু-ব্যবহার প্রসঙ্গ
ইহরামের অবস্থায় খুশবু ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ কারণে অনেকে মনে করতেন, ইহরাম বাঁধার সময়ও খুশবু লাগানো যাবে না। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমরা (পবিত্র স্ত্রীগণ) ইহরামের সময় কপালে খুশবু লাগিয়ে নিতাম, ঘামের কারণে অনেকের কপাল থেকে খুশবু গলে চেহারায় চলে আসত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতেন; কিন্তু নিষেধ করতেন না।'
টিকাঃ
২. আবু দাউদ: ا باب ما يلبس الغرم
📄 ইহরাম অবস্থায় পোশাক ও নেকাব প্রসঙ্গ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন, ইহরাম অবস্থায় চেহারায় নেকাব ব্যবহার করা যাবে না (আরবে পুরুষরাও মরুভূমির রোদের তাপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য চেহারায় নেকাব ব্যবহার করত)। কিন্তু নারীদের জন্য পর্দার বিধানের কারণে সবসময় এটা করা সম্ভব হতো না। এজন্য হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমরা যখন বিদায় হজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম তখন কাফেলা সামনে থাকত, আমরা পেছনে থাকতাম; কিন্তু সামনের দিক থেকে কেউ এলে মাথার ওপর থেকে চাদর নামিয়ে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার চেহারা অনাবৃত করতাম। হিজরী প্রথম শতক পর্যন্ত হযরত আয়েশা রাযি.-এর ফতোয়ার ওপরই আমল ছিল。
জনৈকা তাবেঈয়া বর্ণনা করেন, আমরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর ভগ্নি হযরত আসমা রাযি.-এর সঙ্গে হজের সফর করতাম। আমরা ইহরাম অবস্থায়ও মুখ ঢেকে রাখতাম; কিন্তু তিনি আমাদের নিষেধ করতেন না।'
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বর্ণনা করেন, জনৈক সাহাবীর প্রশ্নের উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ইহরামের অবস্থায় জামা, পাজামা, টুপি, পাগড়ি পরা যাবে না। কাপড়ে জাফরান বা কুসুমের রঙ লাগানো যাবে না।'
এই হাদীসের আলোকে অনেকে নারীদের জন্যও জাফরান বা জাফরানের রঙ মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ বিবেচনা করেছেন। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, হাদীসটি শুধুমাত্র পুরুষকে কেন্দ্র করে। তা ছাড়া, কথাটি বলাও হয়েছে একজন পুরুষেরই প্রশ্নের উত্তরে। এজন্যই হযরত আয়েশা রাযি. নিজেও ইহরাম অবস্থায় জাফরানের রঙ লাগানো কাপড় পরিধান করতেন। এমনকি তিনি মনে করতেন, নারীরা ইহরামের অবস্থায়ও অলঙ্কার পরতে পারবে; সাদা গোলাপি ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের কাপড়ও পরিধান করতে পারবে。
টিকাঃ
৩. আবু দাউদ : ا باب ما يلبس الغرم
১. মুয়াত্তা, ইমাম মালেক রহ: | باب تخمير المحرم وجهه
٢. সহীহ বুখারী: | باب ما يلبس المحرم من الثياب
۳. সহীহ বুখারী: | باب ما يلبس المحرم من الثياب