📄 মাসজালায় নারীদের সুবিধা-অসুবিধা বোঝা
কিছু কিছু মাসআলায় সাহাবা কেরামের মতভেদ ছিল। এসব মাসআলায় তিনি ওই দিকগুলোকেই প্রাধান্য দিতেন যেগুলোতে নারী জাতির জন্য সুবিধা হয়। কেননা তিনিই নারীর সুবিধা-অসুবিধা ভালো বুঝতেন। তাই বলে খেয়াল-খুশির আশ্রয় নিতেন না। বরং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকেই এগুলোর প্রমাণ পেশ করতেন। এ কারণেই দেখা যায়, এ ধরনের অধিকাংশ বিষয়েই ফকীহগণ তাঁর মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, এবং অধিকাংশ রাষ্ট্রে এ অনুযায়ীই ফতোয়া প্রদত্ত হয়।
📄 গোসলে খোঁপা-খোলা প্রসঙ্গ
হযরত ইবনে উমর রাযি. ফতোয়া দিতেন, নারীদের শরঈ পবিত্রতা অর্জনের জন্য খোঁপা খুলে গোসল করতে হবে। হযরত আয়েশা রাযি. এ কথা শুনে বললেন—সে এ ফতোয়াই দিয়ে দিত যে, নারীদের মাথার চুলমুল কেটে ফেলে দিতে হবে। আরে, আমি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে গোসল করতাম, আমি শুধুমাত্র তিন বার পানি ঢালতাম;' একটি চুলও খুলতাম না।'
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম: باب الغسل
২. সুনানে নাসাঈ : باب الغسل
📄 হজ্জ চুল-কাটানো প্রসঙ্গ
হজে হাজীদের মাথা চাঁছাতে বা ছাঁটাতে হয়। কিন্তু নারীরা কী করবে? এ ব্যাপারে হযরত ইবনে উমর রাযি. ফতোয়া দিতেন, নারীদেরও মেপে চার আঙ্গুল পরিমাণ ছাঁটাতে হবে। ফতোয়াটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ইবনে উমরের কথা শুনে কি তোমাদের অবাক লাগে না? সে মুহরিম নারীদের নাকি মেপে চার আঙ্গুল পরিমাণ চুল কাটাতে বলে! অথচ মাথার যে কোনো জায়গা থেকে সামান্য পরিমাণ চুল কাটানোও যথেষ্ট।'
টিকাঃ
৩. আইনুল ইসাবা, সুয়ূতি (ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর মানাসিকে কাবির-এর উদ্ধৃতিতে)।
📄 ইহরাম অবস্থায় মোজা-পরা প্রসঙ্গ
ইহরাম অবস্থায় পুরুষরা মোজা পরতে পারে না। কিন্তু যদি কেউ অপারগ হয়ে পরতে চায়, তা হলে টাখনুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হবে। হযরত ইবনে উমর রাযি. নারীদের ব্যাপারেও একই কথা বলতেন। পক্ষান্তরে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, এই বিধান শুধুমাত্র পুরুষের জন্য। নারীদের মোজা কাটতে হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই এই অনুমতি দিয়েছেন। উম্মুল মুমিনীনের ফতোয়া শুনে ইবনে উমর রাযি. আপন ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেন।'
টিকাঃ
১. আবু দাউদ : ا باب ما يلبس المحرم