📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 নারীকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রতিবাদ

📄 নারীকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রতিবাদ


নারীদের কেউ ছোট করে দেখলে উম্মুল মুমিনীন রাযি. তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হতেন। কোনো মাসআলায় যদি নারীদের প্রতি অবজ্ঞা-ভাব প্রকাশ পেত, তা হলে তার তল দেখে ছাড়তেন। দু-একজন সাহাবী মাসআলা দিতেন, যদি নামাযরত অবস্থায় নামাযীর সামনে দিয়ে কুকুর, গাধা বা নারী অতিক্রম করে তা হলে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। হযরত আয়েশা রাযি. মাসআলাটি শুনতে পেয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন, এবং বললেন—
إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا دَابَّةُ سُوْءٍ بِئْسَ مَا عَدَلْتُمُوْنَا بِالْحِمَارِ وَ الْكَلْبِ
অর্থ: তা হলে নারীও একটা ইতর প্রাণী! এ কেমন ইনসাফ তোমাদের যে, আমরা কুকুর আর গাধার সমতুল্য হয়ে গেলাম? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়তেন, আর আমি তাঁর সামনে শুয়ে থাকতাম।' এটা তয়ালিসির বর্ণনা।' অন্য একটি বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রাসূল যখন সেজদায় যেতে চাইতেন, আমার পায়ে দাবা দিতেন, আর আমি পা সরিয়ে নিতাম।' কোনো কোনো ফকীহ মনে করেন, নারীকে স্পর্শ করলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু উম্মুল মুমিনীন রাযি.-এর বর্ণনাটি এসব ভুল বোঝাবুঝির নিরসন করে না কি?
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি কুলক্ষণ আছে তিনটি বস্তুতে ঘর, ঘোড়া, নারী। বর্ণনাটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. রেগে যান। তিনি বলেন— কসম ওই সত্তার, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই এমন কথা বলেননি; তবে তিনি বলেছিলেন, ইহুদি ও জাহেলরা এই তিনটি বস্তু থেকে অশুভ পূর্বাভাস গ্রহণ করত।

টিকাঃ
১. মুসনাদে তয়ালিসি: ২০৫ পৃষ্ঠা (হায়দারাবাদের ছাপা)।
২. আবু দাউদ: বাবুল মারআতি লা ইয়াকতাউস সালাহ।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 মাসজালায় নারীদের সুবিধা-অসুবিধা বোঝা

📄 মাসজালায় নারীদের সুবিধা-অসুবিধা বোঝা


কিছু কিছু মাসআলায় সাহাবা কেরামের মতভেদ ছিল। এসব মাসআলায় তিনি ওই দিকগুলোকেই প্রাধান্য দিতেন যেগুলোতে নারী জাতির জন্য সুবিধা হয়। কেননা তিনিই নারীর সুবিধা-অসুবিধা ভালো বুঝতেন। তাই বলে খেয়াল-খুশির আশ্রয় নিতেন না। বরং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকেই এগুলোর প্রমাণ পেশ করতেন। এ কারণেই দেখা যায়, এ ধরনের অধিকাংশ বিষয়েই ফকীহগণ তাঁর মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, এবং অধিকাংশ রাষ্ট্রে এ অনুযায়ীই ফতোয়া প্রদত্ত হয়।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 গোসলে খোঁপা-খোলা প্রসঙ্গ

📄 গোসলে খোঁপা-খোলা প্রসঙ্গ


হযরত ইবনে উমর রাযি. ফতোয়া দিতেন, নারীদের শরঈ পবিত্রতা অর্জনের জন্য খোঁপা খুলে গোসল করতে হবে। হযরত আয়েশা রাযি. এ কথা শুনে বললেন—সে এ ফতোয়াই দিয়ে দিত যে, নারীদের মাথার চুলমুল কেটে ফেলে দিতে হবে। আরে, আমি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে গোসল করতাম, আমি শুধুমাত্র তিন বার পানি ঢালতাম;' একটি চুলও খুলতাম না।'

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম: باب الغسل
২. সুনানে নাসাঈ : باب الغسل

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হজ্জ চুল-কাটানো প্রসঙ্গ

📄 হজ্জ চুল-কাটানো প্রসঙ্গ


হজে হাজীদের মাথা চাঁছাতে বা ছাঁটাতে হয়। কিন্তু নারীরা কী করবে? এ ব্যাপারে হযরত ইবনে উমর রাযি. ফতোয়া দিতেন, নারীদেরও মেপে চার আঙ্গুল পরিমাণ ছাঁটাতে হবে। ফতোয়াটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ইবনে উমরের কথা শুনে কি তোমাদের অবাক লাগে না? সে মুহরিম নারীদের নাকি মেপে চার আঙ্গুল পরিমাণ চুল কাটাতে বলে! অথচ মাথার যে কোনো জায়গা থেকে সামান্য পরিমাণ চুল কাটানোও যথেষ্ট।'

টিকাঃ
৩. আইনুল ইসাবা, সুয়ূতি (ইমাম ইবনে হাম্বল রহ.-এর মানাসিকে কাবির-এর উদ্ধৃতিতে)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00