📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 খেলাফায়ে ইসলামের ফতোয়া চাওয়া

📄 খেলাফায়ে ইসলামের ফতোয়া চাওয়া


হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরই আপন পিতার জীবদ্দশায় সর্বসাধারণের জিজ্ঞাসার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হন। ধর্মীয় ফতোয়া প্রদানের পদমর্যাদাও অর্জিত হয়েছিল তাঁর। জীবনের শেষ পর্যন্ত অপরাপর খলীফা ও শাসক-প্রশাসকের সময়ও সদাসর্বদা এ মর্যাদায় বিশিষ্ট ছিলেন তিনি। হযরত কাসেম রহ., যিনি সাহাবীগণের পর মদীনার বিশিষ্ট ফকীহ-সপ্তকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন, বলেন-
كَانَتْ عَائِشَةُ قَدِ اسْتَقَلَّتْ بِالْفَتْوَى فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَ عُمَرَ وَ عُثْمَانَ وَهَلُمَّ جَرًّا إِلَى أَنْ مَّاتَتْ رَحِمَهَا اللَّهُ
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর সময়ই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ফতোয়া প্রদানের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। হযরত উমর রাযি. ও হযরত উসমান রাযি.-এর পরও শেষ জীবন পর্যন্ত ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।'
হযরত উমর রাযি. নিজেও একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ মুজতাহিদ ছিলেন। তিনিও এই মেশকাতুন নবীর প্রতি ছিলেন মুখাপেক্ষী।
كَانَتْ عَائِشَةُ تُفْتِي فِي عَهْدِ عُمَرَ وَ عُثْمَانَ بَعْدَهُ يُرْسِلَانِ إِلَيْهَا فَيَسْأَلَا بِهَا عَنِ السُّنَنِ
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. হযরত উমর ও উসমান রাযি.-এর জামানায়ও ফতোয়া প্রদান করতেন। হযরত উমর ও হযরত উসমান রাযি. তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে হাদীস জানার জন্য লোক পাঠাতেন।'
হযরত উমর রাযি.-এর শাসনামলে নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া আর কারও ফতোয়াপ্রদানের অনুমতি ছিল না। সুতরাং বোঝা যায়, হযরত উমর রাযি. হযরত আয়েশা রাযি.-এর জ্ঞান ও যোগ্যতার প্রতি কতখানি আশ্বস্ত ছিলেন।
আমীর মুআবিয়া রাযি. দামেশক থেকে খেলাফত পরিচালনা করতেন। কিন্তু প্রয়োজন হলে সিরিয়া থেকে দূত এসে বাবে আয়েশা রাযি.-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং অনুমতি পেলে মহান শাসকের পক্ষ থেকে মাসআলা জানতে চাইতেন', বিভিন্ন বিষয়ে আজ্ঞা ও উপদেশ আবদার করতেন।°

টিকাঃ
২. ইবনে সাদ: ২/২/১২৬।
১. ইবনে সাদ : ২/২/১২৬।
২. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৮৭।
৩. জামে তিরমিযী : باب ما جاء في حفظ اللسان ا

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 আকাবিরে সাহাবার ফতোয়া চাওয়া

📄 আকাবিরে সাহাবার ফতোয়া চাওয়া


পবিত্র মদীনা ছিল আকাবিরে সাহাবার মূল কেন্দ্র। হযরত আবু বকর রাযি. ও হযরত উমর রাযি.-এর খেলাফত পর্যন্ত হযরত আলী রাযি., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি., হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি., হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি., হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি., হযরত উবাই ইবনে কাব রাযি., হযরত আবু দারদা রাযি., হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাযি. প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ ইসলামী জাহানে ইলম ও ফতোয়ার স্তম্ভ ছিলেন। হযরত উসমান রাযি.-এর শাসনামলে তাঁদের অধিকাংশই ওফাতপ্রাপ্ত হন। তাঁদের পর আসে সাহাবা কেরামের নতুন প্রজন্মের পালা। তাঁদের শিরোমণি ছিলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি., আবু সাঈদ খুদরী রাযি., জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাযি., আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি., আবু হুরায়রা রাযি.। হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স যদিও কম ছিল; তথাপি, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে, তিনি প্রথম যুগ থেকে আকাবিরে সাহাবার জীবদ্দশায়ই ফতোয়ার আসনে সমাসীন ছিলেন। বড় বড় সাহাবা কেরাম কঠিন ও জটিল বিষয়গুলোতে তাঁরই শরণাপন্ন হতেন। জামে তিরমিযীতে আছে:
مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيْثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَا عَائِشَةُ إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا عِلْمًا
অর্থ: আসহাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো হাদীস বুঝতে অসুবিধা বোধ করেছেন, হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করে এ সম্পর্কে কোনো না কোনো ধারণা অবশ্যই পেয়েছেন।
ইবনে সাদ গ্রন্থে আছে:
يَسْأَلُهَا الْأَكَابِرُ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: বড় বড় সাহাবা কেরাম রাযি. তাঁর কাছে এসে মাসআলা জানতে চাইতেন।'
তাবেঈ মাসরুক কসম খেয়ে বলতেন,
لَقَدْ رَأَيْتُ مَشِيْخَةَ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُوْنَهَا عَنِ الْفَرَائِضِ
অর্থ: আমি প্রবীণ সাহাবা কেরামকেও তাঁর কাছে ফারায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে দেখেছি।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-সহ অনেক সাহাবী, যাঁরা হাদীস, ফিকহ ও ইজতিহাদে তাঁর সমপর্যায়ের ছিলেন, তাঁরাও অনেকসময় অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে নিতেন। হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. উলামায়ে আসহাবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তবু হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরসে নববী থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন না。

টিকাঃ
১. ইবনে সাদ ও হাকেম।
২. সহীহ বুখারী: আল-বিত্র, আল-জানাইয। নাসাঈ : ا باب لبس الحرير
৩. মুয়াত্তা, ইমাম মালেক : ا باب الغল

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সমস্ত ইসলামী জাহান থেকে ফতোয়া চাওয়া

📄 সমস্ত ইসলামী জাহান থেকে ফতোয়া চাওয়া


মদীনা সমগ্র ইসলামী জাহানের প্রাণকেন্দ্র ছিল। মানুষ যিয়ারত ও বরকতের উদ্দেশ্যে যে কোনো স্থান থেকে এখানে আসত। তারা মদীনায় এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনসঙ্গিনীর খেদমতে অবশ্যই হাজির হতো। দূরদূরান্ত থেকে যে মানুষগুলো আসত, তারা অনেকে সাধারণ শিষ্টাচার ও সৌজন্য সম্পর্কে জ্ঞাত থাকত না; তাই প্রথমে ভালো করে শুনে-জেনে নিত, এরপর উম্মুল মুমিনীন রাযি.-এর দরবারে অনুমতিপ্রার্থনার সালাম পেশ করত।' হযরত আয়েশা রাযি. তাদের সঙ্গে অত্যন্ত মার্জিত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করতেন।' মাঝখানে পর্দার আড়াল থাকত। লোকেরা তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা পেশ করত, মনে কোনো খটকা থাকলে সমাধান চাইত। উম্মুল মুমিনীন রাযি. তাদের জিজ্ঞাসার জবাব দিতেন, সন্দেহের নিরসন করতেন। তারা সান্ত্বনা পেত, কৃতজ্ঞ হতো। অনেকে অনেক সময় কিছু জিজ্ঞেস করতে সঙ্কোচ করলে إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ )আল্লাহ সত্যপ্রসঙ্গে লজ্জা করেন না) এই আয়াতে কারীমার ভিত্তিতে নিঃসঙ্কোচে কথা বলতে উৎসাহিত করতেন, বলতেন-আমি তোমাদের মা, মায়ের কাছে সঙ্কোচ কিসের?
হযরত আয়েশা রাযি.-এর বার্ষিক হজ পালন কখনো বিঘ্নিত হতো না। প্রতি বছর হজের মৌসুমে সাবির পর্বতের পাদদেশে টানানো হযরত আয়েশা রাযি.-এর তাঁবুকে ঘিরে জ্ঞান-পিপাসুদের ভিড় জমে যেত। অনেক সময় তিনি খানায়ে কাবায় জমজমের ছাদের নিচে আসন গ্রহণ করতেন এবং ইলমে ওহীর জ্ঞানার্থীদের জ্ঞান বিতরণ করতেন। মানুষ বিভিন্নমুখী সাওয়াল পেশ করত, আর তিনি কুরআন ও হাদীসের ভিত্তিতে সকল সাওয়ালেরই জবাব দিতেন。

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৬।
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২১৯।
৩. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২১৯। সহীহ বুখারী: বাবু তাওয়াফিন নিসা।
৪. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৫, ৭৫৭।
৫. সহীহ বুখারী: বাবু তাওয়াফিন নিসা।
৬. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪০, ৯৫, ২১৯, ২২৫, ২৫৯, ২৬১।
৭. সহীহ বুখারী: বাবু তাওয়াফিন নিসা। মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৪২।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 মতভেদে সিদ্ধান্ত দেওয়ার গ্রহণযোগ্যতা

📄 মতভেদে সিদ্ধান্ত দেওয়ার গ্রহণযোগ্যতা


যেসব মাসআলায় সাহাবা কেরামেরও মতভেদ ছিল, সেসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফায়সালার জন্যও অনেকে আসতেন তাঁরই কাছে। একবার হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি.-এর মতো বিশাল ব্যক্তিত্ব এলেন হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরবারে; বললেন, একটি বিষয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ মতভেদ করছেন, আমিও দ্বিধাগ্রস্ত; এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর মতটি প্রকাশ করলেন। হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি.-এর দ্বিধা দূর হলো। তিনি বললেন, আজকের পর থেকে এই মাসআলাটি আর কখনো কাউকে জিজ্ঞেস করব না।' হযরত আবু দারদা রাযি. ফতোয়া দিতেন, যদি ঘটনাক্রমে কারও বিতর নামায পড়া না হয়, আর সকাল হয়ে যায়, তা হলে বিতর পড়া যাবে না। লোকেরা হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল হয়ে গেলেও বিতর পড়ে নিতেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. এবং হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. দুজনেই বিজ্ঞ আলেম ও ফকীহ ছিলেন। তাদের মধ্যে ইফতারের বিষয়ে ইখতিলাফ হলো। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন, ইফতার করে অবিলম্বে মাগরিব পড়ে নিতে হবে। কিন্তু আবু মুসা আশআরি রাযি. বললেন— না, ইফতার করে একটু বিশ্রাম করতে হবে; এরপর মাগরিব পড়তে হবে। লোকেরা সুরাহার জন্য গেল হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে। তিনি বললেন, অবিলম্বে মাগরিব পড়ার কথা যে বলেছে, সেই ঠিক বলছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র অভ্যাসও এটাই ছিল。
যদি কেউ হজ করতে না যায়, কিন্তু কোরবানির জন্তু মক্কায় পাঠিয়ে দেয়, তা হলে লোকটির হুকুম কী হবে? হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. ফতোয়া দিতেন, সে হাজি সাহেবের মতোই হবে, অর্থাৎ হজের অবস্থায় তার ওপর যেসব বিধান আরোপিত হতো, এখনো সেগুলো আরোপিত হবে; কোরবানি হওয়া পর্যন্ত তাকে মুহরিমের মতো থাকতে হবে। যিয়াদ ইবনে আবিহি আমীর মুআবিয়া রাযি.-এর পক্ষ থেকে তখন হেজাজের গভর্নর ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে ফতোয়া চেয়ে হযরত আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে দূত পাঠালেন। তিনি জবাব দিলেন, ইবনে আব্বাস রাযি.-এর ফতোয়া ঠিক নয়। কেননা, আমি নিজ হাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোরবানিকে কিলাদাহ পড়িয়েছি, আমার পিতা স্বয়ং সেগুলো মক্কায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখনো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালাল কোনো কিছু থেকেই বিরত থাকেননি।'
বাইহাকী শরীফে আছে, ইমাম যুহরী রহ. বলেছেন, এই মাসআলায় সর্বপ্রথম উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-ই সত্যিকার বাস্তবতাটি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। মানুষ যখন এই ফতোয়াটি জানতে পারেন, তখন থেকে এর ওপরই আমল শুরু করেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি.-এর ফতোয়াটির আমল সেদিন থেকেই বাতিল হয়ে যায়।'
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. ফতোয়া দিতেন, রমযানে যদি সকাল হয়ে যায় এমতাবস্থায় যে কারও ওপর গোসল ফরজ হয়েছে, তা হলে তার সেদিনের রোযাটি হবে না। এক ব্যক্তি প্রথমে হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে এবং পরে হযরত উম্মে সালামা রাযি.-এর কাছে গিয়ে ফতোয়া চাইল। তাঁরা উভয়েই বললেন, কথাটি ঠিক নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল এমন ছিল না। ওই সময় মদীনার প্রশাসক ছিলেন মারওয়ান। তিনি লোকটিকে পুনরায় হযরত আবু হুরায়রা রাযি.- এর কাছে পাঠালেন। লোকটি গিয়ে উম্মুল মুমিনীনের ফতোয়াটি শোনালে তিনি আপন ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেন。
ইহরাম অবস্থায় মোজা পরা ঠিক নয়। কিন্তু যদি কারও শুধু মোজা থাকে, জুতা না থাকে, তা হলে সে মোজার উপরের অংশ কেটে ফেলবে এবং সেটা দিয়েই জুতা বানাবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. ফতোয়া দিতেন, নারীরাও মোজা কেটে জুতা বানাবে। একবার জনৈকা তাবেঈয়া তাঁকে বললেন, হযরত আয়েশা রাযি.-এর ফতোয়া তো এমন নয়। হযরত আয়েশা রাযি.-এর ফতোয়া শুনে ইবনে উমর রাযি. আপন ফতোয়া প্রত্যাহার করলেন।'
কোনো এক মজলিসে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. দুজনই উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ একটি মাসআলা উঠল: যদি কোনো মহিলা বিধবাও হয়, আবার গর্ভবতীও হয় তা হলে তার ইদ্দতকাল কোনটি হবে? কুরআন মাজীদে বিধবা ও গর্ভবতী দুজনের আলাদা আলাদা ইদ্দতকাল বর্ণিত হয়েছে। বিধবার ইদ্দতকাল হলো চার মাস দশ দিন, আর গর্ভবতীর ইদ্দতকাল হলো গর্ভপাত পর্যন্ত। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটির সময়কাল বেশি হবে, সেটিই পালন করবে। পক্ষান্তরে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, গর্ভপাত পর্যন্তই তার ইদ্দতকাল ধরা হবে। তাদের মধ্যে মতৈক্য না পাওয়ায় লোকেরা হযরত আয়েশা রাযি. এবং হযরত উম্মে সালামা রাযি.-এর কাছে গেল। তারা বললেন, গর্ভপাত পর্যন্তই তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে। তাঁরা হযরত সুবাইতার ঘটনাটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করলেন। হযরত সুবাইতা যেদিন বিধবা হয়েছিলেন, তার তিন দিন পরই সন্তান প্রসব করেন; আর সেদিনই নতুন বিবাহের অনুমতিপ্রাপ্ত হন। উম্মুল মুমিনীনের ফতোয়াটি এত অকাট্য ছিল যে, আজ পর্যন্ত এর ওপরই আমল হয়ে আসছে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এবং আবু হুরায়রা রাযি.-এর মধ্যে একটি মাসআলায় মতভেদ হলো। জানাযার পেছনে চলায় কোনো সওয়াব আছে কি নেই? প্রথমজন ফতোয়া দিলেন, সওয়াব আছে। দ্বিতীয়জন ফতোয়া দিলেন, সওয়াব নেই। মীমাংসা চাওয়া হলো হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে। তিনি হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-এর সমর্থন করলেন。

টিকাঃ
১. মুয়াত্তা, ইমাম মালেক : باب الغسل
২. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ২৪২।
৩. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৪৮। সুনানে নাসাঈ : বাবুস সাজদাহ।
১. সহীহ মুসলিম ও বুখারী: কিতাবুল হজ।
২. আইনুল ইসাবা, সুয়ূতি রহ. (সুনানে বাইহাকীর উদ্ধৃতি)।
৩. সহীহ মুসলিম: কিতাবুস সিয়াম।
১. আইনুল ইসাবা, সুয়ূতি (শাফেঈ, বাইহাকী, আবু দাউদ ও ইবনে খুযাইমার উদ্ধৃতিতে)।
২. তয়ালিসি ও মুসনাদে আয়েশা রাযি. ও উম্মে সালামা রাযি.।
৩. সহীহ বুখারী: কিতাবুল জানাইয。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00