📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 তালিম

📄 তালিম


ইলমের খেদমত বলতে যা বোঝায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইলমের আলো অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে আত্মসংশোধন ও জাতিগঠনে নিয়োজিত থাকা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, فَلْيُبَلِّغُ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ-উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। প্রশ্ন হলো, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. কি এই দায়িত্বটি পালন করেছিলেন? আমরা এই প্রশ্নটির উত্তর 'তালীম, ইফতা ও ইরশাদ' শীর্ষক তিনটি অধ্যায়ে আলোচনা করার প্রয়াস পাব।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরসগাহ

📄 হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরসগাহ


ইলমের প্রচার-প্রসার ও জ্ঞান-বিতরণ-যারা মনে করেন শুধু পুরুষরাই পারে, তারা দেখে যান, নববী-নীড়ের এই প্রদীপ্ত শিখাটি জ্ঞানের আলো ছড়াতে কেমন অনির্বাণ।
সাহাবা কেরাম রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিরোধানের পর ইলমের প্রচার ও ইসলামের প্রসারের নিমিত্তে সারা ইসলামী জাহানে ছড়িয়ে পড়েন। মক্কা, তায়েফ, বাহরাইন, ইয়ামান, দামেশক, মিশর, কুফাসহ বড় বড় কেন্দ্রীয় শহরগুলোতে সাহাবা-কাফেলার মহিমান্বিত শিক্ষকবৃন্দের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জামাত আবাস গাড়েন। দীর্ঘ সাতাশ বছর পর মুসলিম খেলাফতের প্রশাসনিক রাজধানী প্রথমে কুফায় এবং পরে দামেশকে স্থানান্তরিত হয়।
এত সব বৈপ্লবিক পরিবর্তন সত্ত্বেও মদীনা মুনাওওয়ারার রুহানী আজমত, আত্মিক মাহাত্ম্য এতটুকু ক্ষুণ্ণ হয়নি। বরং তখনো ইসলামী জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র হিসেবে আপন মহিমাকে ধরে রেখেছিল। হযরত ইবনে উমর রাযি., হযরত আবু হুরায়রা রাযি., হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এবং হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাযি. কায়মনোবাক্যে ইলমে নববীর আলো বিতরণ করে চলেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন এক একটি জীবন্ত মাদরাসা। মদীনার বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের নুরানী দরস-মজলিসগুলো এক একটি আলোর আকর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিল। কিন্তু শ্রেষ্ঠ দরসগাহ হিসেবে পরিগণিত ছিল মসজিদে নববীসংলগ্ন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আয়েশা রাযি.- এর বাসগৃহের পাশে অবস্থিত ছাউনিটি।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 দরস-দানের পদ্ধতি

📄 দরস-দানের পদ্ধতি


শিশু, নারী এবং যেসব পুরুষের সঙ্গে হযরত আয়েশা রাযি.-এর পর্দা ছিল না, তারা ঘরের ভেতরে বসতেন। অন্যরা কামরার সামনে মসজিদে নববীতে বসতেন। দরজায় পর্দা ঝোলানো থাকত। পর্দার আড়ালে তিনি বসতেন।' শিষ্যরা জিজ্ঞেস করত, তিনি উত্তর দিতেন। কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের আলোচনা উঠত, গুরু-শিষ্যের মধ্যে কথোপকথন চলত।' কখনো নিজেই কোনো মাসআলার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন, লোকেরা নীরবে শুনতে থাকত।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭২। ইবনে সাদ: ২/২/২৯।
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৭৫।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 নিভৃত ভাষায় কথা বলার ব্যাপারে কঠোরতা

📄 নিভৃত ভাষায় কথা বলার ব্যাপারে কঠোরতা


শিষ্যদের ভাষা, বাচনভঙ্গি ও বিশুদ্ধ উচ্চারণেরও কঠোর তত্ত্বাবধান করতেন। একবার তাঁর দুই ভাতিজা কাসেম ও ইবনে আবি আতিক তাঁর খেদমতে এলেন। তাঁরা দুজন বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন। কাসেমের ভাষা পরিচ্ছন্ন ছিল না। ব্যাকরণগত ত্রুটি ছিল। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, তুমি এভাবে বল না কেন, যেভাবে ইবনে আবি আতিক বলছে? বুঝেছি, তাকে তার মা এবং তোমাকে তোমার মা শিখিয়েছেন। কাসেমের মা একজন দাসী ছিলেন। তাই তার ভাষাজ্ঞান তেমন ছিল না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00