📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 ইতিহাস

📄 ইতিহাস


আরবদের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কথা, জাহেলি যুগের রীতি-প্রথা, আন্তঃগোত্রীয় বংশসূত্র-ইত্যাদি জ্ঞানে হযরত আবু বকর রাযি. একজন বড় পণ্ডিত ছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর সুযোগ্য কন্যা ছিলেন। তাই এই জ্ঞানগুলো তাঁর উত্তরাধিকারের মতোই ছিল।' উরওয়াহ বলতেন, আমি আরবদের ইতিহাস ও বংশবিদ্যায় হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।২
জাহেলি আরবের রীতি-প্রথা ও সামাজিক জীবন-বৈচিত্র বিষয়ে হাদীসগ্রন্থগুলোতে অনেক অমূল্য তথ্য উঠে এসেছে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ভাষ্যে। আরবে কত ধরনের বিবাহের প্রচলন ছিল, বিবাহ-বিচ্ছেদের কী কী পদ্ধতি ছিল, বিবাহে কোন গীতগুলো গাওয়া হতো; রোযা কেমন ও কখন ছিল, হজ কিভাবে পালিত হতো, কেউ মারা গেলে কি করতে ও বলতে হতো'-ইত্যাকার প্রাচীন আরবের অনেক ধারণাই পাই তাঁর বিবৃতিতে।
হাদীসের সভায় বুআস যুদ্ধের আলোচনা আমরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর জবানিতে পাই। আনসারীদের পূর্ব ধর্ম-জীবন এবং জীবন-ধর্ম জানি তাঁর ভাষ্যে। মুশালালের অবস্থান নিয়ে তাদের যে জিজ্ঞাসা ছিল, সেটাও আমাদের শুনিয়েছেন তিনি।১০ ইসলামের আবির্ভাবের ঘটনাগুলোর নবুওয়াতপ্রাপ্তি, ওহী অবতরণের সূচনা,” হিজরতের প্রেক্ষাপট-বিস্তারিত ইতিহাস রচিত হয়েছে তাঁরই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে। ইফকের ঘটনার আগাগোড়া ইতিহাস শুনিয়েছেন তিনি নিজে।১৩
আশ্চর্যের বিষয়, বিশুদ্ধ গ্রন্থগুলোতে এক একটি হাদীস যেখানে দুই লাইন-তিন লাইন, সেখানে তাঁর এক একটি বিবৃতি দুই পৃষ্ঠা-তিন পৃষ্ঠা লাগাতার। কুরআন কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হলো, নামাযের কী কী পদ্ধতি ইসলামে প্রদত্ত হলো তিনিই বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুরোগের আদ্যোপান্ত সারা পৃথিবী জেনেছে তাঁর কাছেই।
শুধু ঘরোয়া বিষয়গুলোই নয়; অসংখ্য যুদ্ধের ঘটনাও তিনিই আমাদের শুনিয়েছেন। বদর যুদ্ধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উহুদ যুদ্ধের পরিস্থিতি, পরিখার যুদ্ধের বেশ কিছু বিবরণ, বনু কুরায়যা অভিযানের কিছু অনুষঙ্গ, যাতুর রিকা যুদ্ধে 'ভীতির নামায'-এর পদ্ধতি, মক্কা বিজয়ের পর নারীদের বাইয়াত প্রসঙ্গ'-ইত্যাদি বিষয়গুলো তাঁর কল্যাণেই মুসলিম ঐতিহাসিকগণ হাতে পেয়েছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন-চরিত সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যগুলো দিয়েছেন তিনিই। ওহী, নবুওয়াত, হিজরত ইত্যাদি ছাড়াও তাঁর ইবাদত-বন্দেগী, পারিবারিক জীবন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির একটি সুস্পষ্ট চিত্র তিনিই আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোর বিবরণও দিয়েছেন তিনিই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর রাযি.-এর খেলাফত, হযরত ফাতেমা রাযি.-সহ উম্মাহাতুল মুমিনীনের দাবি, হযরত আলী রাযি.-এর খেলাফত, বাইয়াত ইত্যাদি বিষয়গুলোর সুবিশদ বর্ণনা বিশুদ্ধ সূত্রে তিনিই আমাদের দান করেছেন।'

টিকাঃ
৩. ইসাবা ও ইসতিআব-এ হযরত আবু বকর রাযি. এবং হযরত হাসান রাযি.-এর জীবনী দেখুন। আরও দেখুন মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৭।
১. মুসনাদে আহমাদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড।
২. তাযকিরাতুল হুফফাজ: তরজমাতু আয়েশা রাযি.।
৩. সহীহ বুখারী: কিতাবুন নিকাহ।
৪. তিরমিযী: কিতাবুত তালাক।
৫. মুজামে সগীর, তাবরানি : باب الحاء
৬. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৪৪।
৭. সহীহ বুখারী: তাফসীর: ا ثم أفيضوا من .....।
৮. সহীহ বুখারী: বাবু আইয়ামিল জাহিলিয়্যাহ।
৯. সহীহ বুখারী: বাবু আইয়ামিল জাহিলিয়্যাহ।
১০. সহীহ বুখারী: কিতাবুল হজ।
১১. সহীহ বুখারী : ا بدء الوحي
১২. সহীহ বুখারী : ا باب الهجرة
১৩. সহীহ বুখারী: হাদীসুল ইফক।
১. সহীহ বুখারী: বাবু তালিফিল কুরআন।
২. সহীহ বুখারী: বাবু ওয়াফাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
৩. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫০, ২৭২।
৪. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড।
৫. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৪১।
৬. সহীহ বুখারী: যিকরু কুরাইযাহ।
৭. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭৫।
৮. সহীহ বুখারী: কিতাবুল হজ।
৯. সহীহ বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও অন্যান্য: কিতাবু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
১০. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮২। সহীহ বুখারী : باب كيف يكون الرجل في أهله
১১. সহীহ বুখারী, আবু দাউদ ও অন্যান্য: কিতাবুল আদব।
১২. باب أشد ما لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم
১. সহীহ বুখারী: ওয়াফাতুন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিতাবুল ফারায়েয, গাযওয়াতু খাইরাব। মুসলিম : باب قوله صلى الله عليه وسلم : ما تركنا صدقة। মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৬৭। মুসতাদরাকে হাকেম।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সাহিত্য

📄 সাহিত্য


সাহিত্য বলতে আমরা সাধারণ কথোপকথনের সৌন্দর্য ও বাক্যালাপের রুচিশীলতাকে বোঝাচ্ছি। অসংখ্য বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত আয়েশা রাযি. কথাসৌন্দর্যে খুবই পারঙ্গম ছিলেন। তাঁর মিষ্টভাষিতা ও শুদ্ধভাষিতা ছিল অবাক করার মতো। তাঁর একজন শিষ্য হযরত মুসা ইবনে তালহা বলেন,
مَا رَأَيْتُ أَفْصَحُ مِنْ عَائِشَةَ
অর্থ: আমার দেখা হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে বিশুদ্ধভাষী আর কেউ ছিল না।'
আহনাফ ইবনে কায়স লিখেন,

টিকাঃ
২. মুসতাদরাকে হাকেম। তিরমিযী: কিতাবুল মানাকিব।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বক্তৃতা

📄 বক্তৃতা


তালহা থেকেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে বিশুদ্ধভাষী কাউকে দেখিনি।'
একজন ভালো বক্তার জন্য সুন্দর বাচনভঙ্গি ও বিশুদ্ধ ভাষাপ্রয়োগ- সহ সুউচ্চ কণ্ঠস্বর, ওজস্বী শব্দচয়ন ও তেজস্বী উচ্চারণেরও প্রয়োজন আছে। হযরত আয়েশা রাযি.-এর বক্তৃতায় সবগুলো গুণই বিদ্যমান। তারীখে তাবারীতে আছে:
فَتَكَلَّمَتْ عَائِشَةُ وَ كَانَتْ جَهْوَرِيَّةً يَعْلُوْ صَوْتُهَا كَثِيرَةً كَأَنَّهُ صَوْتُ امْرَأَةٍ جَلِيلَةٍ
অর্থ: তারপর হযরত আয়েশা রাযি. বক্তৃতা শুরু করলেন, তাঁর সুউচ্চ কণ্ঠস্বর সমবেত জনসমুদ্রের তরঙ্গবিক্ষুব্ধ শব্দঢেউকে ছাপিয়ে উঠল; সত্যিই এ ছিল এক ওজস্বিনী নারীর তেজোদীপ্ত ভাষণ।
জঙ্গে জামালের আলোচনায় আমরা তাঁর অল্প কয়েকটি বক্তৃতা উল্লেখ করেছি। যদিও অনুবাদে সেই প্রকৃত মহিমাটি প্রকাশ পায় না; কিন্তু ভাব ও ভাষার তেজ ও শক্তি কিছুটা অনুভব করা যায়。

টিকাঃ
১. যুরকানী: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৭ (তাবরানির উদ্ধৃতিতে)।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কাব্যজ্ঞান

📄 কাব্যজ্ঞান


ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবে জ্ঞানের উপাদান যা ছিল, তা এই কাব্যজ্ঞান। একজন আরব কাব্যপ্রতিভার চমক দেখাতে শুরু করলে হয়তো যুদ্ধের অনল বর্ষণ শুরু হতো; নয়ত শান্তির ঝর্ণাধারা বয়ে যেত। আরবদের এ অফুরন্ত যাদুশক্তি ছিল নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। ইসলামের পূর্বে এবং ইসলামের পরও প্রায় একশো বছর-যখন আরবত্বের চমক ছিল-হাজার হাজার নারী কাব্য ও কাব্যিকতায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তাদের কামাল আজও আরবী-সাহিত্যকে করে রেখেছে মালামাল; এক অভাবনীয় অনির্বচনীয় সৌন্দর্যে ভাস্বর।
হযরত আয়েশা রাযি. ওই সময়েরই এক ক্ষণজন্মা নারীমূর্তি। তাঁর জন্মদাতা পিতা কাব্যালঙ্কারের জওহরি ছিলেন।' তাই এ জগতে তাঁর প্রবেশ ঘটেছে বাল্যকালেই। তাঁর শিষ্যদের ভাষ্য : আমরা তাঁর কাব্যজ্ঞানে আশ্চর্যান্বিত নই; কারণ তিনি হযরত আবু বকর রাযি.-এর কন্যা। ইমাম বুখারী রহ. আল আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে উরওয়াহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, হযরত আয়েশা রাযি. কা'ব ইবনে আশরাফের পুরো কাসিদা মুখস্থ রেখেছিলেন। এক-একটি কাসিদায় কম-বেশি চল্লিশটি পঙ্ক্তি থাকে। জনৈক ব্যক্তি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কবিতা আবৃত্তি করতেন? তিনি বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহার কিছু কবিতা আবৃত্তি করতেন।
যেমন : وَيَأْتِيْكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَّمْ تُزَوِّدِ
অর্থ: যাকে পথের পাথেয় দিয়ে পাঠাওনি, সেই সংবাদ সংগ্রহ করে এনে দেবে।
আবু কাবীর হাযলী একজন জাহেলি কবি ছিলেন। তিনি তার সৎ পুত্রের প্রশংসায় বলেন,
وَ مُبَرَّاً مِّنْ كُلِّ غُيَّرِ حَيْضَةٍ * وَ فَسَادٍ مُرْضِعَةٍ وَ دَاءِ مُغِيْلٍ
অর্থ : সে মাতৃগর্ভের ময়লাগুলো থেকে, দুগ্ধদানকারিণীর ব্যাধিগুলো থেকে পবিত্র।
وَ إِذَا نَظَرْتَ إِلَى أَسِرَّةٍ وَجْهِهِ * بَرَقَتْ كَبَرْقِ الْعَارِضِ الْمُتَهَلِّلِ
অর্থ : মুখাবয়বের রেখাগুলো দ্যাখো, ঘন বর্ষার বৃষ্টিতে মনে হবে বিদ্যুতের চমক।
হযরত আয়েশা রাযি. এই কবিতাপঙ্ক্তি দুটো হুযুর আনওয়ার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আবৃত্তি করলেন, এরপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, এই কথাগুলো আপনাকেই বেশি মানায়। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রীত হয়েছিলেন।'
হাদীসগ্রন্থগুলো হযরত আয়েশা রাযি.-এর জবানিতে অনেক কবিতার উল্লেখ করেছে। ভ্রাতা হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রাযি. জন্মভূমির বাইরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাঁর মৃতদেহ মক্কায় এনে সমাহিত করা হয়। যখন লাশ মক্কায় আনার সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তখন কবরের পাশে গিয়ে জাহেলি আরব কবির কবিতাটি আবৃত্তি করেন':
وَكُنَّا كَنَدْمَانِي جُذَيْمَةَ حِقْبَةٌ * مِنَ الدَّهْرِ حَتَّى قِيلَ لَنْ يَتَصَدَّعَا
অর্থ: আমরা অনেকটা কাল ছিলাম বাদশাহ জুযায়মার দুই তোষামোদের মতো। লোকে বলত, আমরা কখনো আলাদা হব না।
فَلَمَّا تَفَرَّقْنَا كَأَنِّي وَ مَالِكًا * لِطُوْلِ اجْتِمَاعِ لَمْ نَبِتْ لَيْلَةً مَّعًا
অর্থ: কিন্তু আমরা আলাদা হলাম, চিরদিনের অটুট বন্ধন সত্ত্বেও আজ মনে হয় আমরা দুজন একটি রাতও একসঙ্গে থাকিনি।
মুহাজিরগণ মদীনায় এসে প্রথমে নতুন আবহাওয়া মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। হযরত আবু বকর রাযি., হযরত আমের ইবনে ফুহায়ের রাযি. এবং হযরত বেলাল রাযি. মদীনায় এসে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একাকিত্ব আর রোগের তীব্রতায় দেশের কথা মনে পড়ে হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠছিল। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, তাঁরা দুজন মাতৃভূমির কথা স্মরণ করে কাঁদতেন আর কবিতা আবৃত্তি করতেন। হযরত আবু বকর রাযি.-এর জ্বর বেশি হয়ে গেলে তিনি এই কবিতা বলছিলেন,
كُلُّ امْرِإٍ مُّصَبَّحْ فِي أَهْلِهِ * وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ
অর্থ: মানুষ মরে নিজ ঘরে, নিজ পরিবারে; আর মরণ থাকে জুতার ফিতার চেয়ে কাছে।'
হযরত বেলাল রাযি. যখন একটু স্বস্তি পাচ্ছিলেন, তখন এই কবিতাটি বলছিলেন,
أَلَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيْتَنَّ لَيْلَةٌ * بِوَادٍ وَ حَوْلِي إِذْخِرُّ وَ جَلِيلُ
অর্থ: হায়, যদি জানতাম, আবার একদিন নিঝুম রাতে প্রিয় মক্কার সবুজ উপত্যকায় শুয়ে থাকব; আবার আমার চারপাশে ইযখির ও জালিল ঘাসগুলো শীতলতা দেবে।
وَ هَلْ أَرِدَنَّ يَوْمًا مِيَاهَ مُحَنَّةٍ * وَ هَلْ يَبْدُوْنَ لِي شَامَةٌ وَ طَفِيلُ
অর্থ: আবার একদিন মুজান্নার ঝরনাগুলোয় অবগাহন করব, আবার একদিন শামা-তাফিল পাহাড়গুলো দেখে চোখ জুড়াব।
হযরত আমের ইবনে ফুহায়ের রাযি.-কে শরীরের অবস্থা জিজ্ঞেস করলে তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:২
إِنِّي وَجَدْتُ الْمَوْتَ قَبْلَ ذَوْقِهِ * إِنَّ الْحَبَانَ حَتْفُهُ مِنْ فَوْقِهِ
অর্থ: আমার এই স্বাদগুলো হয়তো মিটবে না, মৃত্যুর স্বাদ সব আস্বাদ কেড়ে নেবে আগেই। ভীরু কাপুরুষের ঘৃণ্য মৃত্যু দেখি ধেয়ে আসে।
বদর যুদ্ধে বড় বড় কুরাইশ নেতার মৃত্যু ঘটেছিল। কুরাইশ কবিরা তাদের শোকে মর্সিয়া লিখেছিল। এর মধ্যে কয়েকটি পঙক্তি হযরত আয়েশা রাযি.-এর জবানিতে সংরক্ষিত হয়েছে:
وَ مَاذَا بِالْقَلِيبِ بَدْرٍ * مِنَ الْقَيْنَاتِ وَالشَّرْبِ الْكِرَامِ
অর্থ: বদরের জলাশয়ে দ্যাখো, নৃত্যবাজেরা কী নিথর হয়ে আছে। দ্যাখো, সম্মানের মূর্তিগুলো কেমন নীরব।
تُحَمِّيْنَا السَّلَامَةَ أُمَّ بَكْرٍ * فَهَلْ لِيْ بَعْدَ قَوْمٍ مِّنْ سَلَامٍ
অর্থ: হে উম্মে বকর, আমাদের সালাম গ্রহণ করো; আমাদের নেতাদের বিনাশের পর কী আর সালামতি থাকে!
يُحَدِّثُنَا الرَّسُوْلُ بِأَنْ سَنَحْيَا * وَكَيْفَ حَيَاةُ أَصْدَاءٍ وَ حَامِ
অর্থ: দূত আমাদের বলে, অচিরেই জীবিত হব, কিন্তু নিছক কলতানে জীবনের কী মূল্য আছে!'
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমার কাছে এক কালো মহিলা আসত। সে প্রায়ই এই কবিতাটি বলত:
وَ يَوْمُ الْوِحَاشِ مِنْ تَعَاجِيْبِ رَبِّنَا * أَلَا إِنَّهُ مِنْ بَلْدَةِ الْكُفْرِ أَنْحَانِي
অর্থ: আমাদের পরাজয়ের দিনটি ছিল আমাদের প্রভুর অদ্ভুত লীলা, কিন্তু তা আমাদের কুফরের ভূমি থেকে মুক্তি দিয়েছে।'
হযরত সাদ ইবনে মুআয রাযি. পরিখার যুদ্ধে কবিতা আবৃত্তি করতেন। হযরত আয়েশা রাযি. সেগুলো মনে রেখেছিলেন:
لَيْتَ قَلِيلًا يُدْرِكُ الْهِيْحَا جَمَلْ * مَا أَحْسَنَ الْمَوْتِ إِذَا حَانَ الْأَجَلْ
অর্থ: যদি শীঘ্রই আমার উটটি রণাঙ্গণে পৌঁছয়, তা হলে কত ভালো হবে। আহ, মৃত্যু কত না সুন্দর, যদি মৃত্যু আসে。
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন, আনসারি মেয়েরা বিবাহে এই জাতীয় বিভিন্ন গীত গাইত :
وَ أَهْدَى لَهَا أَكْبُشاً تَبْحَجُ فِي الْمِرْبَدِ وَ زَوَّجَكِ فِي النَّادِي وَ يَعْلَمُ مَا فِي غَدِ
কুরাইশ মুশরিকরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে নিন্দা-কবিতা রচনা করতে লাগল, তখন মুসলিম কবিগণ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতেন। কিন্তু কীভাবে, কী ভাষায় জবাব দিতেন, সেটি আমরা জানতে পেরেছি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কল্যাণে।
উম্মুল মুমিনীন বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও কুরাইশের নিন্দা-কবিতা লেখো, তোমাদের এই হামলা তিরের ফলার চেয়েও তাদের বেশি বিদ্ধ করবে। হযরত ইবনে রাওয়াহা একজন কবি ছিলেন। প্রথমে তাকেই ডাকা হলো। তিনি স্বরচিত কয়েকটি পঙ্ক্তি শোনালেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব একটা পছন্দ করলেন না। এরপর কাব ইবনে মালিককে নির্দেশ দেওয়া হলো। এভাবে সর্বশেষ হযরত হাসান রাযি.-এর পালা এল। তিনি খেদমতে হাজির হলেন এবং আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, কসম আল্লাহর- যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন, আমি ওদেরকে এমনভাবে ছিলব, যেভাবে লোকে চামড়া ছিলে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাড়াহুড়া কোরো না। আবু বকর রাযি. কুরাইশের বংশবিদ্যায় সবচেয়ে পারদর্শী। ওদের সঙ্গে আমারও সম্পর্ক আছে। আমার সম্পর্কটা আগে ভালো করে বুঝে নাও, তারপর...। তখন হযরত হাসান রাযি. হযরত আবু বকর রাযি.-এর কাছে গেলেন এবং সম্পর্কের খুঁটিনাটি বুঝে এলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি ভালো করে বুঝে নিয়েছি। কসম ওই সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন, আমি আপনাকে ওদের মধ্য থেকে এমনভাবে বের করে আনব, যেভাবে লোকে আটার খামির থেকে চুল বের করে আনে। এরপর হযরত হাসান ইবনে সাবেত রাযি. ওই কাব্যটি রচনা করেছিলেন, যার প্রথম কবিতাটি ছিল:
وَ إِنَّ سَنَامَ الْمَجْدِ مِنْ آلِ هَاشِمٍ * بَنُو بِنْتِ مَخْزُوْمٍ وَ وَالدُكَ الْعَبْدُ ....
হাশেমিদের বংশগৌরবের মূল—মাখযুমের দৌহিত্ররা; আর তোর বাবা তো ছিল এক গোলাম।...
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, হে হাসান, তুমি যতক্ষণ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রতিউত্তরে লড়ে যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত রুহুল কুদুস তোমাকে সমর্থন যোগাতে থাকবেন। তিনি আরও বর্ণনা করেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, হাসান ওদের প্রতিউত্তর রচনা করে আমাকে নিশ্চিত করেছে। এরপর উম্মুল মুমিনীন রাযি. একটি কবিতা শোনালেন,
هَجَوْتَ مُحَمَّدًا فَأَجَبْتُ عَنْهُ * وَ عِنْدَ اللَّهِ فِيْكَ الْجَزَاءُ
অর্থ: তুমি মুহাম্মাদের নিন্দা করেছ; দ্যাখো, এসেছি তার জবাব দিতে, আল্লাহর কাছে পাওনা আমার বরাদ্দ হলো।
هَجَوْتَ مُحَمَّدًا بَرًّا حَنِيفًا * رَسُولَ اللَّهِ شِيْمَتُهُ الْوَفَاءُ
অর্থ: তুমি মুহাম্মাদের নিন্দা করেছ, অথচ কি সৎ আর সুন্দর তিনি, তিনি আল্লাহর দূত; তাঁর স্বভাব হলো সদাচার।
فَإِنَّ أَبِي وَ وَالِدَهُ وَ عِرْضِيْ * لِعِرْضِ مُحَمَّدٍ مِّنْكُمْ وَقَاءُ
অর্থ: আমার পিতা-পিতামহ, আমার সম্মান-সম্ভ্রম তোমাদের মতো নীচ লোকদের থেকে মুহাম্মাদের সম্মান রক্ষায় উৎসর্গিত।
تَكِلْتُ بُنَيَّتِي إِنْ لَمْ تَرَوْهَا * تُثِيرُ النَّفْعَ مِنْ كَنَفَيْ كَدَاءِ
অর্থ: আমি আমার সন্তানদের ভুলে যাব, যদি তাদেরকে না দ্যাখো—ভয়ঙ্কর যোদ্ধাবেশে কাদার দুই ধারের ধুলি উড়িয়ে ধেয়ে আসতে,
يُبَارِيْنَ الْأَعِنَّةَ مُصْعِدَاتٍ * عَلَى أَكْتَافِهَا الْأَسَلُ الظُّمَاءُ
অর্থ: সোনার নকিল পরানো, উৎকৃষ্ট ভূমি-চড়ানো তোমাদের উটনীদের বক্ষদেশে পিয়াসার বর্শা হানতে।
تَظَلُّ حِيَادُ نَا مُتَمَطَّرَاتٍ * تُلَطِّمُنَّ بِالْخُمُرِ النِّسَاءُ
অর্থ: আমাদের ঘোড়াগুলো বিদ্যুতের মতো দ্রুতগামী; আমাদের নারীরা ওড়না দিয়ে তাদের মুখ মুছে দেয়।
فَإِنْ أَعْرَضْتُمُوا عَنَّا اعْتَمَرْنَا * وَكَانَ الْفَتْحُ وَ انْكَشَفَ الْغِطَاءُ
অর্থ: হে কুরাইশ, যদি বিরত থাক, তা হলে শুধু উমরা করে ফিরে আসব; একদিন বিজয় হবে, তোমাদের চোখের পর্দা উঠে যাবে।
وَ إِلَّا فَاصْبِرُوا لِضِرَابِ يَوْمٍ * يُعِزُّ اللَّهُ فِيْهِ مَنْ يَشَاءُ
অর্থ: নয়তো ধৈর্য ধরো এমন দিনের আক্রমণের, যেদিন আল্লাহ যাকে চান, সম্মানিত করবেন।
وَ قَالَ اللَّهُ قَدْ يَسَّرْتُ جُنْدًا * هُمُ الْأَنْصَارُ عُرْضَتُهَا اللَّقَاءُ
অর্থ: আল্লাহ বলে দিয়েছেন, আমি সাহায্যকারী বাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছি, যাদের দেখা পাবে সম্মুখ সমরে।
لَنَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مِّنْ مَّعْدٍ * سِبَابٌ أَوْ قِتَالٌ أَوْ هِجَاءٌ
অর্থ: প্রতিদিন মাআদের কবিলার সঙ্গে আমাদের বিবাদ থাকে, লড়াই থাকে, নিন্দা-প্রতিনিন্দা থাকে।
فَمَنْ يَهْجُوْ رَسُولَ اللَّهِ مِنْكُمْ * وَيَمْدَحُهُ وَيَنْصُرُهُ سَوَاءُ
অর্থ: তোমরা আল্লাহর রাসূলের নিন্দা কর, বন্দনা কর, সাহায্য কর—সবই সমান।
وَ جِبْرِيلُ رَسُوْلُ اللَّهِ فِيْنَا * وَ رُوحُ الْقُدْسِ لَيْسَ لَهُ كِفَاءُ
অর্থ: জিবরীল আমাদের বার্তাবাহক, তোমাদের মধ্যে তাঁর নেই কোনো প্রমাণ।'
হযরত উসমান রাযি.-এর শাহাদতের পর যখন মদীনার অশান্তির কথা জানতে পারলেন, তখন তাঁর মুখে উচ্চারিত হলো এই আক্ষেপের বাণী:'
وَ لَوْ أَنَّ قَوْمِي طَاوَعَتْنِي سُرَاتُهُمْ لَأَنْقَذْتُهُمْ مِّنَ الْخَبَالِ أَوِ الْحَبْلِ
অর্থ: যদি আমার গোত্রের মাথাগুলো আমার কথাগুলো মানত, তবে আজ এ বিনাশ দেখতে হতো না।
সবুজ-শ্যামল জনবসতির পথ মাড়িয়ে যখন বসরায় পৌঁছলেন, তখন তাঁর কাব্যে এ সাবধান বাণী:²
دَعِيْ بِلَادَ جُمُوْعِ الظُّلْمِ إِذْ صَلُحَتْ * فِيهَا الْمِيَاهُ وَ سِيْرِي سَيْرَ مَذْعُوْرِ
অর্থ: অত্যাচারীদের ভূমি ছেড়ে, যেখানে সরোবরের স্বচ্ছ পানি, চলো, দুরুদুরু বুকে।
تَخَيَّرِي النَّبْتَ فَارْعِيْ ثُمَّ ظَاهِرَةً وَبَطْنُ وَادٍ مِّنَ الضَّمَادِ تَمْطُوْرُ
অর্থ: বেছে নাও সবুজ ঘাসগুলো, ওখানে সূর্যকিরণ, দমাদের শ্যামল প্রান্তরে।
জঙ্গে জামালে যোদ্ধারা যে রণসঙ্গীতে উজ্জীবিত হয়ে প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছিল, তা তাঁর স্মৃতি থেকে মুছত না। একবার সেগুলো আবৃত্তি করে করে অঝোরে অশ্রুপাত করেছিলেন অনেকক্ষণ। সেগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য পঙ্ক্তি হলো:
يَا أُمَّنَا يَا خَيْرَ أُمِّ نَعْلَمْ أَمَا تَرَيْنَ كَمْ شُجَاعٍ يُكْلَمْ تَخْتَلِي هَامَتُهُ وَ الْمُعْصَمْ
হে আমাদের মাতা, হে আমাদের শ্রেষ্ঠ মাতা, আমরা জানি, আপনি কি দেখছেন না, আপনার বীর সন্তানেরা লড়ে যাচ্ছে—ক্ষতবিক্ষত দেহে!
আপনার তরে, ঘাস আর পাতার মতো, আপন হাত আর মাথা কাটতে দেওয়া, আপনার বীর সন্তানদের জন্য যে কিছুই নহে।
হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাব্যরুচিতে প্রীত হয়ে আরব-কবিরা স্বরচিত কাব্যগুলো তাঁকে শোনাতেন।' হযরত হাসান ইবনে সাবেত রাযি. আনসারিদের মধ্যে সর্বজনস্বীকৃত কবিগুরু ছিলেন। ইফকের ঘটনায় জড়িত থাকায় তাঁর প্রতি উম্মুল মুমিনীনের অসন্তুষ্টি থাকার কথা ছিল; তারপরও তিনি সম্মানিতা মাতার খেদমতে হাজির হতেন এবং নিজের লেখা কাব্যগুলো শোনাতেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর কবিতার প্রশংসা করতেন, কবির মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের কথা বলতেন।' এছাড়াও কবি কাব ইবনে মালিক রাযি. এবং কবি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাযি.-এর নামও তাঁর আলোচনায় উঠে আসত বারবার।'
হাদীসে এসেছে, যদি কারও পেট পুঁজে ভরে যায়, তা হলে তাও ভালো—কবিতায় পেট ভরানোর চেয়ে।' হাদীসটির রাবী হিসেবে হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-এর নাম আছে। যেহেতু হাদীসটি থেকে কাব্যিকতার নিন্দা হয়, সেহেতু কেউ কেউ বলেছেন, হাদীসটি যখন হযরত আয়েশা রাযি. জানলেন, তখন বললেন, আবু হুরায়রা রাযি.-এর বর্ণনাটি সুরক্ষিত থাকেনি। আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যদি কারও পেট পুঁজে ভরে যায়, তা হলে তাও ভালো ওই সব কবিতায় ভরা থেকে যেগুলো আমার নিন্দায় রচিত হয়েছিল।"
কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাদীসটি এসেছে কালবির সূত্রে, যিনি একজন পরিচিত মিথ্যাবাদী। ধুরন্ধর ও অসৎ। যেহেতু তিনি জানতেন যে, হযরত আয়েশা রাযি. সাহাবীগণের হাদীসের ইসতিদরাক বা সংশোধন করতেন, আবার কাব্যিকতা তাঁর শখের বস্তু ছিল; সেহেতু এই নামটিই তার ঘটে ধরে। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কালবির হাদীসটি বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মাওযু।'
প্রকৃতপক্ষে, কাব্যিকতা মৌলিকভাবে না ভালো, না মন্দ। এটি ভাষার একটি বিশেষ নান্দনিক রূপ। ভাষার ভালো-মন্দ যাচাই ভাষার রূপ ও ছন্দ অনুযায়ী হয় না; বরং মর্ম ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী হয়। বিষয়বস্তু যদি খোদাভীতি ও আনুগত্যের পরিপন্থী না হয়, সভ্যতাবর্জিত না হয়, তা হলে কোনো সমস্যা নেই; অন্যথায় তা ভাষার মুখের কালো দাগ ও চরিত্রের কলঙ্ক হয়ে থাকে। এ কথাগুলো শুধু পদ্যে নয়, গদ্যেও প্রযোজ্য। ইমাম বুখারী রহ. কাব্যিকতার ভালো-মন্দ বিচারে হুবহু এই সিদ্ধান্তটিই বিবৃত করেছেন হযরত আয়েশা রাযি.-এর জবানিতে:
الشَّعْرُ مِنْهُ الْحَسَنُ وَ الْقَبِيحُ خُذْ بِالْحَسَنِ وَ دَعِ الْقَبَائِحَ
অর্থ: কবিতা ভালোও আছে, মন্দও আছে; যেগুলো ভালো সেগুলোই গ্রহণ করো, যেগুলো মন্দ সেগুলো বর্জন করো।
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, বড় গুনাহগার ওই সব কবি যারা পুরো গোত্রের নিন্দা করে।' অর্থাৎ শুধু দু-একজন মানুষের দোষের কারণে পুরো বংশ তুলে গালিগালাজ করা একটি চারিত্রিক খুঁত এবং কবিপ্রতিভার অপব্যবহার।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭। মুসতাদরাকে হাকেম : যিকরু আয়েশা রাযি,। ইসাবা ও ইসতিআব : যিকরু হাসান রাযি.।
২. মুসনাদে আহমাদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭। মুসতাদরাকে হাকেম : যিকরু আয়েশা রাযি.।
৩. আদাবুল মুফরাদ : বাবুশ শের।
৪. আদাবুল মুফরাদ : বাবুশ শের।
৫. ঝুলন্ত গীতিসপ্তকে কবিতাটি তরাফার নামে আছে।
১. হাফেয ইবনে কাইয়ুম রহ. মাদারিজুস সালিকীন গ্রন্থ এই ঘটনা ও কবিতাটি উল্লেখ করেছেন।
২. তিরমিযী: কিতাবুল জানাইয, বাবু যিয়ারাতিল কুবুর। হাদীস নং ১০৫৫।
১. সহীহ বুখারী: কিতাবু মানাকিবিল আনসার, বাবু হিজরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৫।
৩. সহীহ বুখারী: কিতাবু মানাকিবিল আনসার, হাদীস নং ৩৯২১।
১. জাহেলি আরবরা বিশ্বাস করত, মানুষ মরে গেলে চড়ুই জাতীয় একপ্রকার পাখির রূপ ধারণ করে উড়ে বেড়ায়, কিচিরমিচির করে।
২. সহীহ বুখারী: মানাকিবুল আনসার, আইয়ামুল জাহিলিয়্যাহ।
৩. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৪১।
৪. মুজামে তাবরানি : বাবুল হা।
১. আলোচ্য ঘটনা ও কবিতাগুলো সহীহ মুসলিম: মানাকিবু হাসান রাযি. অংশে আছে।
১. তাবরানি: ৩০৯৯।
২. তাবরানি: ৩১০৫।
৩. তাবরানি: ৩২০১।
১. সহীহ বুখারী: মানাকিবু হাসান রাযি.।
২. সহীহ বুখারী: মানাকিবু হাসান রাযি.।
৩. সহীহ বুখারী: মানাকিবু হাসান রাযি.।
৪. আদাবুল মুফরাদ: বাবুশ শের।
৫. আইনুল ইসাবা, সুয়ূতি রহ. (আবূ মানসুর বাগদাদির উদ্ধৃতি অনুসারে)।
১. মাওযুআতে শাওকানি রহ.: ৪০১ পৃষ্ঠা।
২. আদাবুল মুফরাদ, বাবুশ শের। আবু ইয়ালা: মুসনাদে আয়েশা রাযি.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00