📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হিজরত

📄 হিজরত


আজকাল হিজরতের ব্যাপারে অনেকে মনে করছেন, নিজ ঘর-বাড়ি ছেড়ে মক্কা বা মদীনায় পার হয়ে গেলেই হিজরত হয়ে যাবে। যদিও নিজ এলাকা শান্ত ও নিরাপদ আশ্রয় হয়। আতা ইবনে আবী রাবাহ রহ.-কে তাবেঈগণের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় মনে করা হয়। তিনি একবার উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে হাজির হলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, হিজরতের স্বরূপ কী? তিনি বললেন,
لَا هِجْرَةَ الْيَوْمَ، كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ يَفِرُّ أَحَدُهُمْ بِدِيْنِهِ إِلَى اللَّهِ وَ إِلَى رَسُولِهِ مَخَافَةِ أَنْ يُفْتَنَ عَلَيْهِ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَقَدْ أَظْهَرَ اللهُ الْإِسْلَامَ وَ الْيَوْمَ يَعْبُدُ رَبَّهُ حَيْثُ شَاءَ وَ لَكِنْ جِهَادٌ وَ نِيَّةٌ
অর্থ: এখন আর হিজরত নেই। একটা সময় ছিল যখন মানুষ ধর্ম নিয়ে ভীত ছিল, তারা বিপদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের কাছে পালিয়ে বেড়াত। কিন্তু আজ আল্লাহ ইসলামকে বিজয়ী করেছেন। মানুষ সর্বত্র নির্বিবাদে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। তবে এখন জিহাদ আছে। নিয়ত আছে।'
হযরত আয়েশা রাযি.-এর সুস্পষ্ট ভাষ্যের পর এই রহস্যেরও ভেদ হয় যে, হযরত ইবনে উমর রাযি. কেন বলতেন, لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَنْحِ (অর্থ : মক্কা বিজয়ের পর হিজরত নেই')! প্রকৃতপক্ষেই মক্কা বিজয়ের পর হিজরতের প্রয়োজন ছিল না; কেননা সারা দেশে তখন ধর্মীয় শান্তি বিরাজ করছিল। তবে এখনো যদি কেউ আল্লাহর ঘরের প্রতিবেশিত্ব কামনা করে, অথবা আল্লাহর নবীর রওযার প্রতিবেশিত্ব কামনা করে এবং সেই নিয়তে মাতৃভূমি ছেড়ে সেখানে চলে যায় তা হলে নিয়তের সওয়াবটুকু অবশ্যই পাবে।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: বাবু হিজরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিতাবু মানাকিবিল আনসার। হাদীস নং ৩৯০০।
২. এই হাদীসের আরও একটি অর্থ হতে পারে, মক্কা বিজয়ের পর মক্কা থেকে হিজরত নেই।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 রাসুলকে ঘরে সমাহিত করা হলো কেন?

📄 রাসুলকে ঘরে সমাহিত করা হলো কেন?


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন সাহাবা কেরাম রাযি.-এর মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ হলো যে তাঁকে কোথায় দাফন করা হবে। একটি বর্ণনায় আছে, হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, নবী-রাসূলগণ যেখানে মৃত্যুবরণ করেন সেখানেই সমাহিত হন। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে সমাহিত করা হলো। কেননা তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
হতে পারে, হযরত আবু বকর রাযি. কথাটি বলেছিলেন। কিন্তু এটি একটি ঐতিহাসিক বিষয়। মজবুত প্রমাণের প্রয়োজন আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন কোনো ঘরের ভেতর সমাহিত করা হয়েছিল এর প্রকৃত কারণটি ব্যাখ্যা করেছিলেন হযরত আয়েশা রাযি.। তিনি বলেন,
قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَ النَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِياءِ هِمْ مَسَاجِدَ، لَوْلَا ذَلِكَ أَبْرَزَ قَبْرَهُ غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে বলেছিলেন, আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের অভিশপ্ত করুন, এরা এদের নবী-রাসূলের সমাধিগুলোকে সেজদার জায়গা বানিয়ে ছেড়েছিল। (হযরত আয়েশা রাযি. বলেন,) যদি এমনটা না হতো তা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধি খোলা ময়দানে হতে পারত। কিন্তু তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে, তাঁর সমাধিও হয়তো মসজিদে পরিণত হবে' (এজন্যই তাঁকে কোনো ঘরে সুরক্ষিত স্থানে সমাহিত করা হয়)।
এই হাদীসটি থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মোবারক এখনো ছাদ ও দেয়ালের সুরক্ষিত ক্ষেত্রেই থাকতে হবে।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: কিতাবুল জানাইয, হাদীস নং ১৩৯০। মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00