📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হজ্জের হাকীকত

📄 হজ্জের হাকীকত


অনেক অজ্ঞ মনে করে, হজের কার্যাবলি যেমন তাওয়াফ করা, কিছু কিছু জায়গায় দৌড়ানো, কিছু কিছু জায়গায় অবস্থান করা, পাথর নিক্ষেপ করা এক-একটা নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কাজ। অথচ হযরত আয়েশা রাযি. বলেন,
إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَ بِالصَّفَا وَ الْمَرْوَةِ وَ رَمْيُ الْحِمَارِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَ جَلَّ
অর্থ: বাইতুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ, কঙ্কর নিক্ষেপ ইত্যাদি আমলগুলো দেওয়া হয়েছে আল্লাহর আলোচনা ও স্মরণকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
অর্থাৎ প্রকৃত উদ্দেশ্য এই আমলগুলো নয়; বরং আল্লাহর স্মরণ প্রতিষ্ঠিত রাখা। কুরআনে ইঙ্গিত আছে, হযরত ইবরাহীম আ.-এর যুগেও এক ধরনের ইবাদত-পদ্ধতি ছিল। ইবরাহীম আ.-এর স্মরণে উদযাপিত হজে সেই ইবাদত-পদ্ধতিই অনুসৃত হয়ে এসেছে। যে কোনো সক্ষম ব্যক্তিকে জীবনে অন্তত একবার তা পালন করতেই হবে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 ওয়াফাদিহ্ মাযসাবে অবস্থান

📄 ওয়াফাদিহ্ মাযসাবে অবস্থান


মক্কা মুকাররামার কাছে মাহসাব নামক একটি উপত্যকা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ পালনকালে এখানে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর খোলাফায়ে রাশেদীনও এখানে অবস্থান করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এখানে অবস্থান করাকেও হজের রীতি গণ্য করতেন। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. এটাকে হজের সুন্নাত মনে করতেন না এবং এখানে অবস্থানও করতেন না। তিনি বলতেন,
إِنَّمَا نَزَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَنَّهُ كَانَ مَنْزِلًا أَسْمَحَ لِخُرُوجِهِ
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে অবতরণ করতেন। কেননা এখান থেকে বের হওয়া সহজ হতো।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এবং হযরত আবু রাফে রাযি.-ও এই মাসআলায় হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে একমত ছিলেন।'

টিকাঃ
১. চারটি বর্ণনাই সহীহ মুসলিম كتاب النزول با غصب অংশে আছে। হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনাটি আছে মুসনাদে আহমাদ, ষষ্ঠ খণ্ডের ১৯০ পৃষ্ঠায়।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি রাখা

📄 কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি রাখা


একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোরবানির গোশত যেন তিন দিনের বেশি রাখা না হয়। হযরত আলী রাযি., হযরত ইবনে উমর রাযি. প্রমুখ মনে করতেন, এটা স্থায়ী নির্দেশই ছিল। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি., হযরত জাবের রাযি., হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি., হযরত সালামা ইবনে আকওয়া রাযি., হযরত সওবান রাযি. এবং হযরত বুরায়দা রাযি. বর্ণনা করেছেন যে, এটা সাময়িক নির্দেশ ছিল। কিন্তু এই সাময়িক নির্দেশের কারণটি হযরত আয়েশা রাযি.-ই আমাদের জানিয়েছেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, তিন দিন পর কোরবানির গোশত খাওয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি হারাম করে দিয়েছিলেন? হযরত আয়েশা রাযি. বললেন,
لَا وَ لَكِنْ قَلَّ مَنْ كَانَ يُضَحِّي مِنَ النَّاسِ فَأَحَبَّ أَنْ يُطْعَمَ مَنْ لَّمْ يَكُنْ يُضَحي
অর্থ: না, নিষেধ নয়; আসলে তখন কোরবানি-করা লোকের সংখ্যা খুব কম ছিল। এজন্য তিনি চাইতেন, যেই লোকগুলো কোরবানি দিতে পারেনি, তাদেরও খাওয়ানো হোক।'
হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ কোনো এক বছর মদীনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরের বছর দুর্ভিক্ষ কেটে গেলে নির্দেশটি রহিত হয়।
হযরত সালামা ইবনে আকওয়া রাযি. থেকেও এ ধরনের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।'

টিকাঃ
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১০২।
১. পূর্বোক্ত হাদীসটি-সহ উভয় বর্ণনা দেখুন সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যাবাইহ।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কাবা-নির্মাণ

📄 কাবা-নির্মাণ


কাবার এক পাশের দেয়ালের পর কিছু জায়গা ছাড়া পড়েছে। এটিকে হাতিম বলা হয়। তাওয়াফে হাতিমও ভেতরে গণ্য করা হয়। যে কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যা কাবার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা কেন তাওয়াফের মধ্যে শামিল করতে হবে? হতে পারে, অন্যান্য সাহাবীও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ প্রশ্নটি করেছিলেন; কিন্তু বর্তমানে হাদীসের বিদ্যমান নীরব দরস-মজলিসগুলোতে হযরত আয়েশা রাযি. ছাড়া আর কাউকেই এ ব্যাপারে বলতে শোনা যায় না। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল, এই দেয়ালগুলোও কি ক্বাবা শরীফের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বলেছিলেন, হাঁ। আমি আরজ করলাম, তা হলে নির্মাণকালে লোকেরা এটাকে বাইরে রেখেছে কেন? তিনি বললেন, তোমার কওমের কাছে এত সম্পদ ছিল না, তাই এটুকু কম পড়েছে। তিনি বলেন, এরপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, দরজাটি এত উঁচু করা হয়েছে কেন? তিনি বললেন, এজন্য যে, তা যাকে ইচ্ছা—ঢুকতে দেবে, যাকে ইচ্ছা—ঢুকতে দেবে না。
হযরত ইবনে উমর রাযি. বলেন, যদি হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনাটি সহীহ হয়, তা হলে হয়তো এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই পাশের রুকন দুটোতে চুমু দেননি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু জানতেন যে কাবা মূল কাঠামোর ওপরে নেই, সেহেতু ইবরাহিমি ধর্মের সংস্কারক হিসেবে তাঁর কর্তব্য ছিল—ক্বাবা শরীফকে মূল কাঠামোর ওপর পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। আমরা এ প্রশ্নের উত্তরটিও পাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্যে। তিনি বলেন, আয়েশা, যদি সময়টা কুফরিকালের অতি নিকটবর্তী না হতো, তা হলে অবশ্যই কাবা শরীফকে ইবরাহিমি ভিতের ওপর পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতাম।' অর্থাৎ, সাধারণ আরবরা সদ্য মুসলমান হয়েছে, ভয় হয়, এতে তারা ভড়কে যাবে।
এই হাদীসটি থেকে বোঝা যায়, বিশেষ কোনো কল্যাণের দিকে দৃষ্টি রেখে, যদি কোনো ধর্মীয় কাজের বাস্তবায়নে বিলম্ব হয় এবং শরীয়ত তার তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়ন দাবি না করে, তা হলে তা তিরস্কারযোগ্য হবে না।
হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীসটির ওপর ভিত্তি করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি. স্বীয় খেলাফত-আমলে কাবা শরীফের সংস্কার করে মূল ইবরাহিমি ভিত্তির ওপর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। উমাইয়া শাসক আবদুল মালিক ভেবেছিলেন, ইবনে যুবায়ের রাযি. নিজের খেয়াল-খুশি মোতাবেক এ কাজ করেছেন; তাই স্বীয় শাসনামলে কাবা শরীফকে পুনঃসংস্কার করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। কিন্তু যখন একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে উম্মুল মুমিনীন রাযি.-এর হাদীসটি নিশ্চিত হন, তখন আক্ষেপ ও অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন。

টিকাঃ
১. এই বর্ণনাটি অধিকাংশ হাদীসের কিতাবেই আছে। কিন্তু আমি এখানে সহীহ মুসলিম: বাবু নাকযিল কাবা সামনে রেখেছি。
২. সহীহ মুসলিম: বাবু নাকযিল কাবা। মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৩, ২৫৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00