📄 রাসুল পুরো রমযান তারাভীহ্ পড়েননি কেন?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যে নামাযগুলো পড়তেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলতেন, সে সম্পর্কে হযরত আয়েশা রাযি.-ই সবচেয়ে নিশ্চিত জ্ঞান রাখতেন।' তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান এবং রমযানের বাইরে তেরো রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি রমযান মাসে একদিন মসজিদে নববীতে তারাবীহ পড়লেন। তাঁকে নামায পড়তে দেখে আরও কিছু লোক এসে নামাযে শরীক হলো। দ্বিতীয় দিন আরও বেশি লোক হলো। তৃতীয় দিন আরও বেশি লোক হলো। চতুর্থ দিন এত বেশি লোক হলো যে, মসজিদে নববীতে জায়গা হচ্ছিল না। কিন্তু সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর বাইরে গেলেন না। সাহাবা কেরام অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে ফিরে গেলেন। সকালবেলা তিনি সাহাবা কেরামকে বললেন,
أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ لَمْ يَخَفْ عَلَيَّ مَكَانُكُمْ لَكِنِّي خَشِيْتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ صَلَاةُ اللَّيْلِ فَتَعْجِزُوا
অর্থ : রাতে তোমাদের অবস্থানের কথা আমার জানা ছিল; কিন্তু আমার ভয় হলো যে, তোমাদের ওপর এটাকে ফরজ করে দেওয়া হতে পারে, কিন্তু তখন তোমরা পারবে না।'
কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর যেহেতু ফরজ হওয়ার আশঙ্কা কেটে গেল, তখন সাহাবা কেরাম নিয়মিতভাবে নামাযটি শুরু করলেন। যাদের ভ্রুক্ষেপ শুধু মূল হাদীসের প্রতি, তারা এটাকে মুস্তাহাব মনে করেন। আর যারা সাহাবা কেরামের অনুসরণ করতে চান, তারা এটাকে সুন্নতে মুআক্কাদা মনে করেন।
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম: বাবু সালাতুল লাইল।
২. সহীহ বুখারী: ....كتاب الجمعة ، باب من قال في الخطبة : أما بعد : হাদীস নং ৯২৪।
📄 হজ্জের হাকীকত
অনেক অজ্ঞ মনে করে, হজের কার্যাবলি যেমন তাওয়াফ করা, কিছু কিছু জায়গায় দৌড়ানো, কিছু কিছু জায়গায় অবস্থান করা, পাথর নিক্ষেপ করা এক-একটা নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কাজ। অথচ হযরত আয়েশা রাযি. বলেন,
إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَ بِالصَّفَا وَ الْمَرْوَةِ وَ رَمْيُ الْحِمَارِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَ جَلَّ
অর্থ: বাইতুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ, কঙ্কর নিক্ষেপ ইত্যাদি আমলগুলো দেওয়া হয়েছে আল্লাহর আলোচনা ও স্মরণকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
অর্থাৎ প্রকৃত উদ্দেশ্য এই আমলগুলো নয়; বরং আল্লাহর স্মরণ প্রতিষ্ঠিত রাখা। কুরআনে ইঙ্গিত আছে, হযরত ইবরাহীম আ.-এর যুগেও এক ধরনের ইবাদত-পদ্ধতি ছিল। ইবরাহীম আ.-এর স্মরণে উদযাপিত হজে সেই ইবাদত-পদ্ধতিই অনুসৃত হয়ে এসেছে। যে কোনো সক্ষম ব্যক্তিকে জীবনে অন্তত একবার তা পালন করতেই হবে।
📄 ওয়াফাদিহ্ মাযসাবে অবস্থান
মক্কা মুকাররামার কাছে মাহসাব নামক একটি উপত্যকা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ পালনকালে এখানে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর খোলাফায়ে রাশেদীনও এখানে অবস্থান করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এখানে অবস্থান করাকেও হজের রীতি গণ্য করতেন। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. এটাকে হজের সুন্নাত মনে করতেন না এবং এখানে অবস্থানও করতেন না। তিনি বলতেন,
إِنَّمَا نَزَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَنَّهُ كَانَ مَنْزِلًا أَسْمَحَ لِخُرُوجِهِ
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে অবতরণ করতেন। কেননা এখান থেকে বের হওয়া সহজ হতো।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এবং হযরত আবু রাফে রাযি.-ও এই মাসআলায় হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে একমত ছিলেন।'
টিকাঃ
১. চারটি বর্ণনাই সহীহ মুসলিম كتاب النزول با غصب অংশে আছে। হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনাটি আছে মুসনাদে আহমাদ, ষষ্ঠ খণ্ডের ১৯০ পৃষ্ঠায়।
📄 কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি রাখা
একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোরবানির গোশত যেন তিন দিনের বেশি রাখা না হয়। হযরত আলী রাযি., হযরত ইবনে উমর রাযি. প্রমুখ মনে করতেন, এটা স্থায়ী নির্দেশই ছিল। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি., হযরত জাবের রাযি., হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি., হযরত সালামা ইবনে আকওয়া রাযি., হযরত সওবান রাযি. এবং হযরত বুরায়দা রাযি. বর্ণনা করেছেন যে, এটা সাময়িক নির্দেশ ছিল। কিন্তু এই সাময়িক নির্দেশের কারণটি হযরত আয়েশা রাযি.-ই আমাদের জানিয়েছেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, তিন দিন পর কোরবানির গোশত খাওয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি হারাম করে দিয়েছিলেন? হযরত আয়েশা রাযি. বললেন,
لَا وَ لَكِنْ قَلَّ مَنْ كَانَ يُضَحِّي مِنَ النَّاسِ فَأَحَبَّ أَنْ يُطْعَمَ مَنْ لَّمْ يَكُنْ يُضَحي
অর্থ: না, নিষেধ নয়; আসলে তখন কোরবানি-করা লোকের সংখ্যা খুব কম ছিল। এজন্য তিনি চাইতেন, যেই লোকগুলো কোরবানি দিতে পারেনি, তাদেরও খাওয়ানো হোক।'
হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ কোনো এক বছর মদীনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরের বছর দুর্ভিক্ষ কেটে গেলে নির্দেশটি রহিত হয়।
হযরত সালামা ইবনে আকওয়া রাযি. থেকেও এ ধরনের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।'
টিকাঃ
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১০২।
১. পূর্বোক্ত হাদীসটি-সহ উভয় বর্ণনা দেখুন সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যাবাইহ।