📄 ধর্মীয় তাৎপর্যজ্ঞান ও হযরত আয়েশা রাযি.
পূর্বে আলোচিত হয়েছে, নববী যুগে মুসলিম নারীগণ নির্বিঘ্নে মসজিদে নববীতে আসতেন এবং জামাতে পুরুষ ও শিশুদের পেছনে কাতার করে দাঁড়াতেন। স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেউ যেন তাদের মসজিদে আসতে বাধা না দেয়। কিন্তু নববী যুগের অবসানের পর ধন-সম্পদের প্রাচুর্য ও বিধর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা জীবন-জগতের স্বচ্ছতা, সরলতা, অকৃত্রিমতা ও আত্মিক সুস্থতার যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করেছিল। হযরত আয়েশা রাযি. আপন সময় ও সমাজের নিরীক্ষণে বলেছিলেন, আজ যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেঁচে থাকতেন এবং নারীরা যা শুরু করেছে তা দেখতেন, তা হলে অবশ্যই তাদের মসজিদে আসতে বারণ করে দিতেন।' এটি একটি ছোট্ট অনুষঙ্গমাত্র। কিন্তু এ থেকেও প্রতীয়মান হয় যে তিনিও মনে করতেন, শরীয়তের প্রতিটি বিধানই সর্বাঙ্গীন কল্যাণের নিমিত্তেই হয়। এবং সেগুলোর যৌক্তিক কারণও অবশ্যই থাকে; এবং প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনে আনুষঙ্গিক বিধি-নিষেধেও পরিবর্তন ঘটে।
একবার জনৈক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এল। লোকটি ভেতরে আসার অনুমতি চাইল। হযরত আয়েশা রাযি. তার ভাবির দুধ পান করেছিলেন। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. অনুমতি দিলেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে তাশরীফ আনলেন, তখন ঘটনাটি তাঁকে জানালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অনুমতি দিয়ে দিতে। তিনি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তার ভাই তো আমাকে দুধ পান করাননি; আমাকে দুধ পান করিয়েছিলেন তার ভাইয়ের স্ত্রী (অর্থাৎ ভাবি ও দেবরের মধ্যে তো কোনো রক্তসম্পর্ক ছিল না, যে সে আমার মাহরাম হবে)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার চাচাই হবে।' এই ঘটনা থেকেও স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায় যে, হযরত আয়েশা রাযি. ধর্মীয় বিধি-নিষেধে ইতিবাচক ও যৌক্তিক কারণও অন্বেষণ করতেন।
এ পর্যায়ে আমরা এমন কিছু মাসায়েল আলোচনা করব, যেগুলোর তাৎপর্য ও মর্মকথা হযরত আয়েশা রাযি. প্রকাশ করেছিলেন। আমরা যদিও সবগুলো হাদীসগ্রন্থই সন্ধান করেছি, তথাপি অনেক তত্ত্বকথাই বাদ পড়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: বাবু খুরুজিন নিসা ইলাল মাসাজিদ।
১. সহীহ মুসলিম: বাবুর রিযাআহ।
📄 কুরআন অবতরণের ক্রমধারা ও বিষয়বিন্যাস
অবতরণের স্থানিক পার্থক্যভেদে কুরআন দুই ভাগে বিভক্ত: মাক্কী ও মাদানী। মাক্কী বলতে—কুরআন মাজীদের যে অংশ মক্কায় এবং মাদানী বলতে—যে অংশ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে, বোঝানো হয়। উভয়ই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। সাধারণ মানুষ এগুলো সহজে না বুঝলেও, আরবী ভাষায় যাদের ব্যুৎপত্তি রয়েছে, যারা এ ভাষার বাগ্বৈচিত্র ও ইঙ্গিতভেদ বোঝেন, তারা সূরার শব্দপ্রয়োগ দেখেই বলতে পারেন—সূরাটি মাক্কী না মাদানী। মাক্কী ও মাদানী সূরার কিছু হজবোধ্য প্রভেদ প্রদত্ত হলো :
মাক্কী সূরাসমূহের বৈশিষ্ট্য : ভাষাগত ওজস্বিতা, তেজস্বিতা ও উদ্দীপনায় ভরপুর। শব্দ-চয়ন মাহাত্ম্যপূর্ণ ও শানদার। উপদেশ, আহ্বান, একত্ববাদ, স্মরণ, পরকাল, হাশর-নশর ইত্যাদি সংবলিত। চরণান্তিক মিলপ্রধান ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্লোক। ইহুদি-নাসারার সঙ্গে বিতর্ক নেই; সাবলীল বক্তব্য লক্ষণীয়। আমল ও ইবাদতের কথা কম; আকীদা ও বিশ্বাসের কথা বেশি। জিহাদ প্রসঙ্গ নেই; শুধু দাওয়াত, তাবলীগ ও নম্র বাক্য।
মাদানী সূরাসমূহের বৈশিষ্ট্য : ভাষাগত দিক থেকে খুবই গভীর ও গম্ভীর। আইনি শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ। ধর্মীয় অনুশাসন ও বিধি-নিষেধ সংবলিত। চরণান্তিক মিল তেমন রক্ষিত হয়নি; বৃহৎ শ্লোক-পরিসর। ইহুদি-নাসারার সঙ্গে বিতর্ক লক্ষণীয়। আমল ও ইবাদত-সংক্রান্ত আলোচনাই বেশি। দাওয়াত ও তাবলীগের সঙ্গে সঙ্গে জিহাদেরও নির্দেশ।
আশ্চর্যের বিষয়, এই পার্থক্য-বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করে ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদগণ গর্বে ফেটে পড়েন। মনে হয় তারাই এর আবিষ্কারক। কিন্তু খবরটুকুও তাদের নেই যে, নবী-পরিবারের অন্তঃপুরবাসিনী রাযি. হাজার বছর আগেই এই রহস্য ভেদ করে দিয়েছেন। সহীহ বুখারীতে আছে :
إِنَّمَا نَزَلَ أَوَّلُ مَا نَزَلَ مِنْهُ سُوْرَةٌ مِنَ الْمُفَصَّلِ فِيْهَا ذِكْرُ الْجَنَّةِ وَ النَّارِ حَتَّى إِ تَابَ النَّاسُ إِلَى الْإِسْلَامِ ثُمَّ نَزَلَ الْحَلَالُ وَ الْحَرَامُ وَ لَوْ نَزَلَ أَوَّلُ شَيْءٍ تَشْرَبُوا الْخَمْرَ لَقَالُوْا لَا نَدَعُ الْخَمْرَ أَبَدًا وَ لَوْ نَزَلَ لَا تَزْنُوْا لَقَالُوْا لَا نَدَعُ الزِّنَى أَبَدًا لَقَدْ نَزَلَ بِمَكَّةَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ إِنِّي جَارِيَةٌ أَلْعَبُ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَ أَمَرُّ وَ مَا نَزَلَتْ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ وَ النِّسَاءِ إِلَّا وَ أَنَا عِنْدَهُ
অর্থ: প্রথমে দীর্ঘকায় বিবরণধর্মী সূরাগুলো নাজিল হয়েছে। এগুলোতে জান্নাত-জাহান্নামের কথা ছিল। এভাবে লোকেরা যখন ইসলামমুখী হয়ে গেল, তখন হালাল-হারামের বিধান নাজিল হতে লাগল। যদি প্রথমেই নাজিল হতো 'তোমরা মদ পান ছেড়ে দাও', তা হলে লোকেরা বলত, আমরা কখনোই মদ ছাড়তে পারব না। অনুরূপ যদি প্রথমেই হুকুম আসত, তোমরা ব্যাভিচার ছেড়ে দাও, তা হলে লোকেরা বলত, আমরা কখনোই ব্যাভিচার ছাড়তে পারব না। মক্কায় আমি খেলাধুলায় রত থাকতে এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিল: বরং কেয়ামতই তাদের প্রতিশ্রুত সময়, কেয়ামত বড় বিষাদ ও বিভীষিকাময়। যখন সূরা বাকারা ও সূরা নিসা অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে ছিলাম।'
অর্থাৎ, ইসলাম যে প্রাজ্ঞ নীতিটি অনুসরণ করে উন্নতির পথে ধাবিত হয়েছিল, তা এই যে, সে তার সংস্কার-পরিধিকে একটু একটু করে প্রশস্ত করেছে। ইসলাম একটি বর্বর জাতির মাঝে এসে প্রথমে বক্তার ভূমিকায় হৃদয়গ্রাহী ভাষায় জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনিয়েছে; লোকেরা প্রভাবিত হলে এরপর বিভিন্ন বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, বিভিন্ন আইন ও অনুশাসন দিয়েছে।
মদ ও যিনা বর্বর মানুষদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল; যদি শুরুতেই এগুলোকে ছাড়তে বলা হতো, তা হলে কে শুনত? মূলত ভাব ও ভাষার পার্থক্যে অর্থ ও মর্মেরও পার্থক্য ঘটে। একটি উপদেশমূলক গ্রন্থের ভাব ও ভাষা আর একটি আইনি গ্রন্থের ভাব ও ভাষা কি এক হতে পারে?
সূরা নিসা ও সূরা বাকারা-হযরত আয়েশা রাযি.-এর ভাষ্যমতে- মদীনায় নাজিল হয়েছিল। যেহেতু মদীনায় ইহুদি-নাসারা ছিল, সেহেতু কিছুটা বিতর্কের ভাব অবলম্বিত হয়েছে। আবার যেহেতু ইসলাম এখানে সাড়া পেয়ে গিয়েছিল, সেহেতু বিভিন্ন অনুশাসন প্রদত্ত হয়েছে। আইনি আলোচনা হওয়ায় এগুলোর শ্লোক-পরিধি বড় বড়। পক্ষান্তরে সূরা কমার অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। এখানে কেয়ামতের আলোচনা-সহ ইসলামের প্রারম্ভিক বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মুশরিকদের প্রসঙ্গ বিবৃত হয়েছে। ভাব ও ভাষা হৃদয়গ্রাহী, শ্লোকাবয়ব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র।
মোটকথা, মাক্কী ও মাদানী সূরাগুলোর পার্থক্য পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে হয়েছে। পরিস্থিতির ভিন্নতা কুরআনের ভাব ও ভাষায়ও প্রভাবকের কাজ করেছে।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: কিতাবুত তাফসীর, বাবু তালিফিল কুরআন।
📄 মদীনায় ইসলামের সফলতার প্রকৃত কারণ
মদীনায় ইসলামের এই অভাবনীয় সফলতা লাভের প্রকৃত কারণ কী ছিল? এ এমন একটি প্রশ্ন, বিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত ইতিহাসে এত উন্নতি ঘটেনি যে, একই মহিমায় এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আজকের লেখক-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীগণ যখন এ বিষয়ে কলম ধরেন, তখন সামান্য সময়ের জন্য হলেও ধরে নেন যে, তারা কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করছেন। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, যাঁর ইঙ্গিতে সব কিছু ঘটছিল, তাঁর কৃপা-দৃষ্টিই নিয়ন্ত্রণ করছিল সবকিছু। প্রকৃত প্রস্তাবে, শত-সহস্র বাধা-বিরোধের বিপরীতে ইসলামের অভাবনীয় সাফল্য লাভ মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ—একটি মুজিযা মাত্র। আসলে এমনটা জরুরি নয় যে, মুজিযা হতে হলে সাধারণ নিয়মের বাইরে অতিপ্রাকৃতিক কিছু হতে হবে। আল্লাহ তাআলা আপন অনুগ্রহে কোনো কিছু ঘটার যাবতীয় উপকরণ যথাসময়ে একত্রিত করে দেওয়াও মুজিযা—যা পৃথিবীর সব কাজে সম্ভব হয় না। তা ছাড়া, অনেক দুর্বল উদ্যোগও সফল হয়; আবার অফুরন্ত সম্ভাবনা সত্ত্বেও অনেক আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে মদীনার গোত্রগুলো ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এইসব রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অধিকাংশ গোত্রেরই পালের গোদাদের বধ হয়ে যায়। আর এরাই ছিল যত বিগ্রহের মূল হোতা। গর্বে-অহঙ্কারে যে কোনো বিপ্লবে এদের জাত্যাভিমানে আঘাত লাগত। তাই হয়তো বাধা হতো, নয়তো যুদ্ধ বাধাত।
আনসার গোত্রগুলো একের পর এক অবাঞ্ছিত যুদ্ধের দাবানলে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। তারা এতটাই বিপর্যয় বোধ করেছিল যে, ইসলামের আবির্ভাবকে মোক্ষ লাভের উপায় জ্ঞান করেই এর ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিল। আর হোমরাচোমরার দল মরে সাফ হওয়ায় ইসলামের বিপ্লবকে বাধাগ্রস্ত করার কার্যকরী কোনো শক্তি ছিল না। এই ছিল মহান আল্লাহর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এভাবেই তিনি ইসলামের উন্নতির পথকে সুগম করেছিলেন অনেক আগ থেকেই। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন,
كَانَ يَوْمُ بُعَاثَ يَوْمًا قَدَّمَهُ اللهُ لِرَسُوْلِهِ فَقَدِمَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدِ افْتَرَقَ مَلَكُهُمْ وَقُتِلَتْ سَرَوَاتُهُمْ وَ جُرِّحُوْا قَدَّمَهُ اللَّهُ لِرَسُوْلِهِ فِي دُخُولِهِمْ فِي الْإِسْلَامِ
অর্থ: বুআস যুদ্ধের দিনটিই সেই যুগান্তকারী ঘটনা ছিল, যাতে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের অনুকূলে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। এ যুদ্ধে গোত্রগুলোর শক্তি-সামর্থ্য ভেঙে গিয়েছিল। নেতা-নেত্রী নিহত হয়েছিল। তারা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। এমন সময় রাসূলের আগমন হলো। এভাবেই আল্লাহ তাঁর রাসূলের অনুকূলে তাদের ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রকে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন।'
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: كتاب مناقب الأنصار، باب القسامة في الجاهلة হাদীস নং ৩৮৪৬।
📄 জুমআর দিন গোসল করা
জুমআর দিন গোসল করাকে আবশ্যক করা হয়েছিল। কেন করা হয়েছিল তার কারণ হযরত আয়েশা রাযি. বলে দিয়েছিলেন:
قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يَنْتَابُوْنَ مِنْ مَنَازِهِمْ وَ الْعَوَالِي فَيَأْتُوْنَ فِي الْغُبَارِ تُصِيبُهُمُ الْغُبَارُ وَالْعَرَقِ فَيَخْرُجُ مِنْهُمُ الْعَرَقُ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْسَانٌ مِنْهُمْ وَ هُوَ عِنْدِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ أَنَّكُمْ تَطَهَّرْتُمْ لِيَوْمِكُمْ هَذَا.
অর্থ: লোকেরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে এবং মদীনার বিভিন্ন বসতি থেকে আসত। তারা ধুলা ও ঘামে একাকার হয়ে থাকত। এভাবে একদিন একজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এল। তিনি আমার কাছেই বসা ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যদি তোমরা আজকে গোসল করে আসতে, তা হলে ভালো হতো।'
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : ا كتاب الغسل