📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 তারতীবে খেলাফত

📄 তারতীবে খেলাফত


সহীহ মুসলিমে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় তাঁকে বললেন, তোমার পিতা আবু বকর [রাযি.] এবং তোমার ভ্রাতাকে ডাকো। আমি লিখিয়ে দিই। আমার আশঙ্কা হয়, কোনো উচ্চাভিলাষী বলে বসবে, আমিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু আল্লাহ ও মুসলমানগণ আবু বকর [রাযি.] ছাড়া আর কারও বিষয়ে একমত হবে না। সহীহ মুসলিমে আরও একটি বর্ণনা আছে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর খুবই প্রিয় ছাত্র হযরত ইবনে আবি মুলাইকা জিজ্ঞেস করলেন, যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে খলীফা মনোনীত করে যেতেন, তা হলে কাকে করতেন? তিনি বললেন, হযরত আবু বকর রাযি.-কে। জিজ্ঞেস করলেন, তারপর? তিনি বললেন, হযরত উমর রাযি.-কে? জিজ্ঞেস করলেন, তারপর? তিনি বললেন, উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযি.-কে। এরপর তিনি চুপ হয়ে গেলেন।'

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম : فضائل أبي بكر رضي الله عنه ا

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কবরের আজাব

📄 কবরের আজাব


কুরআন মাজীদে কবরের সঙ্গে আজাবের কথা নেই। তবে বারযাখের সঙ্গে আজাবের কথা আছে। বারযাখ বলতে মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়। কিন্তু এতে যেহেতু সরাসরি কবরের আজাবের কথা বুঝে আসে না, সেহেতু মুতাযিলা সম্প্রদায় এখনো তা অস্বীকার করে।
ইসলামে এ বিষয়টিরও নিষ্পত্তি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কল্যাণেই হয়েছে। দুই ইহুদি মহিলা হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে এল। কথা প্রসঙ্গে একজন বলে উঠল, আল্লাহ তোমাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। কথাটি হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্য একদমই নতুন ছিল। তিনি হতচকিত হয়ে গেলেন। তিনি কবর আজাবের বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না। অবশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞেস করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঠিকই আছে।' এরপর থেকে হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ-মুনাজাতগুলো লক্ষ করতে লাগলে দেখলেন, তিনি কবরের আজাব থেকে পানাহ চান। হয়তো প্রথমে তিনি এদিকে মনোযোগ দেননি。

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: كتاب الجنائز، باب التعوذ من عذاب القبر

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সামায়ে মাওতা বা মাইয়েতের শ্রবণ

📄 সামায়ে মাওতা বা মাইয়েতের শ্রবণ


মৃতরা শোনে কি না—সাহাবা কেরাম এ ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। হযরত উমর রাযি., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. মনে করতেন, মৃতরা শুনতে পায়। হযরত আয়েশা রাযি. এটা মানতেন না। তাঁর সিদ্ধান্তটি শুধু বিবেচনা ও বুদ্ধির নিরিখে নয়; বরং কুরআনের আলোকে ছিল। নিজ দাবির স্বপক্ষে তিনি নিম্নোক্ত দলিলগুলো পেশ করতেন:২
إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى
অর্থ: আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না। (সূরা নামল, আয়াত: ৮০)
وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ
অর্থ: যারা কবরে আছে, আপনি তাদের শোনাতে পারেন না। (সূরা ফাতির, আয়াত: ২২)
উপর্যুক্ত আয়াতগুলো থেকে বুঝে আসে, মৃত্যুর পর মৃতরা শ্রবণ-শক্তি থেকে বঞ্চিত হন। তবে কোনো বিশেষ মুহূর্তে বিশেষ আওয়াজ শোনানো হয়।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী: গাযওয়ায়ে বদর。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00