📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনাকারী সাহাবা

📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনাকারী সাহাবা


‘মুকসিরীন’ বা সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী বিবেচিত হয়েছেন সাত জন। তাঁদের এক-এক জনের বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা হাজারের কোঠা পেরিয়ে গেছে। একটি ছকে তাঁদের নাম, মৃত্যু-সন, ও বর্ণিত হাদীস- সংখ্যা দেওয়া গেল:
| নাম | মৃত্যু-সন (হি.) | হাদীস সংখ্যা |
|---|---|---|
| হযরত আবু হুরায়রা রাযি. | ৫৭/৫৮/৫৯ | ৫৩৬৪ |
| হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. | ৬৮ | ২৬৬০ |
| হযরত ইবনে উমর রাযি. | ৭৩ | ২২৩০ |
| হযরত জাবের রাযি. | ৭৪ | ২৫৪০ |
| হযরত আনাস রাযি. | ৯১ | ২৬৮৬ |
| হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযি. | ৭৪ | ২২৭০ |
| হযরত আয়েশা রাযি. | ৫৭/৫৮ | ২২১০ |

টিকাঃ
২. ছকটি ফাতহুল মুগীস শরহ আলফিয়্যাতুল হাদীস গ্রন্থ থেকে গৃহীত, পৃষ্ঠা: ৩৭১ (লক্ষ্ণৌর ছাপা)।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনায় তাঁর অবস্থান

📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনায় তাঁর অবস্থান


সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আয়েশা রাযি. তালিকায় সবার শেষে আছেন। যেসব সাহাবী তালিকায় শীর্ষে আছেন, তাঁদের অধিকাংশই হযরত আয়েশা রাযি.-এর পরেও জীবিত ছিলেন। তাঁদের হাদীস বর্ণনার ধারা আরও কয়েক বছর অব্যাহত থেকেছে। তা ছাড়া, হযরত আয়েশা রাযি.-এর ব্যাপারে এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে যে, তিনি একজন নারী ছিলেন। সমসাময়িকদের মতো সকল মজলিসে উপস্থিত হতে পারতেন না। শিক্ষানবিশগণও অবাধে তাঁর কাছে পৌঁছতে পারতেন না। ইসলামী জাহানের বড় বড় শহরে সফর করে করে হাদীস বর্ণনা করা তাঁর পক্ষে ছিল অসম্ভব। এই সবগুলো বিষয় বিবেচনা করলে, হাদীসের জগতের সাতটি তারকার মধ্যে তাঁকেই বেশি জ্যোতির্ময় মনে হয়।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা

📄 বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা


উপর্যুক্ত ছক থেকে আমরা জানতে পেরেছি, হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা সর্বসাকুল্যে দুই হাজার দুইশো দশটি। এর মধ্যে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে দুইশো ছিয়াশিটি। একশো চুয়াত্তরটি হাদীস উভয় গ্রন্থে এসেছে। চুয়ান্নটি হাদীস এসেছে শুধু সহীহ বুখারীতে এবং আটান্নটি হাদীস এসেছে শুধু সহীহ মুসলিমে। এই হিসেবে সহীহ বুখারীতে তাঁর দুইশো আটাশটি এবং সহীহ মুসলিমে দুইশো বত্রিশটি হাদীস আছে। অবশিষ্ট হাদীসগুলো আছে অন্যান্য গ্রন্থে। ইমাম আহমাদ রহ. তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ মুসনাদ-এর ষষ্ঠ খণ্ডে শুধু হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীসগুলোই এনেছেন, যা মিশরের ছাপা এই সুবিশাল গ্রন্থটির দুইশো তেপ্পান্নটি পৃষ্ঠা বিস্তৃত। যদি হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসগুলোকে আলাদা করা যায়, তা হলে একটি স্বতন্ত্র-সুবিশাল গ্রন্থে পরিণত হবে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হাদীস : রেওয়ায়েত ও দিরায়াত

📄 হাদীস : রেওয়ায়েত ও দিরায়াত


শুধু বর্ণনার সংখ্যাধিক্যই হযরত আয়েশা রাযি.-কে হাদীসের জগতে বিশিষ্ট করেনি। এ জগতে তাঁর বিশিষ্টতার মূল কারণ হলো বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে বর্ণিত বিষয়ের বুঝ ও গভীর উপলব্ধি অর্থাৎ এর সূক্ষ্মতা, নিগূঢ়তা, তাৎপর্য-অনুধাবন এবং সে আলোকে শরঈ বিধান-উদ্ঘাটন। যে সকল সাহাবী 'মুকিললীন'- অর্থাৎ সবচেয়ে কম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে বড় বড় ফকীহ ও মুজতাহিদ ছিলেন। কিন্তু যাঁরা নিছক সংখ্যাধিক্যে এগিয়ে গেছেন, তাদের অধিকাংশই হাদীসের গভীরে পৌঁছতে ছিলেন অক্ষম। সর্বাধিক বর্ণনাকারী সাতজন সাহাবীর মধ্যে পাঁচজনই শাস্ত্রীয় মূলনীতিবিদগণের দৃষ্টিতে নিছক রাবী হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন; ফকীহ ও মুজতাহিদ সাহাবী হিসেবে তাঁদের মূল্যায়ন নেই। কেননা হাদীসের রেওয়ায়েত ও বর্ণনার যে একটি বিশাল ভাণ্ডার আমাদের আছে, তাতে হযরত আবু হুরায়রা রাযি., হযরত ইবনে উমর রাযি., হযরত আনাস রাযি., হযরত জাবের রাযি. এবং হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযি. থেকে দিরায়াত তথা ফিকহী ইজতিহাদ তেমন পাওয়া যায় না। এই বিশেষত্বটুকু হযরত আয়েশা রাযি. এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. লাভ করেছেন। তাঁরা বর্ণনার সংখ্যাধিক্যে যেমন এগিয়ে, তেমনি বর্ণিত বিষয়ের গভীর বুঝ ও উপলব্ধিতেও এগিয়ে, ফিকহ ও ইজতিহাদের দিক থেকেও এগিয়ে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00