📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 আকাবির সাহাবার রেওয়ায়েত কম হওয়ার কারণ

📄 আকাবির সাহাবার রেওয়ায়েত কম হওয়ার কারণ


হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা এত বেশি যে— কি নারী সাহাবী, কি উম্মাহাতুল মুমিনীন; আর কি পুরুষ সাহাবীগণ— অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউই তাঁর সম-মর্যাদার দাবি করতে পারতেন না। হযরত আবু বকর রাযি., হযরত উমর রাযি., হযরত উসমান রাযি. এবং আলী রাযি. প্রমুখ মহিমান্বিত ব্যক্তিবর্গ যদিও নববী-সান্নিধ্য, ধর্মতত্ত্ব ও যোগ্যতায় হযরত আয়েশা রাযি. থেকে অনেক উঁচুমানের ছিলেন; কিন্তু একে তো স্বাভাবিক রীতি অনুসারে স্ত্রী কয়েক মাসে যতখানি জানতে পারে, বন্ধুমহল কয়েক বছরেও তা পারে না; অন্য দিকে, এই মহিমান্বিত ব্যক্তিবর্গকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরই পর্যায়ক্রমে খেলাফতের গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিতে হয়েছে; তাই হাদীস- বর্ণনার সুযোগ তাঁদের কমই হয়েছে; এরপরও তাঁদের সূত্রে বর্ণিত অল্প যে কটি হাদীস সংরক্ষিত হয়েছে, অধিকাংশই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত আইন-কানুন ও সংবিধান বলা চলে, যা আমাদের ফিকহশাস্ত্রের মূল ভিত্তি। এজন্য প্রকৃত হাদীস-বর্ণনার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন শুধুমাত্র ওইসব সাহাবীই, যাঁরা রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দায় ও দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে নির্বিঘ্ন জীবন-যাপন করেছেন।
বড় বড় সাহাবা কেরাম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা কম হওয়ার আরও একটি রহস্য আছে। মূলত তাঁদের যুগটি ছিল স্বয়ং সাহাবীগণের যুগ। সাহাবা কেরাম প্রত্যেকেই এক-এক জন ছিলেন হাদীসের জ্ঞানভাণ্ডার। তাঁদের অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হতো খুবই কম। তাবেঈগণ—যাঁরা এই অমীয় সুধার মধুসরোবর থেকে অতৃপ্ত ছিলেন—জন্মগ্রহণ করেছেন মোটামুটি বিশ পঁচিশ বছর পরে। তাঁরা তাঁদের প্রিয় নবীর পবিত্র সত্তা সম্পর্কে জানার জন্য ছিলেন উদগ্রীব। কিন্তু বড় বড় সাহাবা কেরাম ততদিনে পরপারের যাত্রী; পৃথিবী ও পৃথিবীবাসী এই মহাপুরুষদের হারিয়ে তখন অনেকখানি নিঃস্ব হয়ে গেছে। কমবয়সী সাহাবা কেরাম তখন শক্ত-সমর্থ যুবক অথবা প্রৌঢ়। হিজরী প্রথম শতক পর্যন্ত সাহাবা কেরামের এই শেষ পরম্পরাটুকুই পৃথিবীর বুকে হাদীসে নববীর আলো ছড়িয়েছিল। এজন্য ‘মুকসিরীন’ বা সর্বাধিক হাদীসবর্ণনাকারী সাহাবীর মর্যাদা পেয়েছেন তাঁরাই। তাঁদের বর্ণনায়ই হাদীসের সংগ্রহশালা পুষ্ট হয়েছে।'

টিকাঃ
১. ইবনে সাদ, ২য় খণ্ড, ২য় পরিচ্ছেদ।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনাকারী সাহাবা

📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনাকারী সাহাবা


‘মুকসিরীন’ বা সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী বিবেচিত হয়েছেন সাত জন। তাঁদের এক-এক জনের বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা হাজারের কোঠা পেরিয়ে গেছে। একটি ছকে তাঁদের নাম, মৃত্যু-সন, ও বর্ণিত হাদীস- সংখ্যা দেওয়া গেল:
| নাম | মৃত্যু-সন (হি.) | হাদীস সংখ্যা |
|---|---|---|
| হযরত আবু হুরায়রা রাযি. | ৫৭/৫৮/৫৯ | ৫৩৬৪ |
| হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. | ৬৮ | ২৬৬০ |
| হযরত ইবনে উমর রাযি. | ৭৩ | ২২৩০ |
| হযরত জাবের রাযি. | ৭৪ | ২৫৪০ |
| হযরত আনাস রাযি. | ৯১ | ২৬৮৬ |
| হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযি. | ৭৪ | ২২৭০ |
| হযরত আয়েশা রাযি. | ৫৭/৫৮ | ২২১০ |

টিকাঃ
২. ছকটি ফাতহুল মুগীস শরহ আলফিয়্যাতুল হাদীস গ্রন্থ থেকে গৃহীত, পৃষ্ঠা: ৩৭১ (লক্ষ্ণৌর ছাপা)।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনায় তাঁর অবস্থান

📄 সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনায় তাঁর অবস্থান


সর্বাধিক হাদীস-বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আয়েশা রাযি. তালিকায় সবার শেষে আছেন। যেসব সাহাবী তালিকায় শীর্ষে আছেন, তাঁদের অধিকাংশই হযরত আয়েশা রাযি.-এর পরেও জীবিত ছিলেন। তাঁদের হাদীস বর্ণনার ধারা আরও কয়েক বছর অব্যাহত থেকেছে। তা ছাড়া, হযরত আয়েশা রাযি.-এর ব্যাপারে এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে যে, তিনি একজন নারী ছিলেন। সমসাময়িকদের মতো সকল মজলিসে উপস্থিত হতে পারতেন না। শিক্ষানবিশগণও অবাধে তাঁর কাছে পৌঁছতে পারতেন না। ইসলামী জাহানের বড় বড় শহরে সফর করে করে হাদীস বর্ণনা করা তাঁর পক্ষে ছিল অসম্ভব। এই সবগুলো বিষয় বিবেচনা করলে, হাদীসের জগতের সাতটি তারকার মধ্যে তাঁকেই বেশি জ্যোতির্ময় মনে হয়।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা

📄 বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা


উপর্যুক্ত ছক থেকে আমরা জানতে পেরেছি, হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস-সংখ্যা সর্বসাকুল্যে দুই হাজার দুইশো দশটি। এর মধ্যে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে দুইশো ছিয়াশিটি। একশো চুয়াত্তরটি হাদীস উভয় গ্রন্থে এসেছে। চুয়ান্নটি হাদীস এসেছে শুধু সহীহ বুখারীতে এবং আটান্নটি হাদীস এসেছে শুধু সহীহ মুসলিমে। এই হিসেবে সহীহ বুখারীতে তাঁর দুইশো আটাশটি এবং সহীহ মুসলিমে দুইশো বত্রিশটি হাদীস আছে। অবশিষ্ট হাদীসগুলো আছে অন্যান্য গ্রন্থে। ইমাম আহমাদ রহ. তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ মুসনাদ-এর ষষ্ঠ খণ্ডে শুধু হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীসগুলোই এনেছেন, যা মিশরের ছাপা এই সুবিশাল গ্রন্থটির দুইশো তেপ্পান্নটি পৃষ্ঠা বিস্তৃত। যদি হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসগুলোকে আলাদা করা যায়, তা হলে একটি স্বতন্ত্র-সুবিশাল গ্রন্থে পরিণত হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00