📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কুরআন মাজীদ

📄 কুরআন মাজীদ


হযরত আয়েশা রাযি.-এর জীবন ও কর্মের একটি গৌরবময় অঙ্গন হলো ইলম ও ইজতিহাদ-অর্থাৎ ধর্মীয় বিধান-প্রণয়নের গবেষণামূলক প্রয়াস। ইসলামী দুনিয়ার এ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে দৃপ্ত পদচারণা তাঁকে আলাদা মহিমায় করেছে ভাস্বর। এখানে তাঁর বিশিষ্টতা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। কিতাব, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোচনায় এই মহীয়সী মানবীর নাম উচ্চারিত হয় অবলীলায়—হযরত ফারুকে আযম, আলী মুরতাযা, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. প্রমুখের ন্যায় মহিমান্বিত ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে। গুরুত্ব-বিবেচনায় এ আলোচনার সূচনা করছি কিতাবুল্লাহ দিয়ে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কুরআন এবং তাঁর বাল্যকাল

📄 কুরআন এবং তাঁর বাল্যকাল


সবাই জানেন, কুরআন মাজীদ অবতীর্ণ হয়েছে দীর্ঘ তেইশ বছরের ধারাবাহিকতায়। হযরত আয়েশা রাযি. নবুওয়াতপ্রাপ্তি ও কুরআন অবতরণের চতুর্দশ বছরে, নয় বছর বয়সে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে আসেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে তাঁর সহাবস্থানকাল প্রায় দশ বছর। এই বিবেচনায়, কুরআন অবতরণের ধারাবাহিকতার বেশি অর্ধেকই কেটে গিয়েছে তাঁর প্রাথমিক বোধোদয়ের আগেই। কিন্তু এই অসাধারণ মন-মস্তিষ্কের অধিকারিণী এই সময়টাকেও, যা সাধারণত শিশুসুলভ অনবগতি ও খেলাধুলার উদাসীনতায় পার হয়ে যায়, বৃথা যেতে দেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সিদ্দীকে আকবর রাযি.-এর ঘরে যেতেন।' হযরত সিদ্দীকে আকবর রাযি. নিজ গৃহে একটি নামাযগাহ বানিয়েছিলেন। তিনি সেখানে বসে অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে কুরআনের অবতীর্ণ আয়াতগুলো তেলাওয়াত করতেন। এমন উর্বর আলোকময় পরিবেশ থেকে এই অলৌকিক ধারণক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি উপকৃত না হয়ে পারে না। তিনি বলেন, যখন এই আয়াতটি নাজিল হয়:
بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَ أَمَرُ
অর্থ: বরং কেয়ামত তাদেরই প্রতিশ্রুত মহাকাল, যা অতি বিষাদ ও বিষাদময় হয়ে দেখা দেবে। (সূরা কমার, আয়াত: ৪৬)
তখন আমি খেলছিলাম।
হযরত আয়েশা রাযি. তেরো-চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত (৫ম হিজরী) কুরআন মাজীদ খুব বেশি পড়তে পারেননি। তিনি নিজেই বলেছেন,
وَ أَنَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ لَا أَقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ كَثِيرًا
অর্থ: আমি ওই সময় অল্পবয়স্কা ছিলাম, তখনো কুরআন খুব বেশি পড়া হয়নি।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই সময়ও তিনি কুরআনের উদ্ধৃতি দিতেন।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: হিজরত।
২. সহীহ বুখারী: হিজরত।
৩. সহীহ বুখারী: তাফসীর–সূরা কমার।
৪. সহীহ বুখারী: ইফক।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কুরআন মাজীদ লিপিবদ্ধকরণ

📄 কুরআন মাজীদ লিপিবদ্ধকরণ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কুরআন লিখিত আকারে গ্রন্থবদ্ধ হয়নি। হযরত আবু বকর রাযি. স্বীয় শাসনামলেই প্রথম কাগজে বিন্যস্ত করেন। অবশ্য অন্যান্য সাহাবীগণও দৈনিক তেলাওয়াতের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ নিজ পদ্ধতিতে কুরআন বিন্যাসে মনোযোগী হয়েছিলেন। এগুলোর মধ্যে অন্য কোনো মৌলিক ভিন্নতা ছিল না। শুধু সূরাসমূহের পর্যায়ক্রমিক (সিরিয়ালে) তারতম্য ছিল।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 মুসহাফে আয়েশা রাযি.

📄 মুসহাফে আয়েশা রাযি.


আবু ইউনুস ছিলেন হযরত আয়েশা রাযি.-এর গোলাম।' তিনি লিপিশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. তার হাতেই নিজের মুসহাফ লিখিয়েছিলেন।² অনারবদের আধিক্যের কারণে, কেরাতের ভিন্নতার প্রভাব ইরাকেই পড়ে সবচেয়ে বেশি। ইরাক থেকে একজন ব্যক্তি হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং আবেদন করেন, উম্মুল মুমিনীন, আমাকে আপনার মুসহাফ শরীফ যদি দেখাতেন।³ কারণ জানতে চাইলে লোকটি বললেন, আমাদের ওখানে এখনো কুরআন মাজীদ সুবিন্যস্ত নয়। আমার ইচ্ছা, আমার মুসহাফটি আপনার মুসহাফের সঙ্গেই মিলিয়ে নেব। তিনি বললেন, সূরা আগে পরে হলে কোনো সমস্যা হয় না। এরপর তিনি নিজ মুসহাফের সূরাবিন্যাসের অনুলিপি প্রদান করলেন।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৭৩।
২. সহীহ বুখারী: তাফসীর-সূরা বাকারা। মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৭৩।
৩. সহীহ বুখারী: বাব-জামউল কুরআন।
৪. সহীহ বুখারী: বাব-তালিফুল কুরআন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00