📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 জ্ঞানের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব

📄 জ্ঞানের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব


জ্ঞানগত দিক থেকে শুধু নারীদের ওপর, কিংবা উম্মাহাতুল মুমিনীনের ওপর, কিংবা অল্প কিছু সাহাবীর ওপর নয়; বরং হাতেগোনা দু-একজন ছাড়া সকল সাহাবা কেরামের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ছিল সর্বজনস্বীকৃত। সহীহ তিরমিযীতে হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. থেকে বর্ণিত,
مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيْثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا
অর্থ: আমাদের, সাহাবীগণের কাছে কোনো হাদীস অস্পষ্ট লাগলে, আমরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর শরণাপন্ন হতাম। তাঁর কাছে অবশ্যই কোনো না কোনো ধারণা পাওয়া যেত।'
আতা ইবনে আবি রাবাহ রহ. অসংখ্য সাহাবীর ছাত্রত্ব লাভে ধন্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন,
كَانَتْ عَائِشَةُ أَفْقَهَ النَّاسِ وَ أَعْلَمَ النَّاسِ وَ أَحْسَنَ رَأْيًا فِي الْعَامَّةِ
অর্থ: একজন ভালো ফকীহ এবং ভালো আলেম হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন হযরত আয়েশা রাযি.। তাঁর মতামত জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পেত সবচেয়ে বেশি।'
ইমাম যুহরী রহ. তাবেঈদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন। অনেক বড় বড় সাহাবীর সাহচর্য-লাভে ধন্য হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন,
كَانَتْ عَائِشَةُ أَعْلَمَ النَّاسِ يَسْأَلُهَا الْأَكَابِرُ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: সবচেয়ে ভালো জ্ঞান ছিল হযরত আয়েশা রাযি.-এর। বড় বড় সাহাবীগণ তাঁর কাছে জানতে চাইতেন।'
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.-এর সাহেবজাদা আবু সালামা রহ. অনেক বড় মাপের তাবেঈ ছিলেন। তিনি বলেন,
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِسُنَنِ رَسُوْلِ اللَّهِ وَ لَا أَفْقَهَ فِي رَأْيِ إِنِ احْتُيجَ إِلَى رَأْيِهِ وَ لَا أَعْلَمَ بِآيَةٍ فِيْمَا نَزَلَتْ وَ لَا فَرِيْضَةٍ مِنْ عَائِشَةَ
অর্থ: আমি কিতাব, সুন্নাহ, ফিকহ ও ফারায়েযের জ্ঞানে সবচে পাণ্ডিত্য দেখেছি হযরত আয়েশা রাযি.-এর।'
একদিন আমীর মুআবিয়া রাযি. জনৈক দরবারিকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন যারা আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে? লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, সত্য বলো; চাটুকারিতা কোরো না। লোকটি বলল, যদি তা-ই হয়, তা হলে হযরত আয়েশা [রাযি.]।
হাওয়ারিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কলিজার টুকরা হযরত উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের রাযি. বলেন,
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِالْحَلَالِ وَ الْحَرَامِ، وَ الْعِلْمِ وَ الشَّعْرِ وَالطَّبِّ مِنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: আমি হালাল-হারামের জ্ঞানে, কবিত্ববোধ ও চিকিৎসাবিদ্যার পাণ্ডিত্যে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে অগ্রবর্তিনী কাউকে দেখিনি।'
অন্য একটি বর্ণনায় কথাগুলো এভাবে আছে:
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِالْقُرْآنِ وَ لَا بِفَرِيضَةٍ وَ لَا بِفِقْهِ وَ لَا بِشِعْرٍ وَ لَا بِطِبٌ وَلَا بِحَدِيْثِ الْعَرَبِ وَ لَا نَسَبٍ مِّنْ عَائِشَةَ
অর্থ: আমি কুরআন, ফারায়েয, হালাল, ফিকহ, কবিতা, চিকিৎসা, বংশনামায় হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।'
তাবেঈ মাসরুক হযরত আয়েশা রাযি.-এর পরিপূর্ণ সোহবত লাভ করেছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হযরত আয়েশা রাযি. কি ফারায়েয সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতেন? মাসরুক বললেন,
إِيْ، وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ رَأَيْتُ مَشِيْحَةَ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللَّهِ يَسْأَلُوْنَهَا عَنِ الْفَرَائِضِ
অর্থ: আল্লাহর কসম, আমি বড় বড় সাহাবীকেও তাঁর কাছে ফারায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে দেখেছি।'
হাদীস-সংরক্ষণ ও হাদীসের প্রচার-প্রসারে অন্যান্য স্ত্রীগণও ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁদের কেউই হযরত আয়েশা রাযি.-এর মর্যাদাকে ছুঁতে পারেননি। মাহমুদ ইবনে লাবিদ বলেন,
كَانَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ يَحْفَظْنَ مِنْ حَدِيْثِ النَّبِيِّ كَثِيرًا وَ لَا مِثْلَ لِعَائِشَةَ وَ أُمِّ سَلَمَةَ
অর্থ: পবিত্র স্ত্রীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীস সংরক্ষণ করতেন। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. এবং হযরত উম্মে সালামা রাযি.-এর মতো নয়।
ইমাম যুহরী রহ. বলেন,
لَوْ جُمِعَ عِلْمُ النَّاسِ كُلِّهِمْ وَ عِلْمُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ فَكَانَتْ عَائِشَةُ أَوْسَعَهُمْ عِلْمًا
অর্থ: যদি সকল মানুষের জ্ঞান এবং পবিত্র স্ত্রীগণের জ্ঞান একত্রিত করা হয়, তা হলে হযরত আয়েশা রাযি.-এর জ্ঞান সবচে বেশি হবে।'
কোনো কোনো মুহাদ্দিস হযরত আয়েশা রাযি.-এর ফজিলত বর্ণনা করতে নিম্নোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
خُذُوْا شَطْرَ دِيْنَكُمْ مِنَ الْحُمَيْرَاءِ
অর্থ: তোমরা তোমাদের ধর্মের একটি বড় অংশ গ্রহণ করো হুমায়রার কাছ থেকে।
হাদীসটি ইবনে আসির নেহায়াহ গ্রন্থে এবং ফেরদাউস মুসনাদে (সামান্য শব্দভেদসহ) বর্ণনা করেছেন। তবে সনদ সহীহ নয়। হাদীসটি মাওযুআতেরই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।' কিন্তু অর্থের বিচারে এর শুদ্ধতা নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই।

টিকাঃ
২. জামে তিরমিযী: মানাকেবে আয়েশা রাযি.।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম।
১. তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় জুয, ২য় কিসম, পৃষ্ঠা: ৬২।
২. তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় জুয, ২য় কিসম, পৃষ্ঠা: ৬২।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম।
১. মুসতাদরাকে হাকেম।
২. যুরকানি: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৭। হাকেম ও তাবারানির সূত্রে। সনদ সহীহ।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম। তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৬।
৪. তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৬।
১. মুসতাদরাকে হাকেম।
২. মাওযুয়াতে শাওকানি, পৃষ্ঠা: ১৩৫। মাজমাউল বিহার, পৃষ্ঠা: ৫১৪। মাকাসিদে হাসানাহ, পৃষ্ঠা: ৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00