📄 অভাবী ও ফকির-মিসকিন : আলাদা আচার-ব্যবহার
অভাবী ও ফকির-মিসকিনের সঙ্গে অবস্থান ও মর্যাদাভেদে আলাদা আচার ব্যবহার করা উচিত। যদি কোনো নীচু পর্যায়ের ফকির বা মিসকিন আসে, তা হলে শুধু কিছু দিলেই সে খুশি। কিন্তু যদি এমন কোনো অভাবী ও প্রয়োজনগ্রস্ত আসে, যে ফকির-মিসকিনের মতো অত নীচু নয়; যদিও চেয়ে-মেঙ্গেই দিন চলে, তা হলে প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি একটু সম্মানেরও ব্যাপার থাকে। হযরত আয়েশা রাযি. এই বিষয়টিও লক্ষ রাখতেন। একবার এক ভিক্ষুক এল। তিনি এক টুকরো রুটি দিলেন। সে চলে গেল। একটু পর আরেকজন লোক এল। গায়ে কাপড়চোপড় ছিল। চলনে-বলনে মনে হচ্ছিল, একরকম সম্মানবোধ আছে। হযরত আয়েশা রাযি. তাকে বসালেন, খানা খাওয়ালেন, এরপর বিদায় করলেন। কেউ জিজ্ঞেস করল, দুজনেই তো ফকির; কিন্তু দুজনের সঙ্গে দুরকম আচরণ কেন করলেন? তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মর্যাদার দিকে লক্ষ রেখে আচার ব্যবহার করবে।
টিকাঃ
৩. আবু দাউদ: كتاب الأدب
📄 পর্দার প্রতি গুরুত্ব
তিনি পর্দার ব্যাপারে অনেক যত্নশীল ছিলেন। পর্দার আয়াত নাজিল হওয়ার পর থেকে পর্দা করা ফরজ হয়ে যায়।' তাই যেই সব শিশুদের বড় হয়ে তালীম তারবিয়াতের জন্য তাঁর কাছে অবাধে আসা-যাওয়ার প্রয়োজন হবে বলে মনে করতেন, তাদেরকে কোনো মাহরাম নারীকে দিয়ে দুধ পান করাতেন। এভাবে তিনি তাদের দুধখালা, দুধনানী ইত্যাদি হতেন; ফলে তাদের সঙ্গে বিশেষভাবে পর্দা করার প্রয়োজন হতো না। এছাড়া অন্যান্য তালিবুল ইলমগণের সঙ্গে কঠোরভাবে পর্দা রক্ষা করতেন। দরসে মধ্যখানে পর্দা ঝুলিয়ে রাখতেন। একবার হজের সফরে কয়েকজন বিবি সঙ্গে ছিলেন। কেউ বললেন, উম্মুল মুমিনীন, চলুন, হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করি। তিনি বললেন, আপনি যেতে পারেন, পুরুষদের ভিড়ে আমি ঢুকব না। কখনো দিনের বেলা তাওয়াফ করতে হলে খানায়ে কাবা থেকে পুরুষদেরকে সরিয়ে দেওয়া হতো। একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাওয়াফরত অবস্থায়ও তিনি মুখমণ্ডলে নেকাব পরে থাকতেন। তিনি একটি গোলামকে মুকাতাব করেছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যখন মুকাতাবা চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলবে, তখন তো তোমার সামনে আর আসতে পারব না। তাবেঈ ইসহাক অন্ধ ছিলেন। তিনি একবার খেদমতে হাজির হলেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর সঙ্গেও পর্দা করলেন। ইসহাক বললেন, আমার সঙ্গেও পর্দা করতে হবে? আমি তো আপনাকে দেখতে পাব না। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, তুমি দেখতে পাবে না; কিন্তু আমি তো দেখতে পাব।' শরীয়তে মুর্দাদের থেকে পর্দা করতে হয় না। কিন্তু তাঁর সতর্কতা দেখুন, হযরত উমর রাযি.-এর দাফনের পর থেকে হুজরায় কখনো বেপর্দা অবস্থায় যেতেন না।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : ا ذكر افك
২. সহীহ মুসলিম : كتاب الرضاعة ,মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭১।
৩. এ পদ্ধতি শুধু হযরত আয়েশা রাযি.-ই অবলম্বন করেছিলেন। পবিত্র স্ত্রীগণের আর কেউ এমন করেননি। একটি হাদীসের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এমন করতেন। সামনে ফিকহের ইখতেলাফি মাসায়েলের কোনো পাদটীকায় এ সংক্রান্ত আলোচনা আসবে।
৪. সহীহ বুখারী : ا كتاب الحج ، باب طواف النساء
৫. সহীহ বুখারী : ا كتاب الحج ، باب طواف النساء
৬. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৭।
৭. أخبار مكة للازرقي ২য় খণ্ড, ১০ নং পৃষ্ঠা। মক্কা মুআযযামা।
৮. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫।
১. তাবাকাতে ইবনে সাদ, পৃষ্ঠা: ৪৭।
📄 মানাকেব : বিশেষ মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাজাইলে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَنَا تَارِكٌ فِيْكُمُ الثَّقَلَيْنِ كِتَابَ اللَّهِ .... وَ أَهْلَ بَيْتِي.
আমি তোমাদের জন্য মহামূল্যবান দুটো বস্তু রেখে যাচ্ছি, আল্লাহর কিতাব এবং আমার 'আহলে বাইত'।
নিঃসন্দেহে কুরআন পুরো জীবনব্যবস্থার সহজ ও সামগ্রিক পথনির্দেশ। ইসলামের সরল পথে জীবনকে পরিচালিত করতে সবকিছুর কর্মভিত্তিক দৃষ্টান্ত থাকা আবশ্যক নয়। কিন্তু তারপরও পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ থাকা প্রয়োজন যারা ঐশী বাণীর নিগূঢ় তাৎপর্য তুলে ধরতে পারেন, সূক্ষ্ম ভেদ ও রহস্য উন্মোচন করতে পারেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবর্তমানে আমরা এই মহামহিম মানুষগুলোকে পাব তাঁরই 'আহলে বাইত'-এর মধ্যে। আহলে বাইত কারা? সেটাও সূরা আহযাবের বেশ কিছু আয়াতে বিধৃত। আমরা সে আয়াতগুলো পূর্বে আলোচনা করেছি।
হযরত আয়েশা রাযি.-এর মর্যাদা ও মাহাত্ম্যকে বিশেষ মূল্যায়নে বিশিষ্ট করেছেন স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নববী সান্নিধ্যে তিনি যে পরিচর্যা লাভ করেছেন তা আর কারও ভাগ্যে জোটেনি। তাঁর আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ প্রতিভা ও যোগ্যতা সর্বজনবিদিত। এই বিবেচনায় কারও কোনোও দ্বিমত থাকার কথা নয় যে, আহলে বাইতের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে হযরত আয়েশা রাযি. বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত। সুতরাং কিতাব ও সুন্নাহর ব্যাখ্যায়, মুসলিম আইন ও বিধানের বিশ্লেষণে তাঁর চেয়ে অগ্রগণ্য আর কে হতে পারে? তা ছাড়া তিনি যত কাছে থেকে রাসূলকে দেখেছেন তা আর কারও পক্ষেই সম্ভব হয়নি। এজন্যই ঐশী' প্রত্যাদেশের অনবদ্য সিদ্ধান্ত:
فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الْتَرِيْدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
সকল নারীর ওপর আয়েশার মর্যাদা তেমন, সকল খাদ্যের ওপর সারিদের মর্যাদা যেমন।
স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রুয়াতে সাদেকায় (সত্য স্বপ্নযোগে) হযরত আয়েশা রাযি.-এর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন। হযরত আয়েশা রাযি. ছাড়া আর কোনো উম্মুল মুমিনীনের বিছানায় ওহী নাজিল হয়নি। জিবরীল আমিন আ. তাঁর হুজরা মোবারকে করুণার বারিধারা নিয়ে এসেছেন। চর্মচক্ষেই তিনি দুবার নামুসে আকবারকে দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। স্বয়ং আল্লাহ তাঁর পবিত্রতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইলহামে সাদেকের মাধ্যমে (ঐশী অনুপ্রেরণার আলোকে) আখেরাতে রাসূলের প্রিয়তমা হওয়ার সুসংবাদ পেয়েছেন।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, গর্ব করার জন্য নয়; ঘটনা বর্ণনার জন্য বলছি, আল্লাহ আমাকে এমন নয়টি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যা পৃথিবীতে আর কাউকে দান করেননি। স্বপ্নে ফেরেশতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আমার আকৃতি তুলে ধরেছিলেন। যখন আমার বয়স মাত্র সাত বছর তখন তিনি আমাকে বিবাহ করেছেন। যখন আমার বয়স নয় বছর তখন আমি তাঁর ঘরে এসেছি। আমিই তাঁর একমাত্র কুমারী বিবি। তিনি আমার বিছানায় থাকাকালেও তাঁর ওপর ওহী নাজিল হয়েছে। আমি তাঁর সবচে প্রিয় বিবি ছিলাম। আমার শানে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে। আমি নিজের চোখে জিবরীল আ.-কে দেখেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে মাথা রেখেই মৃত্যুবরণ করেছেন।'
টিকাঃ
১. وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى [سورة النجم : 43] অর্থ : তিনি কোনো কিছুই নিজের ইচ্ছায় বলেন না; তিনি যা বলেন তাই ওহী, (ঐশী প্রত্যাদেশ)...
২. সহীহ বুখারী, তিরমিযী : مناقب عائشة رض
৩. সহীহ বুখারী, তিরমিযী : مناقب عائشة رض
৪. সহীহ বুখারী : مناقب عائشة رض
৫. সহীহ বুখারী : مناقب عائشة رض
৬. সহীহ বুখারী : مناقب عائشة رض
১. মুসতাদরাকে হাকেম। তাবাকাতে ইবনে সাদ।
📄 জ্ঞানের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব
জ্ঞানগত দিক থেকে শুধু নারীদের ওপর, কিংবা উম্মাহাতুল মুমিনীনের ওপর, কিংবা অল্প কিছু সাহাবীর ওপর নয়; বরং হাতেগোনা দু-একজন ছাড়া সকল সাহাবা কেরামের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ছিল সর্বজনস্বীকৃত। সহীহ তিরমিযীতে হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. থেকে বর্ণিত,
مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيْثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا
অর্থ: আমাদের, সাহাবীগণের কাছে কোনো হাদীস অস্পষ্ট লাগলে, আমরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর শরণাপন্ন হতাম। তাঁর কাছে অবশ্যই কোনো না কোনো ধারণা পাওয়া যেত।'
আতা ইবনে আবি রাবাহ রহ. অসংখ্য সাহাবীর ছাত্রত্ব লাভে ধন্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন,
كَانَتْ عَائِشَةُ أَفْقَهَ النَّاسِ وَ أَعْلَمَ النَّاسِ وَ أَحْسَنَ رَأْيًا فِي الْعَامَّةِ
অর্থ: একজন ভালো ফকীহ এবং ভালো আলেম হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন হযরত আয়েশা রাযি.। তাঁর মতামত জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পেত সবচেয়ে বেশি।'
ইমাম যুহরী রহ. তাবেঈদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন। অনেক বড় বড় সাহাবীর সাহচর্য-লাভে ধন্য হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন,
كَانَتْ عَائِشَةُ أَعْلَمَ النَّاسِ يَسْأَلُهَا الْأَكَابِرُ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: সবচেয়ে ভালো জ্ঞান ছিল হযরত আয়েশা রাযি.-এর। বড় বড় সাহাবীগণ তাঁর কাছে জানতে চাইতেন।'
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.-এর সাহেবজাদা আবু সালামা রহ. অনেক বড় মাপের তাবেঈ ছিলেন। তিনি বলেন,
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِسُنَنِ رَسُوْلِ اللَّهِ وَ لَا أَفْقَهَ فِي رَأْيِ إِنِ احْتُيجَ إِلَى رَأْيِهِ وَ لَا أَعْلَمَ بِآيَةٍ فِيْمَا نَزَلَتْ وَ لَا فَرِيْضَةٍ مِنْ عَائِشَةَ
অর্থ: আমি কিতাব, সুন্নাহ, ফিকহ ও ফারায়েযের জ্ঞানে সবচে পাণ্ডিত্য দেখেছি হযরত আয়েশা রাযি.-এর।'
একদিন আমীর মুআবিয়া রাযি. জনৈক দরবারিকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন যারা আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে? লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, সত্য বলো; চাটুকারিতা কোরো না। লোকটি বলল, যদি তা-ই হয়, তা হলে হযরত আয়েশা [রাযি.]।
হাওয়ারিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কলিজার টুকরা হযরত উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের রাযি. বলেন,
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِالْحَلَالِ وَ الْحَرَامِ، وَ الْعِلْمِ وَ الشَّعْرِ وَالطَّبِّ مِنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: আমি হালাল-হারামের জ্ঞানে, কবিত্ববোধ ও চিকিৎসাবিদ্যার পাণ্ডিত্যে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে অগ্রবর্তিনী কাউকে দেখিনি।'
অন্য একটি বর্ণনায় কথাগুলো এভাবে আছে:
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ بِالْقُرْآنِ وَ لَا بِفَرِيضَةٍ وَ لَا بِفِقْهِ وَ لَا بِشِعْرٍ وَ لَا بِطِبٌ وَلَا بِحَدِيْثِ الْعَرَبِ وَ لَا نَسَبٍ مِّنْ عَائِشَةَ
অর্থ: আমি কুরআন, ফারায়েয, হালাল, ফিকহ, কবিতা, চিকিৎসা, বংশনামায় হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।'
তাবেঈ মাসরুক হযরত আয়েশা রাযি.-এর পরিপূর্ণ সোহবত লাভ করেছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হযরত আয়েশা রাযি. কি ফারায়েয সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতেন? মাসরুক বললেন,
إِيْ، وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ رَأَيْتُ مَشِيْحَةَ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللَّهِ يَسْأَلُوْنَهَا عَنِ الْفَرَائِضِ
অর্থ: আল্লাহর কসম, আমি বড় বড় সাহাবীকেও তাঁর কাছে ফারায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে দেখেছি।'
হাদীস-সংরক্ষণ ও হাদীসের প্রচার-প্রসারে অন্যান্য স্ত্রীগণও ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁদের কেউই হযরত আয়েশা রাযি.-এর মর্যাদাকে ছুঁতে পারেননি। মাহমুদ ইবনে লাবিদ বলেন,
كَانَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ يَحْفَظْنَ مِنْ حَدِيْثِ النَّبِيِّ كَثِيرًا وَ لَا مِثْلَ لِعَائِشَةَ وَ أُمِّ سَلَمَةَ
অর্থ: পবিত্র স্ত্রীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীস সংরক্ষণ করতেন। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. এবং হযরত উম্মে সালামা রাযি.-এর মতো নয়।
ইমাম যুহরী রহ. বলেন,
لَوْ جُمِعَ عِلْمُ النَّاسِ كُلِّهِمْ وَ عِلْمُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ فَكَانَتْ عَائِشَةُ أَوْسَعَهُمْ عِلْمًا
অর্থ: যদি সকল মানুষের জ্ঞান এবং পবিত্র স্ত্রীগণের জ্ঞান একত্রিত করা হয়, তা হলে হযরত আয়েশা রাযি.-এর জ্ঞান সবচে বেশি হবে।'
কোনো কোনো মুহাদ্দিস হযরত আয়েশা রাযি.-এর ফজিলত বর্ণনা করতে নিম্নোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
خُذُوْا شَطْرَ دِيْنَكُمْ مِنَ الْحُمَيْرَاءِ
অর্থ: তোমরা তোমাদের ধর্মের একটি বড় অংশ গ্রহণ করো হুমায়রার কাছ থেকে।
হাদীসটি ইবনে আসির নেহায়াহ গ্রন্থে এবং ফেরদাউস মুসনাদে (সামান্য শব্দভেদসহ) বর্ণনা করেছেন। তবে সনদ সহীহ নয়। হাদীসটি মাওযুআতেরই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।' কিন্তু অর্থের বিচারে এর শুদ্ধতা নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই।
টিকাঃ
২. জামে তিরমিযী: মানাকেবে আয়েশা রাযি.।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম।
১. তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় জুয, ২য় কিসম, পৃষ্ঠা: ৬২।
২. তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় জুয, ২য় কিসম, পৃষ্ঠা: ৬২।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম।
১. মুসতাদরাকে হাকেম।
২. যুরকানি: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৭। হাকেম ও তাবারানির সূত্রে। সনদ সহীহ।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম। তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৬।
৪. তাবাকাতে ইবনে সাদ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৬।
১. মুসতাদরাকে হাকেম।
২. মাওযুয়াতে শাওকানি, পৃষ্ঠা: ১৩৫। মাজমাউল বিহার, পৃষ্ঠা: ৫১৪। মাকাসিদে হাসানাহ, পৃষ্ঠা: ৯৪।