📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 অতত্বি

📄 অতত্বি


নারীত্ব এবং অল্পেতুষ্টি, এখন যেন দুই মেরুর দুই বিপরীতমুখী বস্তু। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দোজখে নারীদেরকেই বেশি দেখেছি। কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, তারা জীবনসঙ্গীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর মধ্যে এই দুই গুণেরই সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি দাম্পত্যজীবন কতটা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছিলেন, তার একটা স্বচ্ছ ধারণা আগের অধ্যায়গুলোতে এসেছে। কিন্তু তিনি কখনোই অভিযোগ বা অনুযোগ করেননি। জমকালো জামা, দামি গয়না, বড় বাড়ি, রকমারি খাবার কিছুই পাননি স্বামী- সংসারে। অথচ চোখের সামনে গনিমতের মাল বন্যার ঢলের মতো এসেছে এবং গিয়েছে। তারপরও কিছু চাননি। চাওয়া তো দূর; কামনাও করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর একবার হযরত আয়েশা রাযি. আহার করতে চাইলেন, এরপর বললেন, আমি কখনোই তৃপ্তিভরে খেতে পারি না; আমার কান্না পায়। জনৈক শাগরেদ জিজ্ঞেস করলেন, কেন, মাতা? তিনি বললেন, মনে পড়ে, কী অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, কখনোই এমন হয়নি যে, তিনি পেট পুরে দু'বেলা গোশত-রুটি আহার করেছেন।'
আল্লাহ তাআলা হযরত আয়েশা রাযি.-কে সন্তান-সন্ততি থেকেও বঞ্চিত রেখেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মুসলমানদের শিশুদের, বিশেষ করে-এতিম শিশুদের নিয়ে লালন-পালন করতেন; তাদের শিক্ষা- দীক্ষার ব্যবস্থা করতেন; বিবাহ-শাদি দিতেন; এবং এমন একটা সাদামাটা সহজ-সরল জীবনেই তুষ্ট থাকতেন।'

টিকাঃ
১. তিরমিযী: যুহদ।
২. দেখুন, মুয়াত্তা মালেক রহ. কিতাবুয যাকাত।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সমশ্রেণির সহযোগিতা

📄 সমশ্রেণির সহযোগিতা


মহান আল্লাহ হযরত আয়েশা রাযি.-কে নববী-নীড়ের মালিকা ও গৃহকর্ত্রী বানিয়েছিলেন। এই জীবনবোধ ও অনুভূতি তাঁর অন্তরে স্থিত হয়েছিল। তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন নারীসমাজের দায়িত্ববান প্রতিনিধির ভূমিকায়। নারীসমাজের আনাগোনা ছিল তাঁর কাছে। তাদের আবদার, অভিযোগ, প্রয়োজন, সমস্যা—উত্থাপিত হতো তাঁর কাছে। মূলত তিনি ছিলেন নারীসমাজে নববী নূরের প্রতিফলনে স্বচ্ছ সুন্দর প্রতিবিম্ব।'

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৬। সহীহ বুখারী, পৃষ্ঠা: ৩৬১ | باب شهادة القاذف |

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 স্বামীর আনুগত্য

📄 স্বামীর আনুগত্য


হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও নির্দেশপালন এবং তাঁর সুখ ও সন্তুষ্টির কথা ভেবে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা তটস্থ থাকতেন। নবীজীর চোখেমুখে বিন্দুমাত্রও কষ্টের ছাপ, অসন্তোষের ভাব বা দুশ্চিন্তা সহ্য করতে পারতেন না। এমনকি, অস্থির হয়ে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়-স্বজনদের এত গুরুত্ব দিতেন যে, কখনো তাদের কোনো কথা ফেলতেন না। একবার তিনি অভিমান করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি.-এর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার শপথ করে বসেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতুল পক্ষের আত্মীয়দের কথা রাখতে তাঁকে সেই শপথ ভাঙতে হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত কাজে কর্মেও তাঁর গুরুত্ববোধ ছিল অনেক বেশি। তিনি কখনোই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কথা খণ্ডন করতেন না, কথার ওপর কথা বলতেন না।

টিকাঃ
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১। মুসনাদ ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫। মুসনাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৮। সহীহ বুখারী: হযরত জাফর রাযি.-এর মৃত্যুশোকের আলোচনা, باب مناقب قریش
৩. সহীহ বুখারী: باب مناقب قریش |
৪. সহীহ বুখারী: باب الاعتصام بالسنة |

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 গীবত ও অন্যের দোষচর্চা থেকে বেঁচে থাকা

📄 গীবত ও অন্যের দোষচর্চা থেকে বেঁচে থাকা


তিনি কখনো কারও ক্ষতি করতেন না। দোষচর্চা করতেন না। তাঁর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কয়েক হাজার। কিন্তু এত বড় সংগ্রহশালায় কারও প্রতি অবজ্ঞামূলক একটি অক্ষরও নেই। সতিনদের দোষচর্চা করা নারীর সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু আমরা দেখেছি তিনি কত উদার মনোভাব নিয়ে সতিনদের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতেন। কত প্রসন্ন বদনে তাঁদের মহত্ত্ব-বড়ত্বের আলোচনা করতেন। হযরত হাসান রাযি. অপবাদ আরোপের ফেতনা থেকে আত্মরক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনিও সুর মিলিয়েছিলেন অবাঞ্ছিত কপটশ্রেণির সঙ্গে। যে কেউ বুঝবেন হযরত আয়েশা রাযি. তার এহেন আচরণে কতটা ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছিলেন। অথচ এই হাসান রাযি.-ই হযরত আয়েশা রাযি.-এর মজলিসে আসতেন এবং তিনি সানন্দে তাকে জায়গা করে দিতেন। একবার হযরত হাসান রাযি. এলেন এবং স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন। কবিতাপঙক্তির একাংশের ভাবার্থ ছিল : তিনি কখনো কোনো সহজ-সরল নারীর দোষচর্চা করেন না। এ কথা শুনে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ইফকের ঘটনা মনে পড়ে যায়; তিনি শুধু এটুকুই বললেন, 'কিন্তু হে হাসান, তুমি তো এমন ছিলে না।' তাঁর কাছের কিছু মানুষ অপবাদ আরোপের ঘটনায় জড়িত থাকায় হযরত হাসসান রাযি.-কে দেখতে পারতেন না। তারা দু-একবার তাঁকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করতে চাইলে হযরত আয়েশা রাযি. খুবই কঠোরভাবে বাধা দেন এবং বলেন, তাকে মন্দ বোলো না, সেই তো তার কবিপ্রতিভায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কাফের-মুশরিকদের সমালোচনার দাঁতভাঙা জবাব দিত।
একবার জনৈক ব্যক্তির আলোচনা চলছিল। লোকটির প্রতি তাঁর অসন্তোষ লক্ষ করা গেল। লোকেরা বলল, উম্মুল মুমিনীন, তার ইন্তেকাল হয়ে গেছে। এ কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে তার রুহের মাগফেরাতের দুআ করলেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনাকে তো তার প্রতি অসন্তুষ্ট মনে হলো; অথচ তার জন্য দুআ করলেন? তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা মারা গেছে, তাদের শুধু গুণই স্মরণ করো, কখনো দোষ স্মরণ কোরো না।'

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: ইফকের ঘটনা, তাফসীর- সূরা নূর।
২. সহীহ বুখারী: মানাকিবে হাসান রাযি.।
১. তয়ালিসি: মুসনাদে আয়েশা রাযি.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00