📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 স্বভাব-প্রকৃতি ও আচার-ব্যবহার

📄 স্বভাব-প্রকৃতি ও আচার-ব্যবহার


উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. শৈশব থেকে শুরু করে পরিণত বয়স পর্যন্ত পুরো সময়টাই অতিবাহিত করেছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সত্তার সান্নিধ্য-শোভায়, পৃথিবীতে যাঁর আগমন হয়েছিল উত্তম চরিত্রের ফুলকলিকে বিকশিত করতে, যাঁর স্বভাব-সৌন্দর্য ও চরিত্রমাধুরী স্বয়ং আল-কুরআন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
অর্থ: নিশ্চয় আপনি মহৎ চরিত্রবৈশিষ্ট্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত। (সূরা কলাম, আয়াত: ৪)
নববী-নীড়ের আত্মিক দীক্ষা নিঃসন্দেহে বিদুষী মাতাকে উন্নত চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখর অবলোকন করিয়েছিল, যা মানবাত্মার উন্নতির চূড়ান্ত পর্যায়। সেই সৌন্দর্য ও সুঘ্রাণই তাঁকে বিমোহিত করেছে। তিনিও হয়েছেন বিকশিত। এজন্যই তিনি ছিলেন বিদুষী, বিবেচক, বদান্য, অল্পেতুষ্ট, আবেদা এবং মহৎ।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 অতত্বি

📄 অতত্বি


নারীত্ব এবং অল্পেতুষ্টি, এখন যেন দুই মেরুর দুই বিপরীতমুখী বস্তু। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দোজখে নারীদেরকেই বেশি দেখেছি। কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, তারা জীবনসঙ্গীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর মধ্যে এই দুই গুণেরই সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি দাম্পত্যজীবন কতটা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছিলেন, তার একটা স্বচ্ছ ধারণা আগের অধ্যায়গুলোতে এসেছে। কিন্তু তিনি কখনোই অভিযোগ বা অনুযোগ করেননি। জমকালো জামা, দামি গয়না, বড় বাড়ি, রকমারি খাবার কিছুই পাননি স্বামী- সংসারে। অথচ চোখের সামনে গনিমতের মাল বন্যার ঢলের মতো এসেছে এবং গিয়েছে। তারপরও কিছু চাননি। চাওয়া তো দূর; কামনাও করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর একবার হযরত আয়েশা রাযি. আহার করতে চাইলেন, এরপর বললেন, আমি কখনোই তৃপ্তিভরে খেতে পারি না; আমার কান্না পায়। জনৈক শাগরেদ জিজ্ঞেস করলেন, কেন, মাতা? তিনি বললেন, মনে পড়ে, কী অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, কখনোই এমন হয়নি যে, তিনি পেট পুরে দু'বেলা গোশত-রুটি আহার করেছেন।'
আল্লাহ তাআলা হযরত আয়েশা রাযি.-কে সন্তান-সন্ততি থেকেও বঞ্চিত রেখেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মুসলমানদের শিশুদের, বিশেষ করে-এতিম শিশুদের নিয়ে লালন-পালন করতেন; তাদের শিক্ষা- দীক্ষার ব্যবস্থা করতেন; বিবাহ-শাদি দিতেন; এবং এমন একটা সাদামাটা সহজ-সরল জীবনেই তুষ্ট থাকতেন।'

টিকাঃ
১. তিরমিযী: যুহদ।
২. দেখুন, মুয়াত্তা মালেক রহ. কিতাবুয যাকাত।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সমশ্রেণির সহযোগিতা

📄 সমশ্রেণির সহযোগিতা


মহান আল্লাহ হযরত আয়েশা রাযি.-কে নববী-নীড়ের মালিকা ও গৃহকর্ত্রী বানিয়েছিলেন। এই জীবনবোধ ও অনুভূতি তাঁর অন্তরে স্থিত হয়েছিল। তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন নারীসমাজের দায়িত্ববান প্রতিনিধির ভূমিকায়। নারীসমাজের আনাগোনা ছিল তাঁর কাছে। তাদের আবদার, অভিযোগ, প্রয়োজন, সমস্যা—উত্থাপিত হতো তাঁর কাছে। মূলত তিনি ছিলেন নারীসমাজে নববী নূরের প্রতিফলনে স্বচ্ছ সুন্দর প্রতিবিম্ব।'

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৬। সহীহ বুখারী, পৃষ্ঠা: ৩৬১ | باب شهادة القاذف |

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 স্বামীর আনুগত্য

📄 স্বামীর আনুগত্য


হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও নির্দেশপালন এবং তাঁর সুখ ও সন্তুষ্টির কথা ভেবে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা তটস্থ থাকতেন। নবীজীর চোখেমুখে বিন্দুমাত্রও কষ্টের ছাপ, অসন্তোষের ভাব বা দুশ্চিন্তা সহ্য করতে পারতেন না। এমনকি, অস্থির হয়ে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়-স্বজনদের এত গুরুত্ব দিতেন যে, কখনো তাদের কোনো কথা ফেলতেন না। একবার তিনি অভিমান করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি.-এর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার শপথ করে বসেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতুল পক্ষের আত্মীয়দের কথা রাখতে তাঁকে সেই শপথ ভাঙতে হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত কাজে কর্মেও তাঁর গুরুত্ববোধ ছিল অনেক বেশি। তিনি কখনোই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কথা খণ্ডন করতেন না, কথার ওপর কথা বলতেন না।

টিকাঃ
২. মুসনাদে আহমাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১। মুসনাদ ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫। মুসনাদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৮। সহীহ বুখারী: হযরত জাফর রাযি.-এর মৃত্যুশোকের আলোচনা, باب مناقب قریش
৩. সহীহ বুখারী: باب مناقب قریش |
৪. সহীহ বুখারী: باب الاعتصام بالسنة |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00