📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত যুবায়ের রাযি.-এর শাহাদত

📄 হযরত যুবায়ের রাযি.-এর শাহাদত


হযরত যুবায়ের রাযি. ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরলেন। হৃদয় ব্যাকুল হলো রাসূলের রওযায় ফিরে যেতে। রণভূমি ত্যাগ করে ছুটে চললেন মদীনার পানে। শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে সবই লক্ষ করছিল সাবাঈ ইবনে জারমুয। সে হযরত যুবায়ের রাযি.-এর পিছু নিল। রাসূলের হাতে গড়া বীরের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তার ছিল না। তাই অপেক্ষা করতে থাকল সময় ও সুযোগের। একটি উপত্যকায় পৌঁছে হযরত যুবায়ের রাযি. নামাযে রত হলেন। তিনি যখন সেজদাবনত হলেন, তখন সেই জালেম ছুটে এসে গর্দানে তরবারির আঘাত করল। হযরত যুবায়ের রাযি. শহীদ হয়ে গেলেন। সে তাঁর মস্তক ও তরবারি নিয়ে হযরত আলী রাযি.-এর কাছে এল। তিনি অশ্রুসজল হলেন; বললেন, এ তো সেই তরবারি যাকে অনেকবার ঝলসে উঠতে দেখেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুরক্ষায়।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত তালহা রাযি.-এর শাহাদত

📄 হযরত তালহা রাযি.-এর শাহাদত


হযরত তালহা রাযি.-ও রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ মারওয়ানের চোখে পড়ে গেলেন। মারওয়ান আঁচ করল, আজ যদি হযরত তালহা রাযি. প্রাণে বেঁচে যান, তা হলে উমাইয়াদের বিপদ আছে। তাই সে তৎক্ষণাত একটি বিষাক্ত তির নিক্ষেপ করল। তিরটি হাঁটুতে বিদ্ধ হলো। কোনোভাবেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হলো না। হযরত তালহা রাযি.-ও শহীদ হয়ে গেলেন।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 রণাঙ্গনে কুরআন-প্রদর্শন

📄 রণাঙ্গনে কুরআন-প্রদর্শন


এদিকে কাব ইবনে সুরকে হযরত আয়েশা রাযি. নিজের কুরআন শরীফ দিয়ে বললেন, যাও এটা দেখিয়ে মানুষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান করো। তিনি কুরআন উন্মুক্ত করে উভয় বাহিনীর মধ্যস্থলে দাঁড়িয়ে গেলেন। দুষ্টচক্র পরিণতি বুঝতে পেরে দূর থেকে তাকেও তির মেরে নিশ্চুপ করে দিল।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 উম্মুল মুমিনিনের ওপর আক্রমণ এবং বনু দাব্বার প্রতিরোধ

📄 উম্মুল মুমিনিনের ওপর আক্রমণ এবং বনু দাব্বার প্রতিরোধ


দ্বিপ্রহর হয়ে গেল। সন্ধির কথা জেনে সাধারণ মুসলমানদের একটি বড় অংশ আগেই সরে গিয়েছিলেন। সাবাঈরা সবাই ছিল হযরত আলী রাযি.-এর দলে। এ কারণে হযরত আয়েশা রাযি.-এর বাহিনী হয়ে পড়ে নড়বড়ে। উভয় পক্ষের সাধারণ যোদ্ধাগণ ছিলেন একে অপরের আপনজন। তাই কেউ কাউকে হত্যা করতে চাইছিলেন না। শুধু প্রতিহত ও পরাস্ত করতে চাইছিলেন। তারা একে অপরের হাত ও পায়ে আঘাত করছিলেন। মাথা ও বুক এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখনো আশা করছিলেন, শীঘ্রই এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ বন্ধ হবে। ... রণক্ষেত্রে অসংখ্য ছিন্ন হাত ও পা পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল।
সাবাঈরা এত নিকৃষ্ট ছিল যে, তারা ধান্দা করছিল, যদি কোনোভাবে হযরত আয়েশা রাযি.-কে বাগে পায়, তা হলে ভীষণভাবে অপদস্থ করবে।' এজন্য কুফার লোকেরা হযরত তালহা রাযি. এবং হযরত যুবায়ের রাযি.-কে হত্যা করার পর হযরত আয়েশা রাযি.-এর উটের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে। ভয়াবহতা লক্ষ করে মুষ্টিমেয় মুসলিম যোদ্ধাগণ চতুর্দিক থেকে স্তরে স্তরে ব্যূহাকারে মাতাকে ঘিরে ধরেন এবং মাতার সম্মান ও জীবন রক্ষাকেই জীবনের চরম ও পরম প্রাপ্তি জ্ঞান করে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার সংকল্প গ্রহণ করেন। মুযারি সবগুলো গোত্র, বিশেষ করে বনু আদ ও বনু দাব্বা সমরে আবির্ভূত হন অপরিমেয় জোশ আর তেজস্বিতা নিয়ে। একদিকে শত্রুসাগরের দানবীয় গ্রাস, অন্যদিকে সন্তানদের পর্বতপ্রমাণ প্রতিরোধ। মুসলিম জননীর ডান দিকে বনু বকর, বাম দিকে আযদ, সামনে বনু নাজিয়া। তারা লড়ছে, মরছে-উম্মুল মুমিনীনের সম্মানের জন্য, উম্মুল মুমিনীনের জীবনের জন্য।

টিকাঃ
১. প্রমাণ: সাবাঈরা যখন বিভক্ত হয়ে খারেজি সম্প্রদায়ের গোড়াপত্তন করেছিল, তখন এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করেছিল, তোমরা তো স্বয়ং মাতাকেই দাসী বানাতে চেয়েছিলে।
২. তারীখে তাবারী: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩১৯৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00