📄 বনু উমাইয়া ও সাবাঈ গোষ্ঠীর রেশ হামলা
উভয় পক্ষের সাধারণ যোদ্ধাগণ নিশ্চিন্ত। যুদ্ধের চিন্তা-এক কথায় সকলের মন থেকে মুছে গেল। সন্ধিচুক্তি পাকাপোক্তকরণ ও অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তিকরণে কারও কোনো সংশয় ছিল না। কিন্তু উসমান রাযি.-এর ঘাতক সাবাঈগোষ্ঠী ও অপরপক্ষে বনু উমাইয়ার যে বিষাক্ত বীজটুকু তখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, তারা ভাবল, যদি সত্যিই সন্ধি হয়ে যায় তা হলে আমাদের রক্ষা নেই; আমাদের এত দিনের শ্রম একদম বিফলে যাবে। সাবাঈ গোষ্ঠীর সদস্যরা হযরত আলী রাযি.-এর দলে ছিল। সকলে যখন রাতের শেষ প্রহরে গভীর ঘুমে নিমগ্ন, সাবাঈরা তখন এলোপাতাড়িভাবে সৈন্যদের ওপর তলোয়ার হাকানো শুরু করল। অন্যদিকে বনু উমাইয়ার ছোকরারা এখানে-ওখানে আগুন ধরিয়ে দিল।
টিকাঃ
১. তারীখে তাবারী: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩১৮২-৩১৮৩।
📄 আকস্মিক যুদ্ধের সূচনা
হযরত আলী রাযি. ছুটে এসে আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে লাগলেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেল। যোদ্ধারা হতবুদ্ধি হয়ে যার যার অস্ত্রের দিকে ছুটে গেলেন। উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয়গণ ভাবলেন, অপরপক্ষ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
রাতের অন্ধকার কাটতে কাটতে পরিস্থিতি চরম হয়ে গেল। চিৎকার চেঁচামেচিতে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ধ্যানমগ্নতা কেটে গেল। তিনি জানতে চাইলেন, কী হচ্ছে? উত্তর এল: মাতা, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
📄 যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যে রণাঙ্গনে
বসরার বিচারক কাব ইবনে সুর ছুটে এলেন; বললেন—মাতা, শীঘ্রই উটে আরোহণ করে ময়দানে চলুন; হতে পারে আপনাকে দেখে মুসলমানগণ শান্ত হবেন। হযরত আয়েশা রাযি. কালক্ষেপন না করে হাওদায় আরোহণ করে রণাঙ্গনে নিজ বাহিনীর মধ্যস্থলে এসে পড়লেন।
টিকাঃ
২. তারীখে তাবারী: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩১৮৮।
📄 হযরত আলী, যুবায়ের ও তালহা রাযি. মুখোমুখি
হযরত আলী রাযি. হযরত তালহা এবং হযরত যুবায়ের রাযি.-এর নাম ধরে ডাকতে লাগলেন। আল্লাহ অশ্বারোহী তিন বীরকে রণক্ষেত্রে মুখোমুখি করলেন। কী করুণ দৃশ্য! কী তিক্ত মুহূর্ত! যাঁরা এতদিন একসঙ্গে একযোগে লড়ে এসেছেন তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে, বদর-উহুদের সেই বীরসেনানীরা যেন পরস্পরকে আহ্বান করবে দ্বন্দ্বের, যুদ্ধের। হযরত আলী রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করালেন। মহিমান্বিত দুই সাহাবীর স্মৃতিপটেও ভেসে উঠল সেই বিস্মৃত বাণী। আর কোনো ঘোর নেই। আর কোনো ধাঁধা নেই। দিনের আলোর মতো সবকিছু যেন স্পষ্ট হয়ে গেল।