📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সন্ধিস্থাপন

📄 সন্ধিস্থাপন


তারপরও উভয় পক্ষের লোকদের প্রবল বিশ্বাস ছিল যে, বিষয়টি যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াবে না; বরং আগেই সমঝোতা হয়ে যাবে। জনৈক গোত্রপতি ভাবলেন, তিনি হযরত আলী রাযি.-কে সন্ধি করার জন্য পীড়াপীড়ি করবেন। কিন্তু দেখা গেল, হযরত আলী রাযি. আগে থেকেই মনেপ্রাণে সমঝোতা চাইছেন। তখন তিনি হযরত আলী রাযি.-এর অনুমতি নিয়ে হযরত তালহা রাযি., হযরত যুবায়ের রাযি. এবং হযরত আয়েশা রাযি.- এর কাছে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আমাদের মাতা, এত কিছু কেন করছেন? তিনি বললেন, উসমান রাযি.-এর ঘাতকদের শাস্তিপ্রদান এবং সমাজের সংশোধনের জন্য। তিনি বললেন, হে আমাদের মাতা, দয়া করে একটু ভাবুন; পাঁচশো অপরাধীকে সাজা দিতে গিয়ে পাঁচ হাজারের প্রাণ গেছে। আর এই পাঁচ হাজারের জন্য আরও কত হাজারের প্রাণ যাবে। এ কেমন সংস্কার, মাতা? এ কেমন সংশোধন? কথার ভাব এত গভীর ও সংবেদনশীল ছিল যে, তিনি কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। সকলে সম্মতি ব্যক্ত করলেন। সকলে মিলে সন্ধি করে নিলেন।

টিকাঃ
১. তারীখে তাবারী: ৬ষ্ঠ খণ্ড।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বনু উমাইয়া ও সাবাঈ গোষ্ঠীর রেশ হামলা

📄 বনু উমাইয়া ও সাবাঈ গোষ্ঠীর রেশ হামলা


উভয় পক্ষের সাধারণ যোদ্ধাগণ নিশ্চিন্ত। যুদ্ধের চিন্তা-এক কথায় সকলের মন থেকে মুছে গেল। সন্ধিচুক্তি পাকাপোক্তকরণ ও অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তিকরণে কারও কোনো সংশয় ছিল না। কিন্তু উসমান রাযি.-এর ঘাতক সাবাঈগোষ্ঠী ও অপরপক্ষে বনু উমাইয়ার যে বিষাক্ত বীজটুকু তখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, তারা ভাবল, যদি সত্যিই সন্ধি হয়ে যায় তা হলে আমাদের রক্ষা নেই; আমাদের এত দিনের শ্রম একদম বিফলে যাবে। সাবাঈ গোষ্ঠীর সদস্যরা হযরত আলী রাযি.-এর দলে ছিল। সকলে যখন রাতের শেষ প্রহরে গভীর ঘুমে নিমগ্ন, সাবাঈরা তখন এলোপাতাড়িভাবে সৈন্যদের ওপর তলোয়ার হাকানো শুরু করল। অন্যদিকে বনু উমাইয়ার ছোকরারা এখানে-ওখানে আগুন ধরিয়ে দিল।

টিকাঃ
১. তারীখে তাবারী: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩১৮২-৩১৮৩।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 আকস্মিক যুদ্ধের সূচনা

📄 আকস্মিক যুদ্ধের সূচনা


হযরত আলী রাযি. ছুটে এসে আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে লাগলেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেল। যোদ্ধারা হতবুদ্ধি হয়ে যার যার অস্ত্রের দিকে ছুটে গেলেন। উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয়গণ ভাবলেন, অপরপক্ষ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
রাতের অন্ধকার কাটতে কাটতে পরিস্থিতি চরম হয়ে গেল। চিৎকার চেঁচামেচিতে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ধ্যানমগ্নতা কেটে গেল। তিনি জানতে চাইলেন, কী হচ্ছে? উত্তর এল: মাতা, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যে রণাঙ্গনে

📄 যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যে রণাঙ্গনে


বসরার বিচারক কাব ইবনে সুর ছুটে এলেন; বললেন—মাতা, শীঘ্রই উটে আরোহণ করে ময়দানে চলুন; হতে পারে আপনাকে দেখে মুসলমানগণ শান্ত হবেন। হযরত আয়েশা রাযি. কালক্ষেপন না করে হাওদায় আরোহণ করে রণাঙ্গনে নিজ বাহিনীর মধ্যস্থলে এসে পড়লেন।

টিকাঃ
২. তারীখে তাবারী: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩১৮৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00