📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পত্রপ্রেরণ

📄 বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পত্রপ্রেরণ


বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবৃন্দের নামে প্রেরিত পত্রগুলো ছিল এরূপ:
'জনগণকে অবাঞ্ছিত দলটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পক্ষাবলম্বন থেকে বিরত রাখুন। আপনারা যার-যার ঘরে আশ্রয় গ্রহণ করুন। এরা হযরত উসমান রাযি.-এর সঙ্গে অন্যায় করেছে, উম্মতের ঐক্য ভেঙে দিয়েছে, কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে। তারা এতেও ক্ষান্ত হয়নি। মানুষকে ধর্মীয় শাসন ও ঐশী বিধানে উদ্বুদ্ধ করায় আমাদের কাফের বলেছে। আমাদের সম্পর্কে অশালীন কথা বলেছে। নেক বান্দারা তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অপকর্মের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তাদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন—তোমরা মুসলিম শাসককে হত্যা করেও শান্তি পাওনি; এখন এসেছ স্বয়ং পয়গম্বরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে; কারণ তিনি সত্যের ডাক দিয়েছেন; তোমরা আসলে পয়গম্বরের সাথীদের, ইসলামের পথপ্রদর্শকদের হত্যা করে ইসলামকে মিটিয়ে দিতে চাও। দুষ্টচক্র উসমান বিন হানিফের (বসরার গভর্নর) সহযোগিতায় কিছু নির্বোধ ও ভিনদেশিকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমরা শুধু ছাউনির কিছু সৈন্যের রক্ষণাবেক্ষণ করেছি।
ছাব্বিশ দিন একই অবস্থা বিরাজ করেছে। আমরা তাদেরকে সত্যের আহ্বান জানিয়ে এসেছি। আমরা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, সত্য-প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ো না। কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা তালহা রাযি. এবং যুবায়ের রাযি.-এর বাইয়াত গ্রহণের বাহানা করত। অবশেষে প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাস্তবতা যাচাই করে এসেছে। তারপরও সত্য উপলব্ধি করেনি। এমনকি রাতের অন্ধকারে আমার বিশ্রামাগারে ঢুকে পড়েছে আমাকে হত্যা করবে বলে। হতভাগারা বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছেও গিয়েছিল। কায়েস, আরবাব ও আযদের লোকেরা আমার প্রহরায় ছিল। তারা হাতেনাতে ধরা পড়ে। খণ্ডযুদ্ধ হয়। মুসলমানদের হাতে মারা পড়ে। আল্লাহ সমগ্র বসরাবাসীকে তালহা রাযি. এবং যুবায়ের রাযি.-এর সঙ্গে একমত করে দিয়েছেন। কেসাস গ্রহণের পরই আমরা ক্ষান্ত হব।'
এটা ছিল ৩৬ হিজরীর ২৬ রবিউস সানির ঘটনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00