📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 আমির-ওমরার নামে পত্রপ্রেরণ

📄 আমির-ওমরার নামে পত্রপ্রেরণ


কুফা, দামেশক ও মদীনায় বিজয়নামা প্রেরণ করা হয়। হযরত আয়েশা রাযি. কুফার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবৃন্দের নামে যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন তা এই:
'পরকথা, আমি আপনাদের আল্লাহ এবং ইসলাম স্মরণ করার উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহর কিতাবের যথার্থ বাস্তবায়ন করুন। আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাঁর রজ্জুকেই আঁকড়ে থাকুন। কখনোই এই কিতাবের সঙ্গ ছাড়বেন না। আমরা বসরাবাসীকে আল্লাহর কিতাবের বাস্তবায়নের আহ্বান করেছি। উম্মতের সৎ লোকেরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। কিন্তু যাদের মধ্যে ভালোত্ব ছিল না, তারা অস্ত্রের মাধ্যমে আমাদের মোকাবেলা করতে চেয়েছে। তারা বলেছে, তোমাদেরকেও উসমান [রাযি.]-এর সঙ্গে পরপারে পাঠিয়ে দিচ্ছি। হঠকারিতা করে তারা আমাদের কাফের বলেছে। আমাদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেছে। আমরা তাদেরকে কুরআনের আয়াত পড়ে শুনিয়েছি:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِّنَ الْكِتَابِ يَدْعُوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُّعْرِضُونَ
অর্থ: আপনি কি তাদের দেখেননি, যাদেরকে আল্লাহর কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়েছে? তাদের আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হতো, যেন তারা সে অনুযায়ী তাদের মাঝে বিচারাচার করে; অথচ তারপর তাদের একটি দল উপেক্ষাপ্রদর্শনপূর্বক আল্লাহর কিতাব থেকে সরে গেল। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ২৩)
এ কথা শুনে কিছু মানুষ আমাদের মেনে নিয়েছে, কিছু মানুষ ভিন্নমত পোষণ করেছে। আমরা তাদের কিছু বলিনি, পিছু নিইনি। তারপরও তারা আমাদের সাথীদের ওপর তলোয়ার চালিয়েছে। বসরার গভর্নর উসমান বিন হানিফ তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের দ্বারা আমাকে সাহায্য করেছেন এবং তাদের চক্রান্তকে তাদের ওপরই আপতিত করেছেন। আমরা দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দাওয়াত দিয়ে এসেছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি, অপরাধীরা ছাড়া আর কারও যেন রক্তপাত না ঘটে। কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানা অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। তারপরও আমরা সন্ধি করেছি। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে সৈন্য প্রস্তুত করেছে। আল্লাহ হযরত উসমান রাযি.-এর কেসাস বাস্তবায়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এখানকার একজন ছাড়া বিদ্রোহীদের কেউ রক্ষা পায়নি। আল্লাহ কায়েস, রেবাব, আযদ প্রমুখ গোত্রসমূহের মাধ্যমে আমাদের সাহায্য করেছেন। খুব সাবধান, হযরত উসমান রাযি.-এর হত্যাকারীরা ছাড়া, যতক্ষণ আল্লাহ তাদের শায়েস্তা না করছেন, অন্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। ভুলেও বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষাবলম্বন বা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন না। যারা আল্লাহর আইনে শাস্তিযোগ্য, ভুলেও তাদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করবেন না। নয়তো আপনারাও জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।'

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পত্রপ্রেরণ

📄 বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পত্রপ্রেরণ


বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবৃন্দের নামে প্রেরিত পত্রগুলো ছিল এরূপ:
'জনগণকে অবাঞ্ছিত দলটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পক্ষাবলম্বন থেকে বিরত রাখুন। আপনারা যার-যার ঘরে আশ্রয় গ্রহণ করুন। এরা হযরত উসমান রাযি.-এর সঙ্গে অন্যায় করেছে, উম্মতের ঐক্য ভেঙে দিয়েছে, কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে। তারা এতেও ক্ষান্ত হয়নি। মানুষকে ধর্মীয় শাসন ও ঐশী বিধানে উদ্বুদ্ধ করায় আমাদের কাফের বলেছে। আমাদের সম্পর্কে অশালীন কথা বলেছে। নেক বান্দারা তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অপকর্মের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তাদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন—তোমরা মুসলিম শাসককে হত্যা করেও শান্তি পাওনি; এখন এসেছ স্বয়ং পয়গম্বরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে; কারণ তিনি সত্যের ডাক দিয়েছেন; তোমরা আসলে পয়গম্বরের সাথীদের, ইসলামের পথপ্রদর্শকদের হত্যা করে ইসলামকে মিটিয়ে দিতে চাও। দুষ্টচক্র উসমান বিন হানিফের (বসরার গভর্নর) সহযোগিতায় কিছু নির্বোধ ও ভিনদেশিকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমরা শুধু ছাউনির কিছু সৈন্যের রক্ষণাবেক্ষণ করেছি।
ছাব্বিশ দিন একই অবস্থা বিরাজ করেছে। আমরা তাদেরকে সত্যের আহ্বান জানিয়ে এসেছি। আমরা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, সত্য-প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ো না। কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা তালহা রাযি. এবং যুবায়ের রাযি.-এর বাইয়াত গ্রহণের বাহানা করত। অবশেষে প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাস্তবতা যাচাই করে এসেছে। তারপরও সত্য উপলব্ধি করেনি। এমনকি রাতের অন্ধকারে আমার বিশ্রামাগারে ঢুকে পড়েছে আমাকে হত্যা করবে বলে। হতভাগারা বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছেও গিয়েছিল। কায়েস, আরবাব ও আযদের লোকেরা আমার প্রহরায় ছিল। তারা হাতেনাতে ধরা পড়ে। খণ্ডযুদ্ধ হয়। মুসলমানদের হাতে মারা পড়ে। আল্লাহ সমগ্র বসরাবাসীকে তালহা রাযি. এবং যুবায়ের রাযি.-এর সঙ্গে একমত করে দিয়েছেন। কেসাস গ্রহণের পরই আমরা ক্ষান্ত হব।'
এটা ছিল ৩৬ হিজরীর ২৬ রবিউস সানির ঘটনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00