📄 পক্ষাবলম্বন : দলাদলি ও বাদানুবাদ
হযরত আয়েশা রাযি.-এর বক্তব্যের প্রভাবে বিশাল উপস্থিতি যেন মন্ত্রমুগ্ধ ও সম্মোহিত হয়ে পড়েছিল। এক-একটা কথা যেন তির হয়ে বিদ্ধ করেছিল শত্রুদের হৃদয়। অবচেতন মনে তাদের মুখ থেকেও বেরিয়ে পড়ল—মাতা ঠিক বলেছেন, মাতা সত্য বলেছেন। মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষ নিজ নিজ সারি ভেঙে দাঁড়িয়ে যেতে লাগল মহীয়সী মাতার সংশোধনকামী কাফেলায়। তখনো যাদের ভিন্ন মত ছিল, তারা কিছু বললে, সঙ্গে সঙ্গে অন্যরা কড়া ভাষায় উত্তর দিতে একটুও বিলম্ব করছিল না।
একপর্যায়ে দুই দলের লোকজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বাদানুবাদ শুরু হয়ে গেল। একটু একটু করে অবস্থা অন্য দিকে গড়াতে লাগল। হযরত আয়েশা রাযি. সংঘর্ষ এড়াতে সংশোধনকামী কাফেলাকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিলেন। গভর্নরের লোকদের মধ্যে যারা হযরত আয়েশা রাযি.-এর বক্তব্য শুনে মত পাল্টিয়েছিলেন, তারাও নিজ দল ছেড়ে সংশোধনকামী কাফেলার সঙ্গে চলে এলেন।
📄 বিরোধীপক্ষের আক্রমণ এবং তাঁর ধৈর্যধারণ
পরের দিন উভয় পক্ষের লোকজন দলবেঁধে সারিবদ্ধভাবে বাইরে এল। বিরোধী পক্ষের নেতা ছিলেন হাকিম নামক জনৈক যোদ্ধা। তিনি বরাবরই সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছিলেন। শান্তিবাহিনীর লোকেরা নিজ নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. বরাবরের মতো উভয় পক্ষকে শান্তি ও সমঝোতার এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু হাকিম নাছোড়বান্দা; কিছু একটা করেই ছাড়বে; একপর্যায়ে অধৈর্য হয়ে আক্রমণের নির্দেশ দিল নিজ দলের লোকদেরকে। শান্তিবাহিনী তবুও হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে। এ অবস্থা দেখে, হাকিম নিজ বাহিনীকে লক্ষ্য করে বলল— সাথীরা, কাপুরুষ কুরাইশদের দ্যাখো, ওদের ভীরুতাই আজ ওদের মৃত্যুর কারণ হবে। লোকজন রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো। উভয় দিক থেকে ইট-পাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ শুরু হলো। একপর্যায়ে রক্তপাত ও হতাহতের ঘটনা ঘটে গেল। হযরত আয়েশা রাযি. এবারও সংঘাত এড়ানোর জন্য নিজ বাহিনীকে পিছু হটার নির্দেশ দিলেন। শান্তিবাহিনী পিছু হটল। তারা ওই স্থান ত্যাগ করে অন্য এক জায়গায় আশ্রয় নিলেন। হাকিমের বাহিনী সেখানেও চড়াও হওয়ার জন্য ধেয়ে এল। কিন্তু রাত ঘনিয়ে আসায় ফিরে যেতে বাধ্য হলো তারা।
📄 আবুল জারবাহর মধ্যস্থতা
ঝামেলা এখানেই মিটে যাক, এমনটাই চাচ্ছিলেন অধিকাংশ মানুষ। আবুল জারবা তাইমি নামক জনৈক ব্যক্তি হযরত আয়েশা রাযি.-সহ অন্যান্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন। সকলে তার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে অন্যত্র চলে গেলেন এবং তাঁবু ফেললেন।
📄 হাকিমের ধৃষ্টতা
সকাল হলে গভর্নরের বাহিনী আবারও সামনে এল। হাকিম পথ মাড়াচ্ছিল আর হযরত আয়েশা রাযি.-এর সম্পর্কে অশালীন কথা বলছিল। কায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, কার সম্পর্কে এমন অশালীন মন্তব্য করছেন আপনি? হাকিম যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। অত্যন্ত ধৃষ্টতার সঙ্গে বলল, আয়েশা [রাযি.] সম্পর্কে। লোকটি হতভম্ব হয়ে বললেন, আরে শয়তান, উম্মুল মুমিনীনের শানে তোর মুখ থেকে এমন কথা বের হচ্ছে? হাকিম বর্শা মেরে লোকটিকে থামিয়ে দিল। কিছু দূর গিয়ে এক মহিলার সঙ্গেও একই আচরণ করল। আবদুল কায়সের গোত্র হাকিমের এহেন আচরণে তার পক্ষ ত্যাগ করল।