📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা 📄 সঙ্কট-নিরসনে আকাবিরে সাহাবার মশওয়ারা

📄 সঙ্কট-নিরসনে আকাবিরে সাহাবার মশওয়ারা


পুরো মুসলিম-সমাজে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছিল। ভীষণ উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাটছিল সময়। সাহাবা কেরামের আলোকিত কাফেলা বুকের রক্তসিঞ্চনে তিলে-তিলে যে স্বর্গোদ্যান গড়ে তুলেছিলেন, চোখের সামনে আকস্মিক কোনো দুর্যোগে তা যেন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। সাহাবা কেরামের একটি ক্ষুদ্র কাফেলা আর সইতে পারলেন না; সংস্কার আর সংশোধনের ঝাণ্ডা উঁচু করলেন। এই ক্ষুদ্র কাফেলার নেতৃত্বে ছিলেন: হযরত তালহা রাযি., হযরত যুবায়ের রাযি. এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.।
কুরাইশের সর্বাগ্রে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন হযরত তালহা রাযি. ছিলেন তাদের অন্যতম। অগণিত বিজয়াভিযানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থেকেছেন তিনি। প্রথম খলীফার জামাতা এবং সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভায়রা হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। হযরত যুবায়ের রাযি.-ও কম ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুসলিম বীর, লড়াকু ও সাহসী যোদ্ধাদের অন্যতম। সম্পর্কে ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো ভাই, ভায়রা এবং প্রথম খলীফার জামাতা। উপরন্তু এই দুই মহান মানুষই ছিলেন হযরত উমর রাযি. কর্তৃক খেলাফতের জন্য মনোনীত ছয় সদস্যের অন্তর্ভুক্ত।
যাই হোক, হযরত উসমান রাযি. অবরুদ্ধ থাকাবস্থায়ই হযরত আয়েশা রাযি. প্রতি বছরের রীতি অনুসারে হজের উদ্দেশে মক্কাভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। তিনি হজ সম্পাদন করে মদীনায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হযরত উসমান রাযি.-এর শাহাদাতের সংবাদ পেয়ে মর্মাহত হন। আরও কিছু দূর এগিয়ে আসার পর হযরত তালহা রাযি. এবং হযরত যুবায়ের রাযি.-এর সাক্ষাৎ পান। তাঁরা দুজন মদীনা থেকে পালিয়ে আসছিলেন। তাঁরা হযরত আয়েশা রাযি.-কে বললেন-
إِنَّا تَحَمَّلْنَا بِقِلْتِنَا هَرَابًا مِّنَ الْمَدِينَةِ مِنْ غَوْغَاءٍ وَ أَعْرَابِ وَفَارَقْنَا قَوْمًا حَيَارَى لَا يَعْرِفُوْنَ حَقًّا وَلَا يُنْكِرُوْنَ بَاطِلًا وَلَا يَمْنَعُوْنَ أَنْفُسَهُمْ
অর্থ: আমরা কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের দৌরাত্ম্য ও অরাজকতা থেকে বাঁচতে মদীনা থেকে পালিয়ে এসেছি। মানুষের অবস্থা এই যে, তারা কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, কিছুই বুঝতে পারছে না। গা বাঁচিয়ে চলা বা আত্মরক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না।
হযরত আয়েশা রাযি. তাঁদেরকে বললেন, আপনারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করুন—এই নাজুক মুহূর্তে আমাদের কী করা উচিত! এরপর তিনি নিচের কবিতাটি আবৃত্তি করলেন-
وَلَوْ أَنَّ قَوْمِي طَاوَعَتْنِي سُرَاتُهُمْ * لَأَنْقَذْتُهُمْ مِنَ الْخَبَالِ أَوِ الْحَبْلِ
অর্থ: যদি আমার জাতির নেতৃস্থানীয়রা আমার কথা মানতেন, তা হলে আমি তাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারতাম।
এরপর তাঁরা তিনজনই মক্কা মুআয্যমায় ফিরে এলেন। জনসাধারণ তাঁদের প্রত্যাবর্তনের কথা জানতে পেরে চতুর্দিক থেকে ছুটে আসতে লাগলেন। তাঁরা সংস্কার ও সংশোধনের আহ্বান করলেন। উমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত আছে, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আল্লাহ তাআলার এই বাণীকে যারা উপেক্ষা করবে তাদের মতো অপরাধী আর কেউ হবে না-
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا اللَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا
অর্থ: যদি মুমিন-সম্প্রদায়ের দুটো দল আত্মকলহে লিপ্ত হয়, তা হলে তাদের সংশোধন করো। আর যদি একটি দল অন্য দলের ওপর অন্যায় করে, তা হলে সকলে মিলে অন্যায়কারী দলটির বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশ মেনে নেয়। যদি মেনে নেয়, তা হলে তাদের সংশোধন করো। (সূরা হুজুরাত, আয়াত: ৯)

টিকাঃ
১. তারীখে তাবারী।
১. মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, বাবুত তাফসীর।

ফন্ট সাইজ
15px
17px