📄 মিশরে বিদ্রোহ
হযরত উসমান রাযি.-এর শাসনামলে রোম ও আফ্রিকার উপদ্বীপগুলোতে তুমুল যুদ্ধ চলছিল। এজন্য সিংহভাগ সেনাসদস্যই ছিলেন সেদিকে ব্যস্ত। যুদ্ধে অংশগ্রহণের বাহানায় মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর এবং মুহাম্মাদ ইবনে হুযাইফা অনায়াসেই সেনাবাহিনীর মধ্যে আসা-যাওয়া ও ওঠা-বসা করতে পারতেন। তারা এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে ছাড়েননি। ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। একপর্যায়ে মিশর পরিণত হয় বিদ্রোহের মূল কেন্দ্রে। এ সময় মিশরের গভর্নর ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু সুরাহ। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর এবং মুহাম্মাদ ইবনে হুযাইফা মিলে হযরত উসমান রাযি. এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবু সুরাহের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আন্দোলন শুরু করেন। মিশরে উদ্ভব হয় নতুন রাজনৈতিক দলের, নতুন রাজনৈতিক নেতার।
📄 বিদ্রোহ এবং মদীনার অবরোধ
ঘটনাক্রমে এটা ছিল হজের সময়। কুফা, বসরা ও মিশর থেকে প্রায় এক হাজার বিদ্রোহী হজের বাহানায় হেজাজ অভিমুখে যাত্রা করল। তারা মদীনার কাছাকাছি এসে তাঁবু গাড়ল। হযরত আলী রাযি.-সহ বড়-বড় সাহাবা কেরাম রাযি. বাধা দিলেন। অনেক বুঝিয়েসুঝিয়ে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হলো। কিন্তু সামান্য কিছু দূর পিছু হটে তারা আবার ফিরে এল। তারা এবার মিশর-গভর্নরের নামে একটা বার্তা দেখাল। তাতে লেখা ছিল—বিদ্রোহীদের মূল হোতারা মিশর পৌছামাত্রই হয় কতল করে ফেলবে, না হয় কয়েদ করে ফেলবে। তারা অনুমান করল—এটা মারওয়ানের লেখা বার্তা হবে। তারা হযরত উসমান রাযি.-এর গৃহ অবরোধ করল এবং দুটো দফা দিল—হয় মারওয়ানকে আমাদের হাতে তুলে দিন, না হয় খেলাফতের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। হযরত উসমান রাযি. দুটো দাবিই প্রত্যাখ্যান করলেন।
📄 অনুজ মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে বোঝানো
হযরত আয়েশা রাযি. ছোট ভাই মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে ডেকে আনালেন। তাকে এমন অবাঞ্ছিত অনাকাঙ্ক্ষিত হঠকারিতা থেকে ফিরে আসার অনুরোধ জানালেন, এবং সাধ্যমতো বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। উম্মুল মুমিনীনের কথায় কর্ণপাত করা তো দূরের কথা, উল্টো হঠকারিতা দেখিয়ে চলে গেলেন।
📄 হজ্জের সফর
হযরত আয়েশা রাযি. প্রতি বছরের ন্যায় হজব্রত পালনের উদ্দেশে মক্কাভিমুখে রওনা হলেন। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকেও সঙ্গে নিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি তাতেও অসম্মতি জানালেন।