📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 ইসলামে ফেতনার উদ্ভব হলো যেভাবে

📄 ইসলামে ফেতনার উদ্ভব হলো যেভাবে


হযরত উসমান রাযি.-এর শাসনকাল বারো বছর স্থায়ী ছিল। তাঁর শাসনকালের প্রথমার্ধ জুড়ে পূর্ণ শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। কিন্তু এরপর তাঁর প্রতি কিছু মানুষের মনে নানা আপত্তির সৃষ্টি হয়। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উসমান রাযি.-কে ওসিয়ত করেছিলেন, যদি আল্লাহ তোমাকে খেলাফতের পোশাক পরিধান করান, তবে কখনো নিজে থেকে তা খুলে ফেলবে না।
সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে হযরত আয়েশা রাযি.-এর গ্রহণযোগ্যতা ছিল অন্যরকম। তা ছাড়া মহান আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন পুরো মুসলিমসম্প্রদায়ের মা। এজন্য সিরিয়া, হেজাজ, ইরাক ও মিশরে সর্বত্র মায়ের মতোই মান্য করা হতো তাঁকে। সামনে যে বিবরণগুলো আসছে, তাতেই বিষয়টি প্রতিপন্ন হবে। সাধারণ লোকজন উম্মুল মুমিনীন রাযি.-এর কাছে আসতেন এবং তাদের অভিযোগ ও অনুযোগ ব্যক্ত করতেন। সম্মানিতা মাতা আপন সন্তানদের সান্ত্বনা ও উপদেশ দিয়ে বিদায় জানাতেন।
হযরত আবু বকর রাযি. এবং উমর রাযি.-এর শাসনামল পর্যন্ত, এবং হযরত উসমান রাযি.-এর শাসনামলের বিশেষ করে প্রথমার্ধ পর্যন্ত অনেক বড় বড় সাহাবা কেরাম জীবিত ছিলেন। নিঃসন্দেহে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁরা ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদার সৎ, দূরদর্শী ও হিতাকাঙ্ক্ষী পরামর্শক ও মন্ত্রণাদাতা। যে কোনো সঙ্কটে তাঁদের পরামর্শ কার্যকর ফল দিত। উঁচু উঁচু পদে নিজ নিজ যোগ্যতা ও অধিকার অনুযায়ী তারা ছিলেন অগ্রগণ্য। হযরত আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি. ন্যায়নিষ্ঠ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। পক্ষপাত, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ইত্যাদি ছিল অসম্ভব। রাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় ছিল। বড় বড় সাহাবা কেরام যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও কোনো দাবি বা আপত্তি ছিল না। তরুণদের মধ্যে যারা উচ্চাভিলাষী ছিলেন (যেমন : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর, মারওয়ান ইবনে হাকাম, মুহাম্মাদ ইবনে আবু হুযায়ফা, সাঈদ ইবনুল আস রাযি.), আকাবিরে সাহাবা কেরামের মতো মহান ও মহৎ ব্যক্তিত্বের সামনে তারা কিছুই ছিলেন না। তখন তাদের পক্ষে খলীফাতুল মুসলিমীন বা আমীরুল মুমিনীন হওয়া ছিল কল্পনারও অতীত।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি. ছিলেন সিদ্দীকে আকবর রাযি.-এর দোহিত্র এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো ভাই হাওয়ারিয়ে রাসূল হযরত যুবায়ের রাযি.-এর পুত্র। তিনি নিজেকে খেলাফতের সবচেয়ে বেশি যোগ্য ভাবতেন এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে খেলাফতকে নিজের অধিকার মনে করতেন।
মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রাযি. হযরত আবু বকর রাযি.-এর সর্বকনিষ্ঠ পুত্র এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ছিলেন। তার সম্মানিতা মাতা হযরত আবু বকর রাযি.-এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী রাযি.-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এজন্য তার লালনপালন হয় হযরত আলী রাযি.-এর ঘরে। হযরত আলী রাযি.-ও তাকে আপন সন্তানের মতোই দেখতেন।
মুহাম্মাদ ইবনে আবু হুযাইফা হযরত উসমান রাযি.-এর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। প্রাপ্তবয়স্ক হতে না হতেই কোনো উচ্চাসনের মোহ পেয়ে বসে তাকে। হযরত উসমান রাযি. তাকে যোগ্য মনে করেননি বলে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে মিশর চলে যান।
মারওয়ান এবং সাঈদ ইবনে আস দুজনই ছিলেন উমাইয়া বংশের উঠতি বয়সী তরুণ। আকাবিরে মুহাজিরিনের ওফাতের পর তাঁদের অনেক উত্তরসূরিই পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ও অবদান অনুসারে নিজেদের পদ ও অধিকারের দাবি তোলেন। হযরত উসমান রাযি. ছিলেন উমাইয়া বংশের। নিজ গোত্র ও পরিবারের লোকদের প্রতি তাঁর আস্থা ও ভরসা একটু বেশিই থেকে থাকবে। তাই বনু উমাইয়ার যুবকরাই মনোনয়ন-লাভের ক্ষেত্রে ছিলেন এগিয়ে। এই সুযোগে মারওয়ান এবং সাঈদও মনমতো পদাধিকার পেয়ে যান। এতে বনু কুরাইশের যুবকদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হতে পারে এজন্যই, মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবু হুযাইফা হযরত উসমান রাযি.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সবচেয়ে বেশি তৎপর ছিলেন। তা ছাড়া নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উমাইয়া তরুণদের মাঝে আকাবিরে সাহাবার সেই ন্যায়-নিষ্ঠা, সেই সততা ও স্বচ্ছতা, সেই তাকওয়া ও পরহেজগারী ছিল না। এজন্য সাধারণ জনগণ ও যোদ্ধারা, অন্তত যারা পূর্ববর্তী ব্যক্তিবর্গের গুণমুগ্ধ ছিলেন, এইসব তরুণদের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে পারছিলেন না।
সবচেয়ে বড় কথা, আরবরা আজন্ম স্বাধীন, অনত, অনির্বাক। অপ্রিয় অকল্যাণের কাছে বশ্যতা স্বীকার করা তাদের পক্ষে ছিল অসম্ভব। তারা মুক্ত-স্বাধীন পরিবেশে বড় হওয়া—দুর্জয়, দুর্লঙ্ঘ। ইসলাম শুধু তাদের স্বভাববৈশিষ্টের মোড় পরিবর্তন করেছিল। তাদের তেজ ও উদ্দীপনাকে সত্য ও সুন্দরের দিকে পরিচালিত করেছিল। তাই তো শতধাবিভক্ত আরব হয়েছিল একতাবদ্ধ। একই বৃন্তের মৃণাল ধরে সুবাস ছড়িয়েছিল দিগ্বিদিক—সত্যের, সুন্দরের।
আকাবিরে সাহাবা কেরাম যাঁরা ছিলেন—যাঁরা ছিলেন ইসলামের শিক্ষা-দীক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও সংস্কারের মূল উপাদান—এক মুহূর্তের জন্যও এই চরম সত্যটিকে ভুলে যাননি। তাঁরা সবসময়ই সতর্ক থেকেছেন যে, আরবদের ধমনীতে আছে আত্মসম্মান ও জাত্যাভিমান। যা শক্তিতে, সূক্ষ্মতায় পরমাণুকেও হার মানায়। কিন্তু বড় বড় পদাসনে নবনিযুক্ত তরুণসমাজ এই চরম ও পরম উপলব্ধি থেকে একটু দূরে সরে গিয়েছিলেন। তারা—কি ঘরোয়া মজলিসে, কি প্রকাশ্য দরবারে—নিজ নিজ ব্যক্তিত্ব নিয়ে, বংশকৌলীন্য নিয়ে গর্ব করা শুরু করলেন। বিশেষ করে আরব গোত্রগুলোর পক্ষে এটা বরদাশত করা ছিল কঠিন। তাঁদের দাবি ছিল-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সিরিয়া, পারস্য, আফ্রিকা, মিশর ইত্যাদি বিজয়াভিযান সম্ভব হয়েছিল আমাদেরই অস্ত্রধারণের বদৌলতে। সুতরাং আমাদেরও প্রাপ্য আছে। অনারব নওমুসলিমগণ শুধু কুরাইশ ও উমাইয়া গোত্রের প্রতিই নয়, পুরো আরব-সমাজের প্রতিই ছিল মনস্তাপে ক্লিষ্ট। এজন্য এ ধরনের যে কোনো ফেতনায় তারা পালন করত অগ্রণী ভূমিকা। এদিকে আরব ও অনারবের সংযোগস্থলে ছিল কুফা নগরী। ফেতনার উদ্ভব হয়েছিল এই নগরী থেকেই। প্রকৃতপক্ষে, কুফা ছিল আরব গোত্রগুলোর সবচেয়ে বড় ছাউনি। সাঈদ ইবনে আস ছিলেন কুফার গভর্নর। রাতে তার দরবারে অধিকাংশ গোত্রেরই গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হতেন। সাধারণত এই দরবারের আলোচনার বিষয়বস্তু হতো আরবের বিভিন্ন গৃহযুদ্ধ, জয়-পরাজয়ের ঘটনা, গোত্রে-গোত্রে কলহ, বংশকৌলীন্য, আত্মসম্মান, জাত্যাভিমান ইত্যাদি। নিঃসন্দেহে বিষয়টি-অন্তত আরবদের জন্য ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ গোত্রের প্রতি গর্ব ছিল। কেউ কারও থেকে নিজেকে কম মনে করত না। তাই প্রায়ই আলোচনার সমাপ্তি হতো কথা কাটাকাটি, রাগারাগি ও তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়ে। এরকম নাজুক মুহূর্তে সাঈদ ইবনে আসের কুরাইশ বংশ নিয়ে গর্ব করা ছিল তেলে জল ঢালার মতোই ভয়ঙ্কর। একপর্যায়ে গভর্নরের আত্ম-অহঙ্কার অপরাপর গোত্রপতিদের মনে ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় এক ভয়ঙ্কর ফেতনার।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৬৩।
২. মুসতাদরাকে হাকেম ও অন্যান্য গ্রন্থে আছে : وكان أحسن رأيا في العامة-অর্থ: সাধারণ মুসলমানদের কাছে তাঁর মতটিই হতো সুন্দরতম মত।
১. ইসাবাহ: তরজমায়ে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর রাযি,।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 ইবনে সাবা, প্রোপাগান্ডা, সাবাঈ গোষ্ঠী

📄 ইবনে সাবা, প্রোপাগান্ডা, সাবাঈ গোষ্ঠী


এরই মধ্যে ইবনে সাবা নামক জনৈক ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করে।
ইহুদিদের চিরাচরিত চাল হলো—যখন শত্রুতা করে পারবে না, তখন অস্ত্র ফেলে দেবে; মুহূর্তেই পরিণত হবে পরম মিত্রে। ধীরে ধীরে মেতে উঠবে গোপন ষড়যন্ত্রে। ‘বল না হলে ছল’ এই তাদের কৌশল।
এই ইহুদিরাই যখন ঈসা মাসীহ-এর সঙ্গে শত্রুতা করে সুবিধা করতে পারেনি, তখন পালবস নামক ইহুদিকে দিয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করায় এবং ঈসা মাসীহ-এর শিক্ষা-দীক্ষায় গোলমাল পাকিয়ে দেয়।
মুনাফিক ইবনে সাবা লোকমুখে ছড়াতে লাগল, মূলত হযরত আলী রাযি.-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যোগ্য উত্তরসূরি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষে ওসিয়তও করে গিয়েছেন। সে আরও বলতে লাগল, হযরত হারুন আ.-এর ব্যাপারেও ইহুদিদের এমনই বিশ্বাস ছিল। ইবনে সাবা এই নতুন প্রোপাগান্ডার প্রসারে আদাজল খেয়ে লাগল। রাজনৈতিক তৎপরতার বাহানায় ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে দিল সর্বত্র। সে গোটা ইসলামী জাহানে দাপিয়ে বেড়াল। তার অপতৎপরতায় কুফা, বসরা, মিশর-সহ যেখানে-যেখানে মুসলিম সেনাছাউনি ছিল, রীতিমতো সবই পরিণত হলো পরিবর্তনকামীদের এক-একটা ঘাঁটিতে। ইবনে সাবা এদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করল। ফাঁদে আটকা পড়া শিকারগুলোকে নিয়ে গড়ে তুলল একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মুসলিম ঐতিহাসিকগণ এদের আখ্যায়িত করেছেন 'সাবাঈ' নামে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 মিশরে বিদ্রোহ

📄 মিশরে বিদ্রোহ


হযরত উসমান রাযি.-এর শাসনামলে রোম ও আফ্রিকার উপদ্বীপগুলোতে তুমুল যুদ্ধ চলছিল। এজন্য সিংহভাগ সেনাসদস্যই ছিলেন সেদিকে ব্যস্ত। যুদ্ধে অংশগ্রহণের বাহানায় মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর এবং মুহাম্মাদ ইবনে হুযাইফা অনায়াসেই সেনাবাহিনীর মধ্যে আসা-যাওয়া ও ওঠা-বসা করতে পারতেন। তারা এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে ছাড়েননি। ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। একপর্যায়ে মিশর পরিণত হয় বিদ্রোহের মূল কেন্দ্রে। এ সময় মিশরের গভর্নর ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু সুরাহ। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর এবং মুহাম্মাদ ইবনে হুযাইফা মিলে হযরত উসমান রাযি. এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবু সুরাহের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আন্দোলন শুরু করেন। মিশরে উদ্ভব হয় নতুন রাজনৈতিক দলের, নতুন রাজনৈতিক নেতার।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বিদ্রোহ এবং মদীনার অবরোধ

📄 বিদ্রোহ এবং মদীনার অবরোধ


ঘটনাক্রমে এটা ছিল হজের সময়। কুফা, বসরা ও মিশর থেকে প্রায় এক হাজার বিদ্রোহী হজের বাহানায় হেজাজ অভিমুখে যাত্রা করল। তারা মদীনার কাছাকাছি এসে তাঁবু গাড়ল। হযরত আলী রাযি.-সহ বড়-বড় সাহাবা কেরাম রাযি. বাধা দিলেন। অনেক বুঝিয়েসুঝিয়ে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হলো। কিন্তু সামান্য কিছু দূর পিছু হটে তারা আবার ফিরে এল। তারা এবার মিশর-গভর্নরের নামে একটা বার্তা দেখাল। তাতে লেখা ছিল—বিদ্রোহীদের মূল হোতারা মিশর পৌছামাত্রই হয় কতল করে ফেলবে, না হয় কয়েদ করে ফেলবে। তারা অনুমান করল—এটা মারওয়ানের লেখা বার্তা হবে। তারা হযরত উসমান রাযি.-এর গৃহ অবরোধ করল এবং দুটো দফা দিল—হয় মারওয়ানকে আমাদের হাতে তুলে দিন, না হয় খেলাফতের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। হযরত উসমান রাযি. দুটো দাবিই প্রত্যাখ্যান করলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00