📄 হযরত উমর রাযি.-এর অন্তিম ইচ্ছা
হযরত উমর রাযি.-এর তামান্না ছিল, তিনিও মৃত্যুর পর হযরত আয়েশা রাযি.-এর গৃহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কদম মোবারকের নিচে শায়িত হবেন। কিন্তু মুখ খুলে কোনোদিন এ কথা বলতে পারেননি। কেননা, যদিও শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তি থেকে পর্দা করা জরুরি নয়; তথাপি শিষ্টাচারের কথা ভেবে— মৃত্যুর পরও উম্মুল মুমিনীনের সম্মানে নিজেকে তিনি গায়রে মাহরাম ভেবেছেন। কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই ব্যাকুলতা তাঁকে ঘিরে ধরে। অবশেষে আপন পুত্রকে পাঠান—উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা [রাযি.]-কে আমার সালাম বোলো, এবং আবেদন কোরো, উমর [রাযি.]- এর অন্তিম ইচ্ছা—আপনার অনুমতি হলে তিনি তাঁর বন্ধুদের পাশে সমাহিত হবেন।
📄 এবং হযরত আয়েশা রাযি.-এর ত্যাগ
হযরত আয়েশা রাযি. বললেন—এতদিন মনে-মনে ওই জায়গাটি নিজের জন্যই সংরক্ষণ করেছিলাম; কিন্তু আজ হযরত উমর [রাযি.]-কে আপন ইচ্ছেতেই অগ্রাধিকার প্রদান করছি।
অনুমতি পাওয়ার পরও হযরত উমর রাযি.-এর দ্বিধা কাটল না। তিনি পুত্রকে ওসিয়ত করলেন—আমার মৃত্যুর পর আমার শবাধার উম্মুল মুমিনীন রাযি.-এর দুয়ারে নিয়ে যাবে এবং পুনরায় অনুমতি প্রার্থনা করবে। এবারও যদি তিনি সন্তুষ্টচিত্তে অনুমতি ব্যক্ত করেন, তবেই আমাকে ভেতরে নিয়ে যাবে। অন্যথায় মুসলমানদের গণকবরেই আমাকে দাফন করবে। তা-ই করা হলো। হযরত আয়েশা রাযি. এবারও সন্তুষ্টচিত্তে অনুমতি দিলেন। অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী হযরত উমর রাযি.-কে তাঁর প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে দাফন করা হলো। হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে নববী খেলাফতের আরও একটি চন্দ্র চিরতরে চোখের আড়াল হয়ে গেল।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: কিতাবুল জানাইয-এ বিস্তারিত আছে।