📄 মৃত্যুশয্যায় পিতার শিয়রে
হযরত আয়েশা রাযি. যেদিন বিধবা হন, সেদিনও সন্ধ্যায় ঘরে কোনো খাবার ছিল না। এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তাতে মরহুম জীবনসঙ্গীর প্রতি তাঁর অগাধ আনুগত্য, সহজাত উদারতা ও প্রকৃতিগত মহানুভবতা আরও মহিমাময় হয়ে ওঠে।
হযরত আবু বকর রাযি.-এর শাসনামল স্থায়ী ছিল মাত্র দু-বছর। ত্রয়োদশ হিজরীতে তিনি আপন প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবী ও পৃথিবীবাসীকে বিদায় জানান। মৃত্যুর সময় বিদুষী আত্মজা পিতার শিয়রে বসা ছিলেন। ইতিপূর্বে হযরত আবু বকর রাযি. তাঁকে কিছু জায়গির প্রদান করেছিলেন। কিন্তু অন্য সন্তানদের কল্যাণেও কিছু করা উচিত। তাই মিনতির স্বরে বললেন—মা, জমিগুলো কি ভ্রাতাদের দিয়ে দেবে? মহীয়সী মেয়ের অকুন্ঠ উত্তর—কেন নয়, পিতা? সানন্দে-সাগ্রহে। পিতা জিজ্ঞেস করলেন—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাফনের কাপড় কয়টি ছিল? হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন—তিনটি সাদা কাপড়। পিতা জিজ্ঞেস করলেন—দিনটি কী ছিল? পুত্রী আরজ করলেন—সোমবার। তিনি জিজ্ঞেস করলেন—আজ কী বার? উত্তর দিলেন—সোমবার। তিনি বললেন—তবে হয়তো আমারও জীবনপ্রদীপ আজ সন্ধ্যা পর্যন্তই জ্বলবে। এরপর নিজের চাদরের দিকে তাকালেন। চাদরে জাফরানের মিশ্রণ ছিল। তিনি বললেন—এই কাপড়টা ধুয়ে আরও দুটো কাপড় দিয়ে আমার কাফনের ব্যবস্থা করবে। হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন—পিতা, এ তো পুরাতন কাপড়। তিনি বললেন—মৃতের চেয়ে জীবিতদের নতুন কাপড়ের প্রয়োজন বেশি। হযরত আবু বকর রাযি.।
এ দিনই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে (আদব রক্ষার্থে) একটু পেছনে সমাহিত করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে নববী নীড়ের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং নববী খেলাফতের একটি উজ্জ্বল তারকা পৃথিবীর আকাশ থেকে খসে পড়ে। হযরত আয়েশা রাযি.-কে বৈধব্যের ক্ষত না শুকোতেই—মাত্র দু-বছরের মাথায় পিতৃবিয়োগের ক্ষতও স্বীকার করতে হয়।
টিকাঃ
২. তিরমিযী, কিতাবুল আদব।
৩. তাবাকাতে ইবনে সাদ। তরজমায়ে আবু বকর রাযি.।
১. সহীহ বুখারী: আবওয়াবুল জানাইয।