📄 তাখয়ীরের প্রেক্ষাপট
কোনো নবীই শুধুমাত্র স্ত্রীদের তাগিদে পার্থিব বিলাস গ্রহণ করতে পারেন না। তাই পবিত্র কুরআনে তাখঈরের আয়াত নাজিল হয়। তাখঈর অর্থ ইচ্ছাধিকার প্রদান। অর্থাৎ পবিত্র স্ত্রীগণ প্রত্যেকে স্বাধীন। যার যার নির্ণয় নিজেই নেবেন। চাইলে অভাব-অনটনকে সাদরে বরণ করে পবিত্র স্ত্রীর মর্যাদায় ভূষিত থাকতে পারেন, চাইলে এই সম্মান ত্যাগ করে দুনিয়ার বিলাস গ্রহণ করতে পারেন। যারা দুনিয়ার সাময়িক বিলাসকে বিসর্জন দিতে পারবে, আল্লাহ তাদেরকে দান করবেন আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ, সম্মান ও সৌভাগ্য। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيُوةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّ حُكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا
অর্থ: হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও পার্থিব বিলাস কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদের ন্যায়সঙ্গত ও উত্তম পন্থায় মুক্ত করে দিই। আর যদি আল্লাহ, রাসূল ও পরকাল কামনা কর, তা হলে জেনে রেখো, আল্লাহ মুহসিন নারীদের জন্য রেখেছেন বিরাট প্রতিদান। (সূরা আহযাব, আয়াত: ২৮-২৯)
আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে যান এবং বলেন-আয়েশা, আমি তোমাকে একটি প্রস্তাব দেব, তুমি তোমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবে। হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, ইরশাদ করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপর্যুক্ত আয়াতটি পড়ে শোনালেন। তিনি আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, আমি কোন বিষয়ে আব্বা-আম্মার পরামর্শ নেব? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই বেছে নিয়েছি। হযরত আয়েশা রাযি.-এর স্বতঃস্ফূর্ত উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকে খুশির ছাপ দেখা দিল। হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, আমার নির্ণয় অন্যরা না জানলে ভালো হতো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু হাসলেন। বললেন, আয়েশা, পৃথিবীতে এসেছি শিখিয়ে দিতে; চাপিয়ে দিতে নয়।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম: ঈলা অংশে সবগুলো ঘটনা আছে।