📄 তাহরীমের ঘটনা
পূর্বে আলোচিত হয়েছে, পবিত্র স্ত্রীগণ দুটো পাড়ায় বাস করতেন। একটাতে হযরত আয়েশা রাযি., হযরত হাফসা রাযি., হযরত সাওদা রাযি. এবং হযরত সাফিয়্যা রাযি.। আর অন্যটাতে হযরত যায়নাব রাযি. ও অন্যান্য স্ত্রীগণ।
সাধারণত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাযের পর পবিত্র স্ত্রীগণের কাছে যেতেন এবং সবাইকেই একটু একটু করে সময় দিতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে সমতা রক্ষার ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত তৎপর। কখনো কোনো বিষয়ে কারও প্রতি যেন বিন্দুমাত্র কমবেশি না হয়, সেজন্য খুবই সতর্ক থাকতেন। তা সত্ত্বেও একবার এমন ঘটল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাগাতার কয়েকদিন হযরত যায়নাব রাযি.-এর পাড়ায় বিকেলবেলা একটু বেশি সময় দিচ্ছিলেন; অথচ নির্ধারিত সময়ে অন্যান্য স্ত্রীগণ অপেক্ষায় থাকেন। হযরত আয়েশা রাযি. খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, হযরত যায়নাব রাযি.-কে তাঁর কোনো কাছের মানুষ কিছু মধু হাদিয়া দিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু মধু খুব পছন্দ করেন, তাই তিনি মধু দিয়ে তাঁর আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মধু ফিরিয়ে দিতে পারেন না বলেই গমনাগমনের সময়সূচি এভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হযরত আয়েশা রাযি. বিষয়টি হযরত হাফসা রাযি. ও হযরত সাওদা রাযি.-এর কাছে উত্থাপন করলেন-এ ব্যাপারে কী করা যায়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতাপ্রিয়। সামান্য দুর্গন্ধও পছন্দ করতেন না। মৌমাছি যেই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে, মধুতে সেই ফুলের স্বাদ ও গন্ধ থাকে। আরবে মাগাফির নামক এক প্রকার ফুল ছিল। সেই ফুলের গন্ধে নাবিযের মতো সামান্য ঝাঁঝ হতো। হযরত আয়েশা রাযি. দুজনকেই বোঝালেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন তখন তাঁরা প্রত্যেকেই যেন জিজ্ঞেস করেন-হে আল্লাহর রাসূল, আপনার মুখে গন্ধ কীসের? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন, মধু পান করেছি। তারা বলবেন, সম্ভবত তা মাগাফিরের। ...এবং এমনটাই ঘটল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে মধুর প্রতি ঘৃণা জন্মাল। তিনি আর মধু পান করবেন না শপথ করলেন।
যদি এ কোনো সাধারণ মানুষের বিষয় হতো, তা হলে কোনো কথা ছিল না। কিন্তু এ তো এক শাশ্বত ধর্মের মহান প্রবর্তকের বিষয়, যাঁর প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হবে অসংখ্য বিধান। তাই মহান আল্লাহ তাঁকে ভর্ৎসনা করলেন। অবতীর্ণ হলো সূরা তাহরীমের প্রথম কয়েকটি আয়াত:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللَّهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
অর্থ: হে নবী, স্বয়ং আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করে দিয়েছেন তা শুধু পত্নীদের মনোরঞ্জনের জন্য হারাম করে নিচ্ছেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ার্দ্র। আল্লাহ তোমাদের শপথের কাফফারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদের মনিব। তিনিই সর্বজ্ঞ, মহাপ্রজ্ঞাময়। (সূরা তাহরীম, আয়াত: ১-২)
আবার ওই দিনগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত হাফসা রাযি.-কে কোনো কথা গোপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত হাফসা রাযি. বিষয়টি হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে আলোচনা করেন। এ প্রসঙ্গেই কুরআনে কারীমে পরবর্তী আয়াতে এসেছে:
وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِ وَأَظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَأَكَ هَذَا قَالَ نَبَّأَنِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِير
অর্থ: যখন নবী তাঁর কোনো পত্নীকে একটি কথা গোপন করতে বললেন, কিন্তু পত্নী তা আরেকজনকে জানিয়ে দিল, আর আল্লাহও নবীকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিলেন, তখন নবী তাঁর সেই পত্নীর কাছে তার ত্রুটির কথা ব্যক্ত করলেন আর কিছু কথা এড়িয়ে গেলেন। পত্নী অবাক হয়ে জানতে চাইল, কে আপনাকে এসব অবহিত করল? নবী বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন সেই সত্তা, যিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত, যিনি সর্ব বিষয়ে অবহিত। (সূরা তাহরীম, আয়াত: ৩)
এরপরের আয়াতে আল্লাহ সেই পত্নীদ্বয়কে সম্বোধন করে বলছেন-
إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ
অর্থ: যদি তোমরা দুজনে আল্লাহর কাছে তওবা করো (তা হলে ক্ষতি নেই); কেননা (তওবা করার দ্বারা) তোমাদের হৃদয় তো আল্লাহমুখী হয়েই গেল। আর যদি তোমরা জোটবদ্ধ থেকেই যাও, তা হলেও (হে মুনাফিকের দল, এতে উৎফুল্ল হবার কিছু নেই; কেননা) স্বয়ং আল্লাহ তাঁর মনিব। আর জিবরীল, বিশ্বাসীগণ, সৎ বান্দাগণ আর আমার ফেরেশতাকুল তাঁর সহায়ক হিসেবে তো আছেনই। (সূরা তাহরীম, আয়াত: ৪)
এখন প্রশ্ন হলো, কী এমন রহস্য ছিল যা গোপন করার জন্য এত কঠোরতার প্রয়োজন! সহীহ বুখারীতে আছে, গোপনীয় বিষয়টি ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মধুর মতো উৎকৃষ্ট বস্তুকে নিজের ওপর হারাম করে নেওয়া। সনদের বিচারে বিশুদ্ধ নয় এমন কিছু বর্ণনায় আছে—'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মারিয়া নাম্নী এক দাসী ছিল। তিনি হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত হাফসা রাযি.-কে খুশি করার জন্য সেই দাসীকে নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন এবং হযরত হাফসা রাযি.-কে বলেছিলেন, কথাটা যেন নিজের কাছেই সীমাবদ্ধ রাখেন, হযরত আয়েশা রাযি.-কে না জানান। কিন্তু হযরত হাফসা রাযি. রাসূলের কথা রাখতে ব্যর্থ হন এবং হযরত আয়েশা রাযি.-কে জানিয়ে দেন। এ প্রসঙ্গেই আয়াতে কারীমাটি নাজিল হয়।
কিন্তু ভাববার বিষয় হলো, গোপনকৃত বিষয়টি দ্বারা হযরত আয়েশা রাযি.-সহ আরও কোনো স্ত্রীকে খুশি করার অভিপ্রায় ছিল। কেননা কুরআনে এসেছে: হে নবী, স্বয়ং আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করে দিয়েছেন তা শুধু পত্নীদের মনোরঞ্জনের জন্য হারাম করে নিচ্ছেন? সুতরাং যদি স্ত্রীদের খুশি করার জন্যই তিনি কিছু হারাম করে নিয়ে থাকেন, তা হলে সেটা তাদের থেকে গোপন করার অর্থ কী? বিষয়টি জানলেই না তারা খুশি হবেন! একটি বিষয় আরও ভাবিয়ে তোলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ওপর যেটা হারাম করেছিলেন, সেটা আদৌ মধু জাতীয় কোনো সাধারণ পদার্থ কি না। কেননা সনদের বিচারে বর্ণনাটি বিশুদ্ধ হলেও সেটা শুধু হযরত হাফসা রাযি.-এর চাহিদা ছিল। অথচ আয়াতের দাবি অনুসারে কমপক্ষে তিনজনের চাহিদা অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটা করে থাকবেন। কেননা কুরআনে বহুবচন ব্যবহৃত হয়েছে। আরবী ভাষায় বহুবচন সর্বনিম্ন তিনটি সংখ্যার ধারণা দেয়। আরও ভাবা দরকার, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো পানীয় বর্জনের শপথ করলেন, বা কোনো দাসীকে নিজের ওপর হারাম করে নিলেন, এতে কী এমন ঘটে যে ভূলোক-দ্যুলোকের মানব-দানবের সহায়তা নেওয়ার আবশ্যকতা হবে! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মধু পান না করেন, বা কোনো দাসীর কাছে না যান, তা হলে লোকজন আপনা-আপনিই জেনে যাবে যে তিনি এমনটা করেছেন। যেমন আরবরা শুশুক খেত, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করতেন। অসংখ্য বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি দু-একজন স্ত্রীকে তালাকও দিয়েছিলেন, অথবা তালাকের কথা বলেছিলেন; কিন্তু এগুলো কোনোটাই এভাবে গোপন করার মতো ছিল না।
যারা কুরআনে কারীমের ভাব ও ভাষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন, যাদের আরবী ভাষার বাবৈচিত্রে ব্যুৎপত্তি আছে, তারা অবশ্যই জানেন যে, ১১ শব্দটির পর সবসময় নতুন সুরে নতুন বিষয়ের অবতারণা হয়।
আগের আয়াত পর্যন্ত অবশ্যই নবী কর্তৃক কোনো হালাল বস্তুকে নিজের ওপর হারাম করার কথা এসেছে। কিন্তু ১১ থেকে যে গোপনীয় বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, তা অন্য কিছু। খোদ কুরআনেই যা বিবৃত হয়েছে অপর আয়াতে। সেটি হলো পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে দু-একজন সদস্যের একাত্মতা ও জোটবদ্ধতা। সহীহ মুসলিমকে সামনে রাখলে বিষয়টি বিশদভাবে জানা যায়।
মদীনার মুনাফিকদের শঠতা, কপটতা ও নিকৃষ্টতার কথা কে না জানেন। যে কোনো ইস্যুতে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠা তাদের পক্ষে অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে দু-একজনের জোটবদ্ধতার কথা যদি তারা জানতে পারে, তা হলে এই বিষয়টাকে কাজে লাগিয়ে তারা যে কোনো বড় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে না, তার কী নিশ্চয়তা আছে? বরং সেটাই স্বাভাবিক। এটা শুধু যুক্তি-ই নয়, কুরআন থেকেও প্রমাণিত। উল্লিখিত আয়াতের তাৎপর্যও এটাই।
পরবর্তী আয়াতগুলোতে ঘটনার প্রেক্ষিতে মুসলমানদের উপদেশ দেওয়া হয়, তারা যেন স্ত্রী-সন্তানের মায়া-মোহে সত্য ও ন্যায় থেকে বিচ্যুত না হয়। এরপর বলা হয়:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
অর্থ: হে নবী, কাফের ও মুনাফেকদের সঙ্গে মোজাহাদা ও কঠোরতা করুন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কত নিকৃষ্ট তাদের পরিণতি। (সূরা তাহরীম, আয়াত: ৯)
শুধু এ-ই নয়, পুনরায় নবীকে সম্বোধন করে হযরত নূহ আ. এবং হযরত লূত আ.-এর স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়। তারা সত্যের অনুকূলে আসেনি বলে কি নবীদের দাওয়াতি কার্যক্রম থেমে থেকেছিল? বা কোনো ত্রুটি হয়েছিল? তা হলে নবীপরিবারের দু-একজন সদস্যের সাময়িক আনুকূল্য-লাভে-অর্থাৎ তাদের জোটবদ্ধতার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে-মুনাফিকরা আর কীবা করতে পারবে? এই অনুমানের শুদ্ধতা পবিত্র কুরআনের আরও একটি আয়াত থেকে প্রতিভাত হয়, যা অনেকটা এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নাজিল হয়েছিল। ইরশাদ হচ্ছে:
وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ
অর্থ: আর যখন স্বস্তি বা ভীতির কোনো সংবাদ মুনাফিকরা পায়, তখন (যেখানে সেখানে অসৎ উদ্দেশ্যে) ছড়িয়ে বেড়ায়। অথচ যদি তারা রাসূলের কাছে, বিচক্ষণ ব্যক্তিদের কাছে তা উত্থাপন করত, তা হলে অবশ্যই যারা বোঝার, বুঝে যেত। (সূরা নিসা, আয়াত: ৮৩)
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৪৯।
১. পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণ স্পষ্টতই ব্যক্ত করেছেন যে, রেখাযুক্ত এই বর্ণনাটি সহীহ সনদে সাব্যস্ত নয়।
১. সহীহ মুসলিম: বাবুল ঈলা।
📄 কিছু ভ্রান্তি ও নিরসন
দ্বিতীয় আয়াতের তাফসীরে কতিপয় তাফসীরকার ভুলের মধ্যে আছেন। তাদের তাফসীর অনুযায়ী আয়াতটির তরজমা দাঁড়ায়-আর যদি তোমরা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর (তাহলে এটা খুবই জরুরি); কেননা তোমাদের হৃদয় বক্র হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যদি তোমরা জোটবদ্ধ থেকেই যাও, তা হলে আল্লাহই তাঁর নবীর মনিব।...
রেখাযুক্ত তরজমাটি সম্পূর্ণ ভুল। এটা স্পষ্ট যে, বাক্যটি শর্তসাপেক্ষ। আরবী ভাষায় এ ধরনের বাক্যের পরবর্তী অংশ উহ্য থাকে। উহ্য বাক্যটি নির্ণিত হয় পূর্বাপরের আবহ থেকে। আমরা সেই উহ্য বাক্যটি নির্ধারণ করেছি-لَا بَأْسَ (কোনো ক্ষতি নেই)। কিন্তু অনেকে উহ্য বাক্য ধরেছেন- فَهُوَ وَاجِبٌ (এটা জরুরি)। আরবী ভাষার ব্যাকরণ সম্পর্কে যাদের ভালো ধারণা আছে, তারা নিশ্চয় জেনে থাকবেন, যদি إِنْ দ্বারা সূচিত শর্তবাক্যের শেষে إِذًا দ্বারা পরবর্তী উহ্য বাক্যের হেতু নির্দেশিত হয়, তা হলে উহ্য বাক্যটি হয়-لَا بَأْسَ (কোনো সমস্যা নেই), لا حرج (কোনো ক্ষতি নেই), لَا ضَيْرَ (কোনো সমস্যা নেই), فَهُوَ هَمِّنْ (এ তো মামুলি ব্যাপার) ইত্যাদি। প্রাচীন আরবের কাব্যসম্ভার এমনকি স্বয়ং কুরআনে কারীমে এর অসংখ্য উদাহরণ আছে।
صَغَتْ শব্দটির زَاغَتْ (বক্র/ বিচ্যুত হয়েছে/সরে গিয়েছে) অর্থটিও ঠিক নয়। কেননা হযরত আয়েশা রাযি. এবং উম্মাহাতুল মুমিনীনের সদস্যবৃন্দ, আল্লাহ মাফ করুন, নিঃসন্দেহে এ ধরনের ক্ষুদ্রতার অনেক ঊর্ধ্বে। তাদের হৃদয় বক্র হয়ে যাবে, তারা বিপথে চলে যাবেন এটা কল্পনাও করা যায় না। আসলে কোনো কিছু থেকে সরে যাওয়া আর কোনো কিছুর দিকে ঝুঁকে যাওয়া এক কথা নয়। যে কোনো ভাষাতেই এ দুটো অর্থকে ধারণ করে এমন প্রচুর শব্দ পাওয়া যায়। আরবী ভাষায়ও এ ধরনের বেশ কিছু শব্দ আছে। আমরা শব্দগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি:
এক. যেগুলো শুধু প্রথম অর্থকে ধারণ করে। যেমন: الْحَرَف ادعوى، زاغ، حاد
দুই. যেগুলো শুধু দ্বিতীয় অর্থটিকে ধারণ করে। যেমন: قَاءَ، تَابَ الْتَفَتَ، تَوَجَّهَ
তিন. যেগুলো উভয় অর্থকে ধারণ করে। যেমন: مَالَ، شَغَلَ، عَدَلَ، رَجَعَ
صَغَتْ শব্দটি দ্বিতীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। অনেকে শব্দটিকে তৃতীয় অর্থে গ্রহণ করেছেন। আবার অনেকে ব্যবহার করেছেন প্রথম অর্থে। আর এটাই সবচেয়ে বড় ভাষাগত ত্রুটি। আরবী ভাষার কোনো শব্দভাণ্ডার একে সমর্থন করে না। কুরআনে কারীমের আরও একটি জায়গায় শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে:
وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ
অর্থ: ...এবং যারা ঈমান আনবে না, তাদের হৃদয় যেন ঝুঁকে যায় তার দিকে...। (সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১৩)
দেখুন, কোনো কিছু থেকে সরে যাওয়া বা বিচ্যুত হওয়ার অর্থে শব্দটিকে কি গ্রহণ করা সম্ভব?
আয়াতে কারীমায় হযরত আয়েশা রাযি. এবং হযরত হাফসা রাযি.-এর অন্তর কীসের দিকে ঝুঁকে গিয়েছে তার উল্লেখ নেই। অনেকে, আল্লাহ মাফ করুন, লিখেছেন-রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তাঁকে বিপদে ফেলার দিকে। অথচ ব্যাকরণের রীতি অনুসারে যে শব্দ উহ্য থাকে, তা আগে- পিছে কোথাও না কোথাও থেকেই থাকে। অন্তত তার স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকে। লক্ষ করুন, পূর্বে তওবার কথা আছে, যার মর্মার্থ-আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন। সুতরাং উহ্য কথাগুলো উক্ত করলে বাক্যটির রূপ দাঁড়াবে:
إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا إِلَى التَّوْبَةِ إِلَى اللَّهِ)
অর্থ: যদি তোমরা দুজনে আল্লাহর কাছে তওবা কর (তাহলে বিষয়টি তোমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে না); কেননা (তওবা করার দ্বারা) তোমাদের হৃদয় তো আল্লাহমুখী হয়েই গেল।
টিকাঃ
১. যারা আরবী জানেন নিম্নোক্ত আয়াতগুলো ভেবে দেখুন- فَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِبَ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ অর্থ: যদি তারা আপনাকে মিথ্যুক বলে তা হলে ক্ষতি কী! আপনার পূর্ববর্তী রাসূলগণকেও তো মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৪) إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ الله অর্থ: যদি তোমরা তার সাহায্যে এগিয়ে না আস, তবে এ আর এমন কী! আল্লাহ তো অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। (সূরা তাওবা, আয়াত: ৪০) وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ অর্থ: আর যদি তারা আবার এমনটা করে তা হলে ভাববার কিছু নেই। পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত তো গিয়েছেই। (সূরা আনফাল, আয়াত: ৩৮) فَإِن يَكْفُرْ بِهَا هَوْلَاءِ فَقَدْ وَكَلْنَا بِهَا قَوْمًا لَّيْسُوا بِهَا بِكَفِرِينَ অর্থ: আর যদি এরা এটা অস্বীকার করে তা হলে কিছু আসে যায় না। কেননা আমি এমন একটি সম্প্রদায়কে নিযুক্ত করেছি যারা এটা অস্বীকার করবে না। (সূরা আনআম, আয়াত: ৮৯)
১. লিসানুল আরব এবং বায়যাবী গ্রন্থে যা আছে—তাও قبل শব্দযোগে। মাওলানা হামীদ আদ-দীন সূরা তাহরীমের তাফসীরে এ বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। বিশদ জানার জন্য যা দেখা যেতে পারে।
📄 ঈলার ঘটনা
তাহরীমের ধারাবাহিকতায়ই ঘটে ঈলার ঘটনা। এগুলো নবম হিজরীর কথা। আরবের দূরদূরান্তের গোত্রগুলো ইসলামের ছায়াতলে এসে চলেছে। গনিমতের মাল, বিজিত অর্থসম্পদ এবং বার্ষিক আয়ে সমৃদ্ধ ধনভাণ্ডার একের পর এক মদীনাকে ভরপুর করে তুলছে।
আশা করি, নবীপরিবার যে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কালাতিক্রম করছিলেন তারও একটা সাধারণ ধারণা ইতোমধ্যে ‘সংসার-জীবন’ শিরোনামে পাঠক পেয়ে থাকবেন।
খায়বার বিজয়ের পর পবিত্র স্ত্রীগণের জন্য যে খোরপোশ নির্ধারিত হয়েছিল, তা একে তো খুবই কম, তার ওপর তাদের বদান্যতা, দানশীলতা-সব মিলিয়ে টানাটানি করেও বছর পার হওয়া ছিল কঠিন। ঘরে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। অথচ পবিত্র স্ত্রীগণের অনেকেই ছিলেন ধনী পরিবারের মেয়ে বরং শাহযাদি। তারা ইতিপূর্বে কি নিজের ঘরে, কি স্বামীসংসারে, অঢেল সম্পদ ও ভোগবিলাসের মধ্য দিয়ে জীবন-যাপন করেছেন। তাই মদীনা যখন ধনসম্পদে পরিপূর্ণ, আর অজস্র ঐশ্বর্য যখন রাসূলের পদতলে, তখন নবীপরিবারের বার্ষিক খরচ কি একটু বাড়ানো যায় না? পবিত্র স্ত্রীগণ এই মর্মে তাঁদের মনোবাঞ্ছার কথা ব্যক্ত করলেন রাসূলের কাছে।
হযরত উমর রাযি. বিষয়টি জেনে হতভম্ব হয়ে গেলেন। প্রথমেই আপন আত্মজাকে বোঝালেন রাসূলের কাছে কোনো আবদার কোরো না, তোমার যা লাগে আমাকে বলো। রাসূল তোমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রেখেছেন শুধু আমার খাতিরে, নয়তো অনেক আগেই ছেড়ে দিতেন। এরপর তিনি এক এক করে উম্মাহাতুল মুমিনীনের প্রত্যেকের দ্বারেই গেলেন এবং বোঝালেন। কিন্তু হযরত উম্মে সালামা রাযি. বলে বসলেন—উমর, আপনি সবকিছুতেই নাক গলান; এবার এসেছেন রাসূলের পরিবারের বিষয়েও নাক গলাতে? উম্মুল মুমিনীনের জবাবে হযরত উমর রাযি. স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
একদিন হযরত আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি. দুজনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলেন। দেখলেন রাসূল বিষণ্ণ, মধ্যখানে বসা, এদিক-ওদিক পবিত্র স্ত্রীগণ—তাঁরা খোরপোশ বাড়ানোর কথা বলছেন। দুজনই যাঁর যাঁর আত্মজাকে শাসন করলেন। হযরত আয়েশা রাযি. এবং হযরত হাফসা রাযি. কথা দিলেন, ভবিষ্যতে আর এ ধরনের আবদার করে রাসূলকে কষ্ট দেবেন না।
অন্যান্য স্ত্রীগণ তাঁদের দাবির ওপর অটল। ঘটনাক্রমে এরই মধ্যে একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হলেন। হযরত আয়েশা রাযি.-এর হুজরাসংলগ্ন একটি ওপরতলা ছিল, বলা যায় হুজরার গুদামঘর। আহত অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানেই অবস্থান গ্রহণ করলেন এবং শপথ করলেন—এক মাস পবিত্র স্ত্রীগণের কাছে যাবেন না। মুনাফিকরা রটাতে লাগল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন। ঘরে ঘরে শোরগোল পড়ে গেল। সাহাবা কেরام মসজিদে নববীতে সমবেত হলেন। পবিত্র স্ত্রীগণ মর্মাহত। শোকের ছায়া নেমেছে নবীপরিবারে। কী হতে কী হয়ে গেল। সাহাবা কেরام কেউ সাহস করছেন না যে, স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সত্য জানতে চাইবেন।
হযরত উমর রাযি. সংবাদ পেয়ে মসজিদে নববীতে এলেন। সাহাবা কেরام সবাই স্তব্ধ। হযরত উমর রাযি. রাসূলের সাক্ষাৎ লাভের অনুমতি চাইলেন। কিন্তু কোনো উত্তর এল না। দ্বিতীয়বার অনুমতি চাইলেন। এবারও সাড়া মিলল না। অবশেষে তৃতীয়বারে অনুমতি পেয়ে কাছে গেলেন। দেখলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চকিতে শুয়ে আছেন। শরীরে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গিয়েছে। এদিক-সেদিক তাকিয়ে দেখলেন দয়ার নবীর কাছে কিছুই নেই। শুধু মাটির বরতন ও দু-একটি শুকনো মশক। দোজাহানের বাদশাহর রিক্ততা দেখে হযরত উমর রাযি. অশ্রুসিক্ত হলেন। তিনি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি সত্যি সত্যিই পবিত্র স্ত্রীগণকে ত্যাগ করেছেন? ইরশাদ হলো, না। আরজ করলেন, এই সুসংবাদ কি মুসলমানগণ পেতে পারেন? ইরশাদ হলো, হ্যাঁ। হযরত উমর রাযি. সানন্দে উচ্চস্বরে-আল্লাহু আকবার- তাকবীর দিলেন।
মাসটি ছিল ঊনত্রিশ দিনের। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন-আমি শুধু দিন গুনতাম। উনত্রিশতম দিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে যান। তিনি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো একমাসের শপথ করেছিলেন। অথচ সবে মাত্র উনত্রিশ দিন হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়েশা, এক মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়।
টিকাঃ
১. আবু দাউদ: باب إمامة من صلى قاعدا।
২. আবু দাউদ: باب إمامة من صلى قاعدا।
৩. সহীহ মুসলিম: باب الإيلاء।
📄 তাখয়ীরের প্রেক্ষাপট
কোনো নবীই শুধুমাত্র স্ত্রীদের তাগিদে পার্থিব বিলাস গ্রহণ করতে পারেন না। তাই পবিত্র কুরআনে তাখঈরের আয়াত নাজিল হয়। তাখঈর অর্থ ইচ্ছাধিকার প্রদান। অর্থাৎ পবিত্র স্ত্রীগণ প্রত্যেকে স্বাধীন। যার যার নির্ণয় নিজেই নেবেন। চাইলে অভাব-অনটনকে সাদরে বরণ করে পবিত্র স্ত্রীর মর্যাদায় ভূষিত থাকতে পারেন, চাইলে এই সম্মান ত্যাগ করে দুনিয়ার বিলাস গ্রহণ করতে পারেন। যারা দুনিয়ার সাময়িক বিলাসকে বিসর্জন দিতে পারবে, আল্লাহ তাদেরকে দান করবেন আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ, সম্মান ও সৌভাগ্য। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيُوةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّ حُكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا
অর্থ: হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও পার্থিব বিলাস কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদের ন্যায়সঙ্গত ও উত্তম পন্থায় মুক্ত করে দিই। আর যদি আল্লাহ, রাসূল ও পরকাল কামনা কর, তা হলে জেনে রেখো, আল্লাহ মুহসিন নারীদের জন্য রেখেছেন বিরাট প্রতিদান। (সূরা আহযাব, আয়াত: ২৮-২৯)
আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে যান এবং বলেন-আয়েশা, আমি তোমাকে একটি প্রস্তাব দেব, তুমি তোমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবে। হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, ইরশাদ করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপর্যুক্ত আয়াতটি পড়ে শোনালেন। তিনি আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, আমি কোন বিষয়ে আব্বা-আম্মার পরামর্শ নেব? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই বেছে নিয়েছি। হযরত আয়েশা রাযি.-এর স্বতঃস্ফূর্ত উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকে খুশির ছাপ দেখা দিল। হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, আমার নির্ণয় অন্যরা না জানলে ভালো হতো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু হাসলেন। বললেন, আয়েশা, পৃথিবীতে এসেছি শিখিয়ে দিতে; চাপিয়ে দিতে নয়।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম: ঈলা অংশে সবগুলো ঘটনা আছে।