📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 দাসীর সাক্ষ্যপ্রদান

📄 দাসীর সাক্ষ্যপ্রদান


বিষয়টি যেহেতু একেবারেই কল্পনাতীত ছিল, সেহেতু সেবিকাকে ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা প্রশ্নই বুঝল না। ভাবল, হয়তো সাধারণ ও সাংসারিক বিষয়ে হযরত আয়েশা রাযি. সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। দাসী উত্তর দিল, তেমন কোনো দোষত্রুটি তো দেখি না, শুধু যখন-তখন ঘুমিয়ে পড়েন আর বকরি এসে খাবার সব সাবাড় করে চলে যায়। অবশেষে স্পষ্ট ভাষায়ই জিজ্ঞেস করা হলো। প্রশ্ন শুনে সেবিকার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সে হতভম্ব হয়ে বলল—সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম, স্বর্ণকার যেমন খাঁটি সোনা চিনে নেয়, আমিও তাঁকে তেমনই চিনে নিয়েছি।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 আলী রাযি.-এর প্রতি বনু উমাইয়ার আপত্তি ও নিরসন

📄 আলী রাযি.-এর প্রতি বনু উমাইয়ার আপত্তি ও নিরসন


কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আলী রাযি. দাসীকে মেরেছিলেন পর্যন্ত। হযরত আলী রাযি.-এর রুক্ষতায় অনেকে ভেবেছিলেন হযরত আয়েশা রাযি. কষ্ট পেয়ে থাকবেন। উমাইয়া শাসনামলে হযরত আলী রাযি.-এর বিরুদ্ধে যে আপত্তিগুলো উত্থাপিত হয়েছিল তার মধ্যে এটিও একটি। কিন্তু ইমাম যুহরী রহ. যথাসময়ে যথেষ্ট যৌক্তিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গেই তার অপনোদন করেছিলেন।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত যায়নাব রাযি.-এর সাক্ষ্যপ্রদান

📄 হযরত যায়নাব রাযি.-এর সাক্ষ্যপ্রদান


পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে একমাত্র হযরত যায়নাব রাযি.-ই হযরত আয়েশা রাযি.-এর সমকক্ষতার দাবি করতেন। আবার কুৎসা-রটকদের মধ্যে তাঁর ছোটবোন হযরত হামনা রাযি.-ও ছিলেন। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকেও বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনিও প্রশ্ন শোনামাত্রই কানে আঙুল দিলেন; যেন এমন কথা শোনাও পাপ। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিলেন—আল্লাহর কসম, আয়েশা [রাযি.]-এর ব্যাপারে ভালো ছাড়া মন্দ কিছু আমি জানি না।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 রাসুলের ভাষণ এবং আওস-খাযরাজ দ্বন্দ্ব

📄 রাসুলের ভাষণ এবং আওস-খাযরাজ দ্বন্দ্ব


এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল সাহাবীকে মসজিদে নববীতে একত্র করে সংক্ষেপে নবীপরিবারের পবিত্রতা তুলে ধরলেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের নীচতা ও নিকৃষ্টতার কথাও স্মরণ করালেন। এরপর বললেন-হে আমার মুসলমান ভাইয়েরা, এহেন ইতরকে আমার পক্ষ থেকে কে শায়েস্তা করতে পারে, যার ব্যাপারে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, সে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করে? আওসের গোত্রপতি হযরত সাদ ইবনে মুআয রাযি. দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বজ্রকণ্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন-আমি, হে আল্লাহর রাসূল। যদি সে ইতর আমাদের আওস গোত্রের হয়, তা হলে এখনই তার গর্দান উড়িয়ে দেব। আর যদি আমাদের মিত্র খাযরাজ গোত্রেরও হয়, তবু আপনি শুধু আদেশ দিন, আপনার আদেশ শিরোধার্য।
আওস ও খাযরাজের পারস্পরিক বিদ্বেষ ও কথায় কথায় যুদ্ধপ্রবণতা ছিল বংশপরম্পরাগত। ইসলাম সেই অনভিপ্রেত অগ্নিকে নির্বাপিত করেছিল ঠিকই; কিন্তু ছাইয়ের নিচে চাপাপড়া জ্বলন্ত অঙ্গার তখনো ছিল। সামান্য ফুৎকারেও সে অঙ্গার দাউদাউ করে জ্বলে উঠত। খাযরাজের গোত্রপতি সাদ ইবনে উবাদা রাযি. আওসের গোত্রপতির উৎসাহকে ধৃষ্টতা জ্ঞান করলেন। তিনি ভাবলেন, আওস গোত্রপতি নিজ গোত্রের ব্যাপারে যা-তা করতে পারেন, বলতে পারেন; কিন্তু অন্য গোত্রের ব্যাপারে নাক গলানোর অধিকার তার নেই। খাযরাজের ব্যাপারে যা বলার খাযরাজ গোত্রপতিই বলবেন, তিনি এ ব্যাপারে কথা বলার কে? তা ছাড়া ঘটনাচক্রে সেই ইতর খাযরাজ গোত্রের সঙ্গেই সম্পর্কিত ছিল। আর হযরত হাসান ইবনে সাবিত রাযি.-এর মামলা তো মিটেই গেছে। তাই তিনি হযরত সাদ ইবনে মুআয রাযি.-কে সম্বোধন করে বললেন-কিন্তু আপনি তো হত্যা করতে পারবেন না, কারণ সে অধিকার আপনার নেই। সঙ্গে সঙ্গে ইবনে মুআয রাযি.-এর চাচাতো ভাই উসায়েদ ইবনে হুযায়ের রাযি. কথা ধরলেন। তিনি বলে উঠলেন-হে সাদ, এ তো মুনাফিকি! আপনি মুনাফিকদের পক্ষ নিচ্ছেন কী করে? ... ব্যস, গোলমাল পাকিয়ে গেল! তুমুল বাগ্বিতণ্ডা থেকে অস্ত্র ধারণের উপক্রম হলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে চুপ করালেন। আলোচনা এভাবেই সমাপ্তি পেল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00