📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 মুনাফিকদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র

📄 মুনাফিকদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র


মদীনায় এসে মুসলমানদের যেসব বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সেগুলো মক্কার বিপদাপদের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। মদীনায় একদল মুনাফিক ও কপটশ্রেণির উদ্ভব ঘটেছিল। এদের মন-মগজের ধ্যান-ধারণা প্রতিমুহূর্ত লিপ্ত ছিল ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রে। মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সম্মান ও সম্ভ্রম। আর সেই সম্মান ও সম্ভ্রমে আঘাত হানা ঘোরতর শত্রুরই কাজ। ইসলাম যেমন একনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত ও প্রেমময় বন্ধু লাভ করেছিল তেমনই লাভ করেছিল কপটচারী, ঘোর বিদ্বেষী ও চরম বিশ্বাসঘাতক শত্রুও। বানোয়াট অশোভন ঘটনার প্রচারণা চালানো, পারিবারিক বা পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও মনোমালিন্যের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা—এগুলোই তাদের বড় হাতিয়ার। আল্লাহ না করুন, যদি সময়মতো আল্লাহর সাহায্য না হতো, তা হলে তাদের বিধ্বংসী প্রচেষ্টাগুলো আরও আগেই সাহাবা কেরামের মাঝে বিভেদ বরং রক্তপাতও ঘটাত।
কপটশ্রেণির সেই অপচেষ্টাগুলোর মধ্যে নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম হলো, ইফক তথা হযরত আয়েশা রাযি.-এর নামে অপবাদ-আরোপ। এটা সকলেরই জানা আছে যে, কপটশ্রেণি মুনাফিকদলের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলেন হযরত আবু বকর রাযি. ও হযরত উমর রাযি.। আর এজন্যই তাদের অপচেষ্টার সিংহভাগই ব্যয়িত হতো হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত হাফসা রাযি.-এর নামে কুৎসা রটনার মধ্যে। এ ধরনের অসংখ্য উদাহরণ পূর্বে গিয়েছে এবং সামনে আসবে।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিকে মুনাফিকদের অংশগ্রহণ

📄 গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিকে মুনাফিকদের অংশগ্রহণ


নজদের নিকটেই মুরাইসি (مریسیع) নামক বনী মুসতালিকের একটি কূপ ছিল। পঞ্চম হিজরী-শাবান মাসে এই কূপের পাশেই মুসলমানগণ বনু মুসতালিকের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য তাঁবু ফেলেছিলেন। যেহেতু পূর্বেই বোঝা গিয়েছিল যে, এ যুদ্ধে কোনোরকম রক্তপাত ঘটবে না বা ক্ষয়ক্ষতি হবে না, সেহেতু মুনাফিকরাও নির্ভয়ে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। ইবনে সাদ বর্ণনা করেন:
وَ خَرَجَ مَعَهُ بَشَرٌ كَثِيرٌ مِّنَ الْمُنَافِقِينَ لَمْ يَخْرُجُوا فِي غَزْوَةٍ قَطُّ مِثْلُهَا
অর্থ: এই অভিযানে অসংখ্য মুনাফিক শরীক হয়েছিল, যা অন্য কোনো অভিযানে দেখা যায়নি।

টিকাঃ
১. ইবনে সাদ: মাগাযি, পৃষ্ঠা: ৪৫।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সফরসঙ্গিনী হলেন হযরত আয়েশা রাযি.

📄 সফরসঙ্গিনী হলেন হযরত আয়েশা রাযি.


পূর্বে আলোচিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সফরে বের হতেন, তখন পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে লটারিতে যার নাম উঠত তিনিই সফরসঙ্গিনী হওয়ার মর্যাদা লাভ করতেন। নিয়মানুসারে বনু মুসতালিকের সফরে হযরত আয়েশা রাযি.-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। যাত্রাকালে প্রিয় ভগ্নি হযরত আসমা রাযি.-এর একটি হার কর্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। হারটি হযরত আয়েশা রাযি.-এর গলায় ছিল। হারের আংটা এত দুর্বল ছিল যে বারবার খুলে যাচ্ছিল। এ সময় হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ বছর। বয়সটাই এমন, যাতে নারীমনে সাধারণ থেকে সাধারণ সাজের জিনিসও অনেক দামি। সাজগোজের ব্যাপারে কোনো ঝামেলাই ঝামেলা নয়। সফরে হযরত আয়েশা রাযি. নিজ হাওদায় আরোহণ করতেন; এরপর হাওদার দায়িত্বে নিয়োজিত সাহাবীগণ হাওদা উটের পিঠে অধিষ্ঠিত করতেন এবং কাফেলা চলতে থাকত। অল্প বয়স এবং পর্যাপ্ত আহারের অভাবে তখন হযরত আয়েশা রাযি. এত হালকা-পাতলা ছিলেন যে, হাওদা-বাহক সাহাবীগণ সাধারণত বুঝতে পারতেন না, ভেতরে কেউ আছে কি নেই।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের মানসিকতা

📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের মানসিকতা


অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মুনাফিকরা ইতোমধ্যে একাধিকবার কূটচক্রে লিপ্ত হয়। এমনকি, তাদের চক্রান্তে আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ একপর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণেরও উপক্রম হয়। শেষমেশ অনেক কষ্টে সমাধান আসে। এই দুষ্টচক্রই আনসার সাহাবীগণকে ইসলামের পক্ষে আর্থিক সমর্থন প্রত্যাহার করতে প্ররোচিত করেছিল। দুষ্টচক্রের হোতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের-কুরআনে বর্ণিত-ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য দেখুন:
لَئِنْ رَّجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ
অর্থ: এবার যদি আমরা মদীনায় ফিরে যেতে পারি তা হলে মদীনার শ্রেষ্ঠজন নিকৃষ্টজনকে বিতাড়িত করবেই করবে। (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৮)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার সাহাবীগণকে একত্র করে বিষয়টি অবহিত করেন। যদিও তারা অপরাধে অংশ নেননি, তবু অনুতপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের প্রতি তাদের অন্তরে ঘৃণার উদ্রেক হলো। স্বয়ং তার পুত্রই ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে ছুটে গেলেন এবং পিতার ঘোড়ার লাগাম ধরে পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন-যতক্ষণ আপনি এ কথা স্বীকার না করছেন যে, আপনিই নিকৃষ্টজন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই শ্রেষ্ঠজন, ততক্ষণ আপনার নিস্তার নেই।

টিকাঃ
১. ইবনে সাদ: মাগাযি, পৃষ্ঠা: ৪৫। সহীহ বুখারী ও ফাতহুল বারী: তাফসীর-সূরা মুনাফিকুন। নাসাঈ-র বক্তব্য অনুযায়ী এটা গাযওয়ায়ে তাবুকের ঘটনা। কিন্তু সহীহ বুখারী-তে হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীস-ওই সময় আনসারের চেয়ে মুহাজির কম ছিলেন থেকে মতটির খণ্ডন হয়। ইবনে আবি হাতেম-সহ সকল মাগাযি গবেষক একমত যে, এটা গাযওয়ায়ে মুরাইসির ঘটনা। ফাতহুল বারী: ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৭৪০৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00