📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 কয়েকটি বর্ণনা-পর্যালোচনা

📄 কয়েকটি বর্ণনা-পর্যালোচনা


যারা বর্ণনা করেছেন, কোনো এক রাত্রিতে হযরত উম্মে সালামা রাযি. হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কিঞ্চিৎ কথা কাটাকাটি হয়েছিল, তাঁদের থেকেই মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে, এরপর হযরত উম্মে সালামা রাযি. উঠে হযরত ফাতেমা রাযি.-এর ঘরে যান এবং বলেন—হযরত আয়েশা [রাযি.] তোমার সম্পর্কে এই-সেই বলে। তখন হযরত আলী রাযি.-এর পরামর্শে হযরত ফাতেমা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যান এবং জানান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আল্লাহর কসম, সে তোমার পিতার প্রিয় পাত্রী। হযরত আলী রাযি. বললেন, হযরত আয়েশা [রাযি.] পূর্বে যা বলেছেন, তা যথেষ্ট হয়নি; যখন তিনি এ কথাও বলে দিলেন যে, আল্লাহর কসম, সে তোমার পিতার প্রিয়পাত্রী।
হাদীসটি বাহ্যত হযরত আয়েশা রাযি.-এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করার জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, অবিবেচক রাবী পবিত্র স্ত্রীগণের চরিত্রমাধুরীতে কী কালিমা লেপন করে ফেলেছেন। আসলে এই লোনা পানির মূল উৎস আলী ইবনে যায়েদ তামিমী—যিনি হাদীসশাস্ত্রের পরিভাষায় যঈফ (দুর্বল), ওয়াহি (অথর্ব), অগ্রহণযোগ্য। শুধু তাই নয়, চিন্তা-চেতনায় তিনি রাফেযিও।
ইয়াহইয়া মুসনাদে ঈসা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত ফাতেমা রাযি.-এর ঘরের মধ্যে একটি ছোট্ট দরজা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই দরজা থেকে হযরত ফাতেমা রাযি.-এর খোঁজখবর নিতেন। কোনো এক রাত্রিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-এর গৃহে ছিলেন না। হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত ফাতেমা রাযি.-এর মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়ে যায়। পরে হযরত ফাতেমা রাযি.-এর আবেদনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরজাটি বন্ধ করে দেন।
ইবনে আবদুল হামিদ ও ঈসা ইবনে আবদুল্লাহ দুজনই এই ঘটনার বর্ণনাকারী। সার্বিক বিবেচনায় তারা যে 'পতিত-রহিত' তা তো আছেই; উপরন্তু শিয়াও বটে। যদিও শাস্ত্রজ্ঞদের নিকট শিয়া হওয়া হাদীস যঈফ হওয়ার কারণ নয়, তবুও এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, অন্তত হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩০।
২. তাহযিবুত তাহযিব। মিযানুল ইতিদাল।
১. খুলাসাতুল অফা: চতুর্থ পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা: ১২৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00