📄 হযরত সাওদা রাযি.-এর প্রতি
হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত সাওদা রাযি.-এর বিবাহ যদিও একই সময়ে হয়েছিল, কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. বিবাহের পরও প্রায় সাড়ে তিন বছর পিতৃগৃহে থাকায় এ সময়টা হযরত সাওদা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাকী ও একচ্ছত্র সাহচর্য লাভ করেছিলেন। হিজরী প্রথম বর্ষে যখন হযরত আয়েশা রাযি. পিতৃগৃহ ত্যাগ করে স্বামীগৃহে চলে এলেন, তখন সতিন তাঁর একজনই: হযরত সাওদা রাযি.। এমতাবস্থায় তাঁরা একে অপরকে আপন অধিকারের প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্র ভাবতে পারতেন। কিন্তু ফলাফল এই সাধারণ বিবেচনার বিপরীত ছিল। সবকিছুই পারস্পরিক একতা ও ঐক্য এবং আন্তরিকতা ও অন্তরঙ্গতার দ্বারা সমর্থিত ছিল। পারিবারিক প্রায় সব বিষয়েই তাদের মধ্যে ছিল অন্তরঙ্গ বন্ধু ও সহযোগীর মানসিকতা।’ এমনকি বার্ধক্যজনিত কারণে কয়েক বছর পর হযরত সাওদা রাযি. আপন অধিকারের দিনগুলোও হযরত আয়েশা রাযি.-কে ছেড়ে দেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বার্ধক্যের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ত্যাগ করতে পারেন। তিনি পবিত্র স্ত্রীর মর্যাদা ও সম্মানিতা মাতার মাহাত্ম্য থেকে বঞ্চিত হতে চাননি। তাই আগে বেড়ে এমনটা করেছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর দান সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন এবং আমৃত্যু তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকেছিলেন। তিনি বলতেন—পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে হযরত সাওদা রাযি.-কে ছাড়া আর কাউকে এত আপন মনে হতো না। অবশ্য তিনি কঠোর প্রকৃতির ছিলেন।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : ا باب الهدايا والتحريم
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম : বিবাহ অধ্যায়, ا جواز الهبة نوبتها الضرتها
৩. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় : ا جواز نوبتها لضرتها
📄 হযরত হাফসা রাযি.-এর প্রতি
হযরত হাফসা রাযি. হিজরী তৃতীয় বর্ষে পবিত্র স্ত্রীগণের অন্তর্ভুক্ত হন। এই হিসেবে প্রায় আট বছর তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে থেকেছেন। একজন সিদ্দীকে আকবার রাযি.-এর কলিজার টুকরা, তো অন্যজন ফারুকে আযম রাযি.-এর চোখের মণি। পারস্পরিক বন্ধন ছিল জোরদার। মতের মিল ছিল অসাধারণ। সুখে-দুখে একে অপরের সমভাগিনী। অন্য স্ত্রীগণের তুলনায় পারস্পরিক পক্ষসমর্থন ও স্বার্থরক্ষার বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো।’ তারপরও প্রেমের ধর্ম ভিন্ন। কবি বলেন-
باسایه ترانمی پسندم
প্রীতির প্রদীপ জ্বলে; তবু ঈর্ষাকাতর হৃদয় বলে- কি যে ভালো হতো, কত ভালো হতো, সে না হলে!
কোনো এক সফরে দুজনই ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফরসঙ্গিনী। রাতে যাত্রাবিরতিকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাওদায় আসতেন। একদিন হযরত হাফসা রাযি. বললেন—চলো, আমরা হাওদা বদলাবদলি করি। হযরত আয়েশা রাযি. সরলতা এবং উদারতার পরিচয় দিয়ে তাঁর প্রস্তাব মেনে নেন। কিন্তু রাতে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না, তখন একটি ঈর্ষাকাতর নারীর মনে যা হওয়ার কথা, তা-ই হলো। তিনি ভীষণ কষ্ট পেলেন।’
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, অধ্যায় : الہدايا، التحريم، الإيلاء। জামে তিরমিযী : مناقب صفية رض । সুনানে নাসাঈ : باب الغيرة ا
২. সহীহ বুখারী : القرعة بين النساء في السفر ا
📄 হযরত উম্মে সালামা রাযি.-এর প্রতি
জ্ঞানে-গুণে ও অনুধাবনে হযরত আয়েশা রাযি.-এর পর পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে হযরত উম্মে সালামা রাযি. ছিলেন সবার শীর্ষে। হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে কোরবানির বিষয় নিয়ে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন মুসলিম রমনীকুলের ইতিহাসে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। ফিকহী মাসায়েল ও ফতোয়ার ক্ষেত্রেও হযরত আয়েশা রাযি.-এর পরই তাঁর অবস্থান।’ এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে খুব গুরুত্ব দিতেন, যদিও তিনি ছিলেন বয়োবৃদ্ধা। এসব বিবেচনায় পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে তিনিই ছিলেন হযরত আয়েশা রাযি.-এর সমকক্ষা। কিন্তু তারপরও শুধু একটি মামুলি বিষয় ছাড়া তাদের মধ্যে পারস্পরিক মনোমালিন্যের একটি ঘটনাও পাওয়া যায়নি। তা এই যে, পবিত্র স্ত্রীগণ হযরত উম্মে সালামা রাযি.-কে প্রতিনিধি করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পাঠালেন; আবেদন-সাহাবা কেরام শুধু হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে হাদিয়া পাঠান; এ ব্যাপারে অন্যদের কথাও বিবেচনায় আনলে ভালো হতো। তিনি এ আবেদন নিয়ে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে আসেন এবং অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পবিত্র স্ত্রীগণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা উত্তর দেওয়ার দিলেন, এবং হযরত উম্মে সালামা রাযি. আর কিছু বললেন না। হযরত আয়েশা রাযি. সবই শুনেছিলেন; কিন্তু কোনোরকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি।’
টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারী : ذكر الحديبية ا
১. তাবাকাত: ইবনে সাদ। ২য় খণ্ড, ২য় পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা: ১৬২।
২. সহীহ মুসলিম ও বুখারী : افضل عائشة رض
📄 হযরত জুওয়াইরিয়া রাযি.-এর প্রতি
হযরত জুওয়াইরিয়া রাযি. ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর মধ্যেও কোনো মনোমালিন্যের ঘটনা পাওয়া যায় না। অবশ্য তাঁর সৌন্দর্য দেখে হযরত আয়েশা রাযি. প্রথমে খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলেন-'এই ভেবে যে, না জানি তাঁর মূল্যায়ন কমে যায়; কিন্তু পরে তাঁর ভুল ভেঙে গিয়েছিল; কেননা তাঁর মর্যাদা ও মূল্যায়নের কারণ ছিল অন্য কিছু, যা রূপ-লাবণ্যের অনেক ঊর্ধ্বে।
টিকাঃ
৩. তাবাকাত: ইবনে সাদ, ترجمة جويرية رض