📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত আয়েশা রাযি.-এর সতিনগণ

📄 হযরত আয়েশা রাযি.-এর সতিনগণ


পৃথিবীতে একজন নারীর জন্য সবচেয়ে কষ্টকর ও তিক্ত বিষয় হলো কোনো সতিন থাকা। হযরত আয়েশা রাযি.-কে একজন দুইজন নয়, একই সঙ্গে আট-আটজন সতিনের ঘর করতে হয়েছে। তারপরও পবিত্র সম্মানিত সাহচর্যের প্রতিফলনে এই উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব স্বচ্ছ, সুন্দর ও পবিত্র ছিল যে কোনো প্রকার ধুলোময়লা থেকে।
হযরত খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যুর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে দশজন মহীয়সীকে পবিত্র স্ত্রীর সম্মান দান করেছিলেন। তার মধ্যে উম্মুল মাসাকিন হযরত যায়নাব রাযি.-কে বিবাহ করেছিলেন হিজরী তৃতীয় বর্ষে। তিনি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই ইন্তেকাল করেছিলেন। বাকি নয়জনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাঁদের নাম ও বিবাহবর্ষের একটি তালিকা দেওয়া হচ্ছে। এ থেকে বোঝা যাবে, হযরত আয়েশা রাযি. কত বছর পর্যন্ত কত জন সতিনের ঘর করেছিলেন।
| ক্রম | নাম | বিবাহ |
|---|---|---|
| ১ | হযরত সাওদা বিনতে যামআ রাযি. | নবুওয়াতের দশম বর্ষে |
| ২ | হযরত হাফসা বিনতে উমর রাযি. | হিজরী তৃতীয় বর্ষে |
| ৩ | হযরত উম্মে সালামা রাযি. | হিজরী পঞ্চম বর্ষে |
| ৪ | হযরত জুওয়াইরিয়া রাযি. (বনু মুসতালিকের গোত্রপতির কন্যা) | হিজরী পঞ্চম বর্ষে |
| ৫ | হযরত যায়নাব বিনতে জাহশ কুরাইশিয়া রাযি. | হিজরী পঞ্চম বর্ষে |
| ৬ | হযরত উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান রাযি. | হিজরী ষষ্ঠ বর্ষে |
| ৭ | হযরত মাইমুনা রাযি. | হিজরী সপ্তম বর্ষে |
| ৮ | হযরত সাফিয়্যা রাযি. (খায়বার গোত্রপতির কন্যা) | হিজরী সপ্তম বর্ষে |

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত খাদীজা রাযি.-এর প্রতি

📄 হযরত খাদীজা রাযি.-এর প্রতি


হযরত খাদীজা রাযি. হযরত আয়েশা রাযি.-এর সময় জীবিত ছিলেন না। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি সবসময়ই ছিল জীবন্ত, জাগরূক। তিনি প্রায়ই হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে হযরত খাদীজা রাযি.-এর কথা বলতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন। হযরত আয়েশা রাযি. নিজেই বর্ণনা করেন—হযরত খাদীজা রাযি.-এর প্রতি আমার যেই পরিমাণ ঈর্ষা হতো, অন্য কারও প্রতি হতো না। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্মৃতিচারণ করতেন খুব বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর তাঁর পক্ষ থেকে কোরবানি করতেন। তাঁর সকল সঙ্গিনীকে হাদিয়া পাঠাতেন। তাই বলে হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর মর্যাদা ও সম্মানকে অস্বীকার করতেন না। তিনি বলতেন, মহান আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাঁকে বিনা হিসাবে জান্নাতের সুসংবাদ দান করেছিলেন।’ হযরত খাদীজা রাযি.-এর যত কীর্তি ও কারনামা এবং ভূমিকা ও অবদান ইসলামের আবির্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত—যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্ত্বনা দেওয়া, বিপদে-আপদে পাশে থাকা, দুশ্চিন্তায় অভয় দান করা—সবই হযরত আয়েশা রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: ফাজায়েলে খাদীজা রাযি.।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত সাওদা রাযি.-এর প্রতি

📄 হযরত সাওদা রাযি.-এর প্রতি


হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত সাওদা রাযি.-এর বিবাহ যদিও একই সময়ে হয়েছিল, কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. বিবাহের পরও প্রায় সাড়ে তিন বছর পিতৃগৃহে থাকায় এ সময়টা হযরত সাওদা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাকী ও একচ্ছত্র সাহচর্য লাভ করেছিলেন। হিজরী প্রথম বর্ষে যখন হযরত আয়েশা রাযি. পিতৃগৃহ ত্যাগ করে স্বামীগৃহে চলে এলেন, তখন সতিন তাঁর একজনই: হযরত সাওদা রাযি.। এমতাবস্থায় তাঁরা একে অপরকে আপন অধিকারের প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্র ভাবতে পারতেন। কিন্তু ফলাফল এই সাধারণ বিবেচনার বিপরীত ছিল। সবকিছুই পারস্পরিক একতা ও ঐক্য এবং আন্তরিকতা ও অন্তরঙ্গতার দ্বারা সমর্থিত ছিল। পারিবারিক প্রায় সব বিষয়েই তাদের মধ্যে ছিল অন্তরঙ্গ বন্ধু ও সহযোগীর মানসিকতা।’ এমনকি বার্ধক্যজনিত কারণে কয়েক বছর পর হযরত সাওদা রাযি. আপন অধিকারের দিনগুলোও হযরত আয়েশা রাযি.-কে ছেড়ে দেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বার্ধক্যের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ত্যাগ করতে পারেন। তিনি পবিত্র স্ত্রীর মর্যাদা ও সম্মানিতা মাতার মাহাত্ম্য থেকে বঞ্চিত হতে চাননি। তাই আগে বেড়ে এমনটা করেছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর দান সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন এবং আমৃত্যু তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকেছিলেন। তিনি বলতেন—পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে হযরত সাওদা রাযি.-কে ছাড়া আর কাউকে এত আপন মনে হতো না। অবশ্য তিনি কঠোর প্রকৃতির ছিলেন।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী : ا باب الهدايا والتحريم
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম : বিবাহ অধ্যায়, ا جواز الهبة نوبتها الضرتها
৩. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় : ا جواز نوبتها لضرتها

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 হযরত হাফসা রাযি.-এর প্রতি

📄 হযরত হাফসা রাযি.-এর প্রতি


হযরত হাফসা রাযি. হিজরী তৃতীয় বর্ষে পবিত্র স্ত্রীগণের অন্তর্ভুক্ত হন। এই হিসেবে প্রায় আট বছর তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে থেকেছেন। একজন সিদ্দীকে আকবার রাযি.-এর কলিজার টুকরা, তো অন্যজন ফারুকে আযম রাযি.-এর চোখের মণি। পারস্পরিক বন্ধন ছিল জোরদার। মতের মিল ছিল অসাধারণ। সুখে-দুখে একে অপরের সমভাগিনী। অন্য স্ত্রীগণের তুলনায় পারস্পরিক পক্ষসমর্থন ও স্বার্থরক্ষার বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো।’ তারপরও প্রেমের ধর্ম ভিন্ন। কবি বলেন-
باسایه ترانمی پسندم
প্রীতির প্রদীপ জ্বলে; তবু ঈর্ষাকাতর হৃদয় বলে- কি যে ভালো হতো, কত ভালো হতো, সে না হলে!
কোনো এক সফরে দুজনই ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফরসঙ্গিনী। রাতে যাত্রাবিরতিকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাওদায় আসতেন। একদিন হযরত হাফসা রাযি. বললেন—চলো, আমরা হাওদা বদলাবদলি করি। হযরত আয়েশা রাযি. সরলতা এবং উদারতার পরিচয় দিয়ে তাঁর প্রস্তাব মেনে নেন। কিন্তু রাতে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না, তখন একটি ঈর্ষাকাতর নারীর মনে যা হওয়ার কথা, তা-ই হলো। তিনি ভীষণ কষ্ট পেলেন।’

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, অধ্যায় : الہدايا، التحريم، الإيلاء। জামে তিরমিযী : مناقب صفية رض । সুনানে নাসাঈ : باب الغيرة ا
২. সহীহ বুখারী : القرعة بين النساء في السفر ا

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00