📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 আনুগত্য ও নির্দেশ-পালন

📄 আনুগত্য ও নির্দেশ-পালন


স্ত্রীর সবচেয়ে বড় গুণ স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ-পালন। হযরত আয়েশা রাযি. দীর্ঘ নয় বছর সাহচর্যের কি দিনে, কি রাতে—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নির্দেশও অমান্য করেননি। এমনকি, আকারে ইঙ্গিতেও যেটাকে অপ্রীতিকর মনে হয়েছে, সেটাকেও ত্যাগ করতে বিলম্ব করেননি। একবার তিনি খুব শখ করে দরজায় একটি ছবিওয়ালা পর্দা ঝুলিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে ঢুকতেই পর্দাটা চোখে পড়ে। রাসূলের চোখে-মুখে অসন্তোষের ছাপ ফুটে ওঠে। হযরত আয়েশা রাযি. হতভম্ব হয়ে যান। আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, ক্ষমা করবেন। আমি কী ভুল করলাম? রাসূল বললেন, যেই ঘরে ছবি থাকে সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে সঙ্গে পর্দা নামিয়ে ফেললেন এবং অন্য কোনো কাজে লাগালেন। জনৈক সাহাবীর ওলিমা ছিল; কিন্তু ঘরে কিছু ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—যাও, আয়েশাকে বলো, ঘরে খাবার যা আছে, যেন পাঠিয়ে দেয়। সাহাবী এসে হযরত আয়েশা রাযি.-কে সংবাদ শুনিয়ে দিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. খাবারের পুরো গাট্টিটাই পাঠিয়ে দিলেন। সন্ধ্যায় ঘরে আর কিছু ছিল না।
জীবদ্দশায় স্বামীর অনুগতা অনেকেই। কিন্তু প্রকৃত আনুগত্য হলো শৃঙ্খল খুলে যাবার পরও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা, অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যুর পরও স্বামীর কথা মেনে চলা।
পূর্বে আলোচনা এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে দানশীলতার কথা বলেছিলেন। এর প্রভাব কেমন ছিল দেখুন, আমৃত্যু তিনি এই দায়িত্বপালনে অবহেলা করেননি। পাঠক জেনেছেন, হযরত আয়েশা রাযি. জিহাদের অনুমতি চাইলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন—হজই নারীর জিহাদ। এই নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে তিনি এত কঠিনভাবে এর পাবন্দি করেছিলেন যে, এমন একটা বছরও নেই, যে বছর তিনি হজ করেননি।
জনৈক ব্যক্তি একবার হযরত আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে কিছু কাপড় ও নগদ অর্থ পাঠান। তিনি প্রথমে ফিরিয়ে দেন, পরে আবার গ্রহণ করেন; তিনি বলেন, রাসূলের একটা কথা মনে পড়ে গেল, (তাই গ্রহণ করলাম)। একবার তিনি আরাফার দিন রোযা রেখেছিলেন; এত বেশি গরম পড়েছিল যে, বারবার মাথায় পানি ঢালতে হচ্ছিল। কেউ বলল— আজকে না হয় রোযা ভেঙে ফেলুন। তিনি বললেন—রাসূলের মুখে শুনেছি, আরাফার দিন রোযা রাখলে সারা বছরের গোনাহ মাফ হয়, তা হলে কেমন করে রোযা ভাঙি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চাশতের নামায পড়তে দেখে তিনিও নিয়মিত চাশতের নামায পড়া আরম্ভ করেছিলেন। তিনি বলতেন—যদি আমার পিতাও কবর থেকে উঠে আসেন আর এই নামায পড়তে নিষেধ করেন, তবু আমি মানব না। একবার জনৈকা মহিলা এসে আরজ করলেন—উম্মুল মুমিনীন, মেহেদি ব্যবহার করা কেমন হবে? তিনি উত্তর দিলেন—আমার প্রিয়তম (নারীদের জন্য) রঙ পছন্দ করতেন, কিন্তু ঘ্রাণ পছন্দ করতেন না; হারাম নয়, ব্যবহার করতে পারো।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী: কিতাবুল লিবাস, বাবুত তাসাবীর।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৭৫৭।
৩. সহীহ বুখারী: হাজ্জুন নিসা।
৪. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৯।
১. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৮।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৮।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 অভাবেরীণ ধর্ম ও জীবন

📄 অভাবেরীণ ধর্ম ও জীবন


হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘর ছিল একজন পয়গম্বরের ঘর। এখানে না অর্থপ্রাচুর্য ছিল, না অর্থপ্রাচুর্যের বাসনা ছিল। ইসলাম দীন ও দুনিয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। আগের অধ্যায়গুলোতে আমরা যে জীবন্ত আদর্শ দেখে এসেছি তা ছিল মানবীয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সমাহার; এখন নবীপরিবারের ঘর ও ঘরের মানুষকে বাস্তব জীবনের প্রেক্ষিতে দেখা যাক। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র অভ্যাস ছিল—যখনই ঘরে আসতেন, উচ্চস্বরে এই কথাগুলো বলতেন:
لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَ لَا يَمْلَأَ فَاهُ إِلَّا التُّرَابُ وَمَا جَعَلْنَا الْمَالَ إِلَّا لِإِقَامِ الصَّلَوةِ وإِيتَاءِ الزَّكَوةِ وَيَتُوْبُ اللَّهُ عَلَى مَن تَابَ
অর্থ: আদমসন্তান যদি দুটো সম্পদপূর্ণ ময়দানের মালিক হয়ে যায়, তবে সে তৃতীয় আরও একটির কামনা করবে; মাটি ছাড়া কিছুই তার মুখ ভরাবে না। (আল্লাহ বলেছেন) আমি তো সম্পদ দিয়েছি শুধুমাত্র আমার স্মরণের জন্য এবং অভাবীকে সাহায্য করার জন্য। যে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।
এই কথাগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন বলতেন, বারবার বলতেন—যাতে নবীপরিবারের কারও মনে দুনিয়ার মায়া ও সম্পদের মোহ না জাগে।
এশার নামায পড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করতেন। মেসওয়াক করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তেন। পরবর্তী প্রহরেই উঠে যেতেন এবং তাহাজ্জুদে রত হতেন। রাতের শেষ প্রহরে হযরত আয়েশা রাযি.-কেও উঠিয়ে দিতেন। তিনিও উঠে নামাযে শরীক হতেন এবং বিতর আদায় করতেন।
ভোরের শুভ্রতা প্রকাশ পেলে তিনি ফজরের সুন্নত পড়ে নিতেন, তারপর কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে সামান্য কাত হতেন এবং হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে গল্প করতেন। কিছুক্ষণ পর ফজরের ফরজ আদায়ের জন্য মসজিদে বের হতেন। কখনো সারারাত দুজনে মিলে আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হতেন আর আয়েশা রাযি. মুক্তাদি হতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা বাকারা, সূরা আল-ইমরান, সূরা নিসা এবং এ জাতীয় লম্বা-লম্বা সূরা পড়তেন। যখন ভয় ও ভীতির কোনো আয়াত আসত, তখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন; যখন দয়া ও করুণার কোনো আয়াত আসত, তখন আল্লাহর কাছে তা কামনা করতেন। নবীপরিবারে এমনই ক্রিয়াশীল, প্রাণবন্ত, অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য বিরাজ করত সারারাত ধরে। অনিয়মিতভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নামাযগুলো পড়তেন, যেমন সূর্যগ্রহণের নামায, তাতেও হযরত আয়েশা রাযি. শরীক হতেন। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে নামায পড়ানোর জন্য যখন দাঁড়াতেন, তখন তিনিও ঘরের ভেতর নামাযের নিয়ত করতেন।
হযরত আয়েশা রাযি. পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও তাহাজ্জুদ তো পড়তেনই, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে চাশতের নামাযও ছাড়তেন না। প্রায়শই রোযা রাখতেন। কখনো দুজনে মিলে একসঙ্গে। রমযানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। কখনো হযরত আয়েশা রাযি.-ও ইতিকাফে শরীক হতেন। তিনি মসজিদের আঙিনায় একপাশে তাঁবু টানিয়ে নিতেন। ফজরের নামাযের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণের জন্য হলেও সেখানে আসতেন। একাদশ হিজরীতে হজের জন্যও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বের হয়েছিলেন তিনি। এবং হজ ও উমরা উভয়েরই নিয়ত করেছিলেন। কিন্তু মজবুরির কারণে তাওয়াফে অপারগ হয়ে পড়েছিলেন। এজন্য তাঁর অনেক দুঃখ হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং মাসআলা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রাযি.-এর সঙ্গে হজের অবশিষ্ট আমল সম্পন্ন করেছিলেন।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৫।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৫।
৩. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫২।
৪. সহীহ মুসলিম: সালাতুল লাইল। সহীহ বুখারী : من تحدث بعد الركعتين ا
৫. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫১।
১. সহীহ বুখারী: কুসুফের নামায।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫১।
৩. সহীহ বুখারী: নারীর ইতিকাফ।
৪. সহীহ বুখারী: হজ অধ্যায়।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 ঘরেও নবুয়াতের দায়িত্ব-পালন

📄 ঘরেও নবুয়াতের দায়িত্ব-পালন


দাম্পত্যজীবনের সর্বশেষ অনুষঙ্গ এটি। পারস্পরিক ভালোবাসার যে বর্ণনাগুলো আগে গিয়েছে তাতে কারও মনে ধারণা জন্মাতে পারে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে এসে বুঝি নবুওয়াতের গুরুদায়িত্বের কথা ভুলে যেতেন। কিন্তু না, স্বয়ং হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনা নিশ্চয় শুনে থাকবেন, তিনি কী বলেছেন? তিনি বলেছেন প্রায়ই এমন হতো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে গল্প করছেন, হঠাৎ আজান হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর একটুও বিলম্ব করলেন না, উঠে চলে গেলেন। অবস্থা দেখে মনে হতো, যেন রাসূল আমাকে চেনেনই না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গাযওয়ায়ে তাবুক থেকে বিজয়ীবেশে ফিরে এলেন, তখন হযরত আয়েশা রাযি. তাঁকে বরণ করার জন্য একটি চিত্রিত নকশাবিশিষ্ট পর্দার ব্যবস্থা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরজায় কদম মোবারক রাখতে না রাখতেই তাঁর চেহারা মোবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। হযরত আয়েশা রাযি. আরজ করলেন- ক্ষমা করবেন, হে আল্লাহর রাসূল! কী ভুল হলো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-আয়েশা, আল্লাহ আমাদের ইট-পাথরের সাজসজ্জার জন্য ধনসম্পদ দেননি।
কোনো এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে এলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে উঠে চুপচাপ একদিকে চলে গেলেন। হযরত আয়েশা রাযি.-ও পেছন-পেছন চললেন, কিন্তু গোপনে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতুল বাকির গোরস্তানে পৌঁছে হাত তুলে দুআয় মশগুল হলেন। হযরত আয়েশা রাযি. গোপনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। কিন্তু ফিরে আসার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখে ফেললেন হযরত আয়েশা রাযি. চুপিসারে ঘরে ঢুকছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন-আয়েশা, এ কী? যেহেতু বিষয়টা গুপ্তচরির শামিলযা নিষিদ্ধ, তাই হযরত আয়েশা রাযি. বললেন- আমার মা বাবা আপনার প্রতি কোরবান হোক, ঘটনাটা এই ছিল... তিনি সব খুলে বললেন।
একবার হযরত আয়েশা রাযি. একজন ইহুদিকে যে রাসূল সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভিশাপ করেছিল-দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছিলেন। কিন্তু দয়ার নবী বলেছিলেন-আল্লাহ কোমল, কোমলতা পছন্দ করেন। কোমলতায় তিনি এমনভাবে দান করেন, যা কঠোরতায় করেন না।
যদিও রেশম ও স্বর্ণের ব্যবহার ইসলামে নারীর জন্য বৈধ, কিন্তু পার্থিব সুখ-শোভার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বভাবগত ঘৃণা ও অনীহা ছিল। তাই নিজ ঘরে পরিবারের বেশি সাজসজ্জা ও আড়ম্বরতা পছন্দ করতেন না। একবার হযরত আয়েশা রাযি. একটি স্বর্ণালঙ্কার পরলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে এরচে বেশি কিছু বলব না; তুমি স্বর্ণালঙ্কার ছাড়ো এবং চাঁদির দুটো দুল বানিয়ে তাতে জাফরানের রঙ লাগাও।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পাঁচটি জিনিস থেকে দূরে থাকতে বলেছেন: রেশমি কাপড়, স্বর্ণালঙ্কার, সোনা-চাঁদির বরতন, লাল মোলায়েম গদি, কারুকার্য খচিত রেশমি কাপড়। আমি আরজ করলাম, যদি মশক বাঁধার মতো সামান্য পরিমাণ স্বর্ণ হয়, তা হলে কি সমস্যা আছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—না, চাঁদিতে সামান্য জাফরান রঙ মিশ্রিত করো।
ঘরে-পরিবারে সবসময়ই নৈতিক ও চারিত্রিক উপদেশাবলির তালীম দিতে থাকতেন এমন অনেক উদাহরণ আগে গিয়েছে। একবার হযরত আয়েশা রাযি. নিজ হাতে আটা কুটলেন এবং টিকিয়া বানালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে এসে নামাযে রত হলেন। হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘুম ধরে গেল। এমন সময় প্রতিবেশীর বকরি এসে সব খেয়ে ফেলল। হযরত আয়েশা রাযি. দৌড় দিয়ে বকরিকে মারতে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাধা দিলেন, বললেন—আয়েশা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ো না।
আরবে শুশুক খাওয়ার প্রথা ছিল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পছন্দ করতেন না। একবার কেউ শুশুকের গোশত পাঠাল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলেন না। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন—হে আল্লাহর রাসূল, গরীবদের খাইয়ে দিই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—যা তুমি নিজে খাওয়া পছন্দ করো না, তা অন্যকে খাওয়াবে কেন?

টিকাঃ
১. ঘটনাটি সামান্য ভিন্নতাসহ সবগুলো হাদীসগ্রন্থেই এসেছে। এখানে নাসাঈ: আল ইস্তিগফার লিল মুমিনীন অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
১. সহীহ মুসলিম: নম্রতার ফজিলত।
২. নাসাঈ: সজ্জা অধ্যায়।
৩. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৩। নারীদের জন্য রেশমি কাপড়, স্বর্ণালঙ্কার অন্যান্য হাদীসের আলোকে বৈধ। কিন্তু পবিত্র স্ত্রীগণের জন্য এগুলোকে অশোভন গণ্য করা হয়েছে—অধিক প্রত্যাশায় যেন দুনিয়ার প্রতি সামান্যও মোহ না জন্মে।
১. আল আদাবুল মুফরাদ: ইমাম বুখারী রহ.।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00