📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পানাহার

📄 স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পানাহার


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই হযরত আয়েশা রাযি.-কে সঙ্গে নিয়ে এক দস্তরখানে বরং এক বাসনে খাবার খেতেন। এভাবেই একবার একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় হযরত উমর রাযি. এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকেও ডেকে নিলেন এবং তিনজন একসঙ্গে খাবার খেলেন’ (তখনও পর্দার বিধান আসেনি)। খেতে খেতেও ভালোবাসার প্রকাশার্থে হযরত আয়েশা রাযি. যেই হাড্ডি মুখে নিতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সেই হাড্ডিই মুখে নিতেন। পেয়ালায় যেই অংশে হযরত আয়েশা রাযি. মুখ লাগাতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সেই অংশেই মুখ লাগাতেন। একবার তাঁরা একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় হযরত সাওদা রাযি. অভিযোগ নিয়ে এলেন—হযরত উমর রাযি. প্রয়োজনেও তাঁকে বের হতে দেন না।’ আরও বর্ণিত আছে, রাতের অন্ধকারে ঘরে বাতি থাকত না। তাই অনেক সময় দুজনের হাত একই খাবারের ওপর পড়ে যেত।
একবার এক পারসিক প্রতিবেশী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আয়েশাও যাবে। তিনি বললেন—না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—তাহলে আমিও যাব না। লোকটি পরপর দুবার এলেন এবং একই প্রশ্নোত্তরের পর ফিরে গেলেন। তৃতীয়বার আবার এলেন, এবারও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আয়েশাকেও দাওয়াত দিচ্ছ তো? শেষমেষ লোকটি বললেন—জি হাঁ। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত আয়েশা রাযি. দুজনেই তার ঘরে গেলেন।

টিকাঃ
২. মুজাম তাবরানি, ৪৫ পৃষ্ঠা। আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী রহ. : باب أكل الرجل مع امرأته ا
৩. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৪। সুনানে আবি দাউদ, অধ্যায়: مواكلة الحائض ا
১. সহীহ বুখারী: কিতাবুন নিকাহ, বাবু খুরুজিন নিসা।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৩৭।
৩. ঘটনাটি খুব সম্ভব হিজরী সনের শুরুর দিকের। হাদীসবিশারদগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক একাকী নিমন্ত্রণগ্রহণে অসম্মত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে : তখন নবীপরিবারে ভীষণ অভাব ছিল। বিশেষ করে সেদিন ঘরে আহার্য কিছু ছিল না। ঘরে স্ত্রী অনাহারে থাকবেন, আর বাইরে তিনি তৃপ্তিসহকারে আহার করবেন—এটা তাঁর পছন্দ হয়নি। অপরপক্ষে প্রতিবেশী যে মুখের ওপর দুই দুইবার অনিচ্ছা ব্যক্ত করেছেন—তার কারণ, তার ঘরেও অভাব ছিল। ব্যবস্থা ছিল একজন মেহমানেরই। কিন্তু বিষয়টির গুরুতরতা বুঝতে পেরে তৃতীয়বার তিনি আরও কিছু খাবার যোগাড় করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আসেন। ...ফিকহবিদগণ এই হাদীসকে সামনে রেখে বলেন—কোনোরকম ভনিতা, কৃত্রিমতা বা অজুহাত ছাড়াই বন্ধু-বান্ধবের নিমন্ত্রণ গ্রহণ না করা বা নিমন্ত্রণে আরও কাউকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য তাগাদা দেওয়া জায়েয। হাদীসটি সহীহ মুসলিম, الأطعمه অধ্যায়ে এসেছে। নববীও দ্রষ্টব্য।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 সঙ্গে নিয়ে সফর করা

📄 সঙ্গে নিয়ে সফর করা


সফরে পবিত্র স্ত্রীগণের সকলকে সঙ্গে নেওয়া সম্ভব ছিল না। আবার যে কোনো একজনকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়াও ঠিক নয়। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের পূর্বে লটারি করতেন। যার নাম উঠত, তিনিই এই সম্মানের অধিকারী হতেন। হযরত আয়েশা রাযি.-ও বিভিন্ন সফরে সঙ্গে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। গাযওয়ায়ে বনী মুসতালিকে সঙ্গে থাকার বিষয়টি সুস্পষ্ট। যেই সফরে হযরত আয়েশা রাযি. ও হযরত হাফসা রাযি.-এর উট পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল তার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরকম আরও একটি সফরের কথা হাদীসে এসেছে, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আয়েশা রাযি. দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন।
গাযওয়ায়ে বনী মুসতালিকে দুটো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল। দুটোতেই আল্লাহ তাআলা হযরত আয়েশা রাযি.-কে অশেষ সম্মান ও অফুরন্ত মর্যাদা দান করেছিলেন। প্রথম ঘটনার ফলে তায়াম্মুমের বিধান নাজিল হয় আর দ্বিতীয় ঘটনার ফলে নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক, পূত-পবিত্র নারীদের সম্মান রক্ষার আইন (বিবরণ সামনে আসছে)। মুসনাদে আহমদ-এর একটি বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, হুদায়বিয়ার সফরেও হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে ছিলেন। আর বিদায় হজের সফরে তো অধিকাংশ স্ত্রীই ছিলেন; সুতরাং হযরত আয়েশা রাযি. থাকাই স্বাভাবিক।

টিকাঃ
৪. সহীহ বুখারী, অধ্যায় : القرعة بين النساء
১. মুসনাদে আহমদ : মুসনাদে আয়েশা রাযি.।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 দৌড় প্রতিযোগিতা

📄 দৌড় প্রতিযোগিতা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোরসওয়ারি ও তিরন্দাজি খুব পছন্দ করতেন। সাহাবা কেরামকে উৎসাহ দিতেন এবং নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়াতেন। কোনো এক গাযওয়ায় হযরত আয়েশা রাযি. সফরসঙ্গিনী ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল সাহাবীকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। সাহাবা কেরام দৌড় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে বললেন—চলো, দৌড়-প্রতিযোগিতা করি। দেখি, কে আগে যেতে পারে। হযরত আয়েশা রাযি. হালকা-পাতলা ছিলেন। তিনি আগে চলে গেলেন। কয়েক বছর পর দৌড়-প্রতিযোগিতার আরও একটা সুযোগ এল। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন—তখন আমি ভারী হয়ে গিয়েছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার আগে চলে গেলেন। তিনি বললেন—আয়েশা, এটা সেটার জবাব।

টিকাঃ
১. সুনানে আবু দাউদ : باب السبق

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 প্রেমাবেগ ও অভিমান

📄 প্রেমাবেগ ও অভিমান


প্রেমাবেগ ও অভিমান নারীর স্বভাববৈশিষ্ট্য। ভালোবাসার অথৈ সাগরের অসংখ্য প্রেমলহরি মিশে আছে নারীমনে। কিন্তু এ ধরনের যে ঘটনাগুলোর উল্লেখ হাদীসগ্রন্থগুলোতে রয়েছে, অনেকেই সেগুলোর সমালোচনা করতে চান। তারা বলতে চান, একজন নবীর প্রতি উম্মতের এমন প্রেমাবেগ ও অভিমান কিংবা এমন আচরণ ও উচ্চারণ অশোভন। তারা ভুলে যান যে, এই আবেগ ও অনুভূতি, এই আচরণ ও উচ্চারণ একজন নবীর প্রতি উম্মতের নয়, বরং একজন প্রেমময় স্বামীর প্রতি প্রেমময়ী স্ত্রীর। সুতরাং এ ধরনের যে ঘটনাগুলো বিশুদ্ধগ্রন্থসমূহে এসেছে, এই বিবেচনাতেই এসেছে। এগুলোকে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই পড়া ও বোঝা উচিত।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, যখন এই নির্দেশ এল—যদি কোনো নারী নিজেকে রাসূলের প্রতি সমর্পণ করতে চায় (অর্থাৎ মোহর ছাড়াই স্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে চায়), করতে পারবে—তখন আমার খুব রাগ হলো। মনে মনে বললাম, কোনো মেয়ে কি এমনও করতে পারে। কিন্তু যখন ইরজার আয়াত নাজিল হলো (যাতে রাসূলকে এই ইচ্ছাধিকার দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি যে কোনো স্ত্রীকে ইচ্ছামতো কাছে ডাকবেন কিংবা ইচ্ছামতো কাছে থাকবেন, অথবা ডাকবেন না বা থাকবেন না), তখন আমি বললাম—আপনার আল্লাহ দেখি আপনার সব ইচ্ছাই শীঘ্র পূরণ করে দেন। আল্লাহ মাফ করুন, হযরত আয়েশা রাযি.-এর এই কথার অর্থ আপত্তি করা নয়; বরং একজন প্রেমময়ী স্ত্রীর অভিমান। বিশিষ্টজনেরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর বক্তব্যের আরও একটি ব্যাখ্যা করেছেন—আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের মনোবাঞ্ছা পুরা করে দেন, যাতে তাঁর আদেশ-পালন ও নির্দেশ-বাস্তবায়নে মনোযোগী থাকতে পারেন।
কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেননি; বরং অনুমতির পরও পূর্বের ন্যায়ই পালাক্রমিক গমনাগমন অব্যাহত রেখেছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই হযরত খাদীজা রাযি.-এর কথা বলতেন। এতে অন্য স্ত্রীগণ কষ্ট পেতেন। একবার তিনি এভাবেই হযরত খাদীজা রাযি.-এর কথা বলছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. সহ্য করতে না পেরে বলে উঠলেন, আপনি কি ওই বুড়ির কথা ছাড়বেন? আল্লাহ তো আপনাকে আরও ভালো ভালো স্ত্রী দান করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তো ওই বুড়ির মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দান করেছিলেন।
একই বর্ণনা মুসনাদে আহমাদে আছে এভাবে: একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খাদীজা রাযি.-এর প্রশংসা করা শুরু করলেন। অনেকক্ষণ ধরে তিনি তাঁর প্রশংসা করে চললেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমার খুব রাগ হলো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কুরাইশের কোনো এক বুড়ির, যার ঠোঁট লাল হয়ে গিয়েছিল, যার মরার অনেক দিন পারও হয়ে গেছে, এতক্ষণ ধরে প্রশংসা করে চলেছেন; অথচ আল্লাহ আপনাকে তারচে অনেক ভালো স্ত্রী দান করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি নিজেকে সংযত রেখে বললেন, সে তো আমার এমনই একজন ছিল, যখন সকলে আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন সেই আমাকে বিশ্বাস করেছিল; যখন সকলে আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তখন সেই আমাকে সত্যবাদী বলেছিল; যখন সকলে আমাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করেছিল, তখন সেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল; এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই আমাকে সন্তান-সন্ততি দান করেছিলেন, যেখানে অন্য স্ত্রীদের বেলায় আমাকে বঞ্চিত রেখেছেন।
একবার হযরত আয়েশা রাযি.-এর মাথাব্যথা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুরোগের সূচনা হয়েছিল সেখানেই। তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-কে বললেন, যদি তুমি আমার জীবদ্দশায় মারা যাও, তা হলে নিজ হাতে তোমার দাফন-কাফন দেব; এই হাতদুটো তুলে আল্লাহর কাছে তোমার জন্য দুআ করব। হযরত আয়েশা রাযি. বুঝলেন না, বললেন—হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার মৃত্যু কামনা করছেন? যদি আমি মারা যাই, তা হলে এই ঘরে বুঝি নতুন স্ত্রী আনবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু হাসলেন।
কোথাও থেকে কোনো এক কয়েদিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হযরত আয়েশা রাযি.-এর হুজরায় তাকে আটকে রাখা হয়। হযরত আয়েশা রাযি. নারীদের সঙ্গে আলোচনায় রত হলে সুযোগ বুঝে কয়েদি পালিয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জানতে পারলে গলা ভারী করে বললেন, তোমার হাত কেটে দেওয়া হবে। তারপর বাইরে গিয়ে সাহাবা কেরامকে খবর দিলেন। কয়েদিকে ধরে আনা হলো। পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে এলে হযরত আয়েশা রাযি. নিজের হাত দুটো সম্মুখে ধরে নাড়িয়ে নাড়িয়ে দেখছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—কী করছ? হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, দেখছি কোন হাত কেটে দেবেন। কথাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে দাগ কাটল। তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্য হাত তুলে দুআ করলেন।
একটি বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. হঠাৎ করেই জিজ্ঞেস করলেন—হে আল্লাহর রাসূল, যদি এমন হয় যে, আপনাকে দুটো চারণভূমি দেওয়া হলো, একটিতে আগে উট চড়ানো হয়েছে, অপরটিতে চড়ানো হয়নি, তা হলে আপনি উট চড়ানোর জন্য কোন চারণভূমিটি বেছে নেবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যেটিতে চড়ানো হয়নি। কথাটির তাৎপর্য হলো: পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে একমাত্র আয়েশা রাযি.-ই ছিলেন কুমারী।
ইফকের ঘটনায় (আলোচনা সামনে আসবে), যখন ওহীর মাধ্যমে হযরত আয়েশা রাযি.-এর পবিত্রতা ঘোষিত হলো, তখন সম্মানিতা মাতা বললেন-যাও মা, পবিত্র জীবনসঙ্গীকে কৃতজ্ঞতা জানাও। হযরত আয়েশা রাযি. অভিমান করে বললেন, যেই আল্লাহ আমার পবিত্রতার প্রমাণ দিয়েছেন, সেই আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রতি আমি কৃতজ্ঞ নই।
একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-আয়েশা, তুমি যখন আমার প্রতি নারাজ থাক, তখন আমি বুঝতে পারি। তুমি যখন নারাজ থাক, তখন বল-ইবরাহিম আলাইহিস সালামের রবের কসম। আর যখন খুশি থাক, তখন বল-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রবের কসম। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন-হে আল্লাহর রাসূল, মুখে ত্যাগ করলেও বুকে আপনারই নাম ধারণ করি।
মার্গলিউস লাইফ অফ মুহাম্মাদ গ্রন্থে এ ঘটনাটিই লিখেছেন এভাবে: 'যখন মুহাম্মাদ তাকে (হযরত আয়েশা রাযি.-কে) কষ্ট দিতেন, তখন তিনি তাকে আল্লাহর নবী বলে অস্বীকার করতেন এবং তার ওহীর ওপর নানা রকম প্রশ্ন তুলতেন।” (নাউজুবিল্লাহ)
ইংরেজপণ্ডিতদের বর্ণনাবিকৃতি ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার এটা একটা জ্বলন্ত প্রমাণ।

টিকাঃ
২. সহীহ বুখারী: তাফসীর সূরা আহযাব।
১. সহীহ বুখারী: তাফসীর সূরা আহযাব।
২. সহীহ বুখারী: অধ্যায় : -ا فضل خديجة رض
৩. মুসনাদে আহমদ: মুসনাদে আয়েশা রাযি, : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৮, ১৫০।
১. সহীহ বুখারী: অধ্যায়: আল মার্য, পৃষ্ঠা: ৮৪৬। মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৮।
২. মুসনাদে আহমদ: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫০।
৩. সহীহ বুখারী: অধ্যায়: নিকাহুল আবকার, পৃষ্ঠা: ৭৭৬।
১. সহীহ বুখারী: অধ্যায় : ما يجوز من البحران , পৃষ্ঠা: ৮৯৭।
২. লাইফ অফ মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা: ৪৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00