📄 বাজারসদাই ও খরচপাতি
নবীপরিবারের বাজারসদাই ও খরচপাতির দায়িত্ব ছিল হযরত বেলাল রাযি.-এর ওপর। তিনিই নবীপরিবারের সারা বছরের খোরপোশ বণ্টন করতেন। প্রয়োজনে ধারকর্জও করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় পুরো আরব ছিল বশীভূত। সকল প্রদেশ থেকে একের পর এক ধনভাণ্ডার বাইতুল মালে এসে জড়ো হতো। অথচ যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হলো, সেদিন হযরত আয়েশা রাযি.-এর ঘরে একদিন পার হওয়ার মতো খাবারও ছিল না।
হযরত আবু বকর রাযি.-এর খেলাফতের সময় খায়বারের নীতি অনুসারে নির্ধারিত পরিমাণ ফসল আসত। পরে হযরত উমর রাযি. সবার জন্য নগদ অর্থ নির্ধারণ করেন। অন্য স্ত্রীগণ পেতেন দশ হাজার দিরহাম, আর হযরত আয়েশা রাযি. পেতেন বারো হাজার। একটি বর্ণনায় আছে : হযরত উমর রাযি. ইচ্ছাধিকার দিয়েছিলেন—চাইলে ফসল নিতে পারেন, কিংবা জমিও নিতে পারেন। হযরত আয়েশা রাযি. জমি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অর্থের অধিকাংশই ছিল ফকির-মিসকিনের জন্য ওয়াকফকৃত। হযরত উসমান রাযি., হযরত আলী রাযি. ও আমীর মুয়াবিয়া রাযি.-এর সময়ও সাধারণভাবে এ নীতিই চালু ছিল। আমীর মুআবিয়া রাযি.-এর অব্যবহিত পরই হেজাজের খলীফা হয়েছিলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি.। তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-এর আপন ভাগ্নে ছিলেন। সম্মানিতা খালার যাবতীয় ব্যয়ভার-দায়ভার বহন করতেন তিনি নিজে। কিন্তু যেদিনই বাইতুল মাল থেকে হাদিয়া আসত, সেদিনই সব দান-খয়রাত করে শেষ করে ফেলতেন। সন্ধ্যায় ঘরে আর কিছু থাকত না।
টিকাঃ
৪. আবু দাউদ, ا باب قبول هدايا المشركين
৫. তিরমিযী, পৃষ্ঠা: ৪০৭ (মাতবাউল উলুম, দিল্লি)।
৬. মুসতাদরাকে হাকেম ا ذكر عائشة في الصحابيات
১. সহীহ বুখারী, باب المزارعة بالشرط ا
২. সহীহ বুখারী, মানাকিবে কুরাইশ।