📄 পবিত্র জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে
হযরত আয়েশা রাযি.-এর শিক্ষা-দীক্ষা ও শিষ্টাচার গ্রহণের প্রকৃত ক্ষেত্র আসে রোখসতের পর-পবিত্র জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে এসে। তিনি জীবনের মর্ম অনুধাবন করেন ও জ্ঞানের স্বরূপ আবিষ্কার করেন এই চিরসুন্দর, চিরমহিমান্বিত সাহচর্য থেকেই। তিনিও যে জ্ঞানের ধর্ম তুলে ধরবেন, জীবনের মর্ম ব্যাখ্যা করবেন-ইসলামের আলোয়-আসা ভাগ্যবতী নারী সমাজের জন্য।
📄 শেখা পড়া
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে এসে হযরত আয়েশা রাযি. পড়তে শিখেছিলেন। তিনি দেখে দেখে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন।
একটি বর্ণনায় আছে, তিনি লিখতে পারতেন না। বিভিন্ন হাদীসে এসেছে, গোলাম যাকওয়ান হযরত আয়েশা রাযি.-কে কুরআন লিখে দিতেন।’ তাই অনুমান করা হয়, তিনি নিজে লিখতে পারতেন না।
অবশ্য কিছু কিছু বর্ণনায়—অমুক পত্রের জবাবে তিনি লিখেছেন—এমন কথাও পাওয়া যায়।’ হতে পারে, বর্ণনাকারী রূপকভাবে 'লিখিয়েছেন' পরিবর্তে 'লিখেছেন' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন; এবং এর প্রচলনও আছে।
যাই হোক, লেখাপড়া তো মানুষের বাহ্যিক শিক্ষা। প্রকৃত জ্ঞান আরও ওপরের বিষয়। মনুষ্যত্বের বিকাশ, চারিত্রিক গুণাবলি, অনিবার্য ধর্মীয় জ্ঞান, শরীয়তের রহস্য সম্পর্কে অবগতি, কালামে পাকের মারেফাত, আহকামে নববীর ইলম ইত্যাদি জ্ঞানের উন্নততর পর্যায়। আর এ শিক্ষায় হযরত আয়েশা রাযি. ছিলেন স্বয়ংসম্পূর্ণা।
টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী : বাবে তা’লীফীল কুরআন। বালাযুরি : ফাসলুল খাত্ত।
৬. বালাযুরি : ফাসলুল খাত্ত।
৭. সহীহ বুখারী : আসসালাতুল উসতা। মুসনাদে আহমদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৭১।
📄 জ্ঞানার্জনের নানা অনুষঙ্গ ও পদ্ধতি
ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাস-সাহিত্য-চিকিৎসায়ও তাঁর পাণ্ডিত্য কম ছিল না। ইতিহাস ও সাহিত্যের শিক্ষা তো স্বয়ং পিতার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। আর চিকিৎসাবিদ্যা রপ্ত করেছিলেন দিদিগন্ত থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগত আরব গোত্রের প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে। তা ছাড়া শেষ বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। এ কারণে আরবের বিজ্ঞ হেকিম ও চিকিৎসকগণের গমনাগমন চলতে থাকত। তারা যখন যে ওষুধ বাতলে দিতেন, হযরত আয়েশা রাযি. সেগুলো শিখে নিতেন।
টিকাঃ
১. মুসতাদরাকে হাকেম, সাহাবিয়াদের মধ্যে আয়েশার (রাযি.) আলোচনা।
২. মুসনাদে আহমদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬১।
৩. মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আয়েশা রাযি., পৃষ্ঠা: ৬১।
📄 দরসে নববী থেকে উপকৃত হওয়া
ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের কোনো নির্দিষ্ট সময় ছিল না। স্বয়ং ধর্মগুরুই তো ঘরের মনিব। প্রাণপ্রিয় পরম শ্রদ্ধেয় জীবনসঙ্গীর মোবারক সোহবত সবসময়ই তিনি লাভ করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালীম ও ইরশাদের যাবতীয় মজলিস অনুষ্ঠিত হতো মসজিদে নববীতে, যা তাঁর ঘরের সঙ্গে লাগানো। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের বাইরেও সাহাবায়ে কেরামকে যা শিক্ষা দিতেন, হযরত আয়েশা রাযি. সেগুলোতেও শরীক থাকতেন। দূরত্বের কারণে কোনো কথা বুঝতে অসুবিধা হলে পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে ভালোভাবে বুঝে নিতেন। কখনো উঠে মসজিদের কাছে চলে যেতেন। তা ছাড়া সপ্তাহে সাহাবিয়াগণের তালীম তালকীনের জন্য নির্ধারিত দিনটি তো ছিলই।
টিকাঃ
১. মুসনাদে আয়েশা রাযি., পৃষ্ঠা: ৭৭।
২. মুসনাদে আয়েশা রাযি, পৃষ্ঠা: ১৫৭১।
৩. সহীহ বুখারী: কিতাবুল ইলম।