📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 তৎকালীন আরবে শিক্ষার স্বরূপ

📄 তৎকালীন আরবে শিক্ষার স্বরূপ


নারী তো দূরের কথা, আরবে পুরুষেরই লেখাপড়ার প্রচলন ছিল না। ইসলামের আবির্ভাবের সময় সমগ্র কুরাইশে লেখাপড়া-জানা লোক ছিলেন মাত্র সতেরো জন। তার মধ্যে শিফা আদাবিয়া ছিলেন একমাত্র নারী।
ইসলামের পার্থিব কল্যাণগুলোর মধ্যে এও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, ইসলামের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে লেখাপড়ারও প্রসার ঘটছিল। বদর যুদ্ধে বন্দী কাফেরদের মধ্যে যারা শিক্ষিত ছিল, মহানবী তাদের প্রত্যেককে মুক্তিপণ হিসেবে দশজন মুসলিম শিশুকে লেখাপড়া শেখানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুফফায় প্রায় একশো সাহাবী ছিলেন। তাদেরকে প্রয়োজনীয় বিদ্যার পাশাপাশি লেখাপড়াও শেখানো হতো।
পবিত্র সহধর্মিনীগণের মধ্যে হযরত হাফসা রাযি. ও উম্মে সালামা রাযি. লেখাপড়া শিখেছিলেন। হযরত হাফসা রাযি. বিশেষভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে শিফা আদাবিয়ার কাছে এ বিদ্যা রপ্ত করেছিলেন। পবিত্র স্ত্রীগণসহ আরও অনেক সাহাবিয়া লেখাপড়া শেখার প্রয়াস পেয়েছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনসঙ্গিনীর সংখ্যাধিক্য ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর বাল্যবিবাহের একটি কল্যাণকর দিক এই যে, যদিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সার্বক্ষণিক সাহচর্য সাহাবা কেরামকে সৌভাগ্য ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল; কিন্তু স্বাভাবিকভাবে এ সুযোগ সাহাবিয়াগণের হচ্ছিল না। কেননা শুধু পবিত্র স্ত্রীগণই তাঁর সান্নিধ্য-শোভা ও সাহচর্যের আলোক-আভা লাভ করছিলেন। কিন্তু এ উজ্জ্বল তারকারাজির আলোই পুরো পৃথিবীর নারী দিগন্তকে আলোকিত করে।
হযরত আয়েশা রাযি. ছাড়া অন্যান্য স্ত্রীগণ বিধবা হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। সুতরাং একমাত্র আয়েশা রাযি.-ই একক ও একনিষ্ঠভাবে নববী ফয়যানে ধন্য হয়েছিলেন। আর বাল্যকালই যেহেতু শিক্ষা-দীক্ষার প্রকৃত সময় সেহেতু এ সময়ই ভাগ্য তাঁকে সকল অন্ধকার ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত করে নববী সান্নিধ্যে পৌঁছে দিয়েছিল। তিনি যে পূর্ণতার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন যুগ- যুগের মুসলিম রমণীকুলের জন্য!

টিকাঃ
১. ফুতুহুল বুলদান।
২. মুসনাদে আহমদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৪৬।
৩. মুসনাদে আহমদ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৭।
৪. আবু দাউদ, চিকিৎসা অধ্যায়।
৫. ফুতুহুল বুলদান।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 পিতার কাছে তালিম-তারবিয়াত

📄 পিতার কাছে তালিম-তারবিয়াত


হযরত আবু বকর রাযি. সারা কুরাইশে বংশবিদ্যা ও কাব্যজ্ঞানে সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন। কুরাইশ কবিদের প্রতিউত্তরে ইসলামের মুখপাত্র মুসলমানদের শীর্ষ কাব্য দিয়ে যে আক্রমণ চালাত, কাফেরদের বিশ্বাস হতো না যে, তা আবু বকর রাযি.-এর সহযোগিতা ছাড়া রচিত হয়েছে। হযরত আয়েশা রাযি. এমনই একজন কাব্যরত্ন ও বংশবিদ পিতার ঘরে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। সুতরাং বংশবিদ্যা ও কাব্যজ্ঞান তাঁর জন্মসূত্রে পাওয়া।
হযরত আবু বকর রাযি. সন্তানদের শিষ্টাচারের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। পুত্র আবদুর রহমান রাযি. অতিথিদের আপ্যায়নে- খাবার পরিবেশনে-বিলম্ব করেছিলেন বলে হযরত আবু বকর রাযি. তাঁকে প্রহার করতে গিয়েছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. বিবাহের পরও আপন ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য পিতৃভয়ে ভীত থাকতেন। হযরত আবু বকর রাযি. কর্তৃক হযরত আয়েশা রাযি.-কে বকাঝকা করার একাধিক ঘটনা পাওয়া যায়। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তিনি তাঁকে পিতার হাতে থাপ্পড় খাওয়া থেকে বাঁচিয়েছিলেন।

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, মানাকিবে হাসসান রাযি।
২. ইসাবা, ইসতিআব : হযরত হাসান রাযি.-এর আলোচনা।
৩. মুসতাদরাকে হাকেম : হযরত আয়েশা রাযি.-এর আলোচনা।
১. সহীহ বুখারী।
২. সহীহ মুসলিম : বাবুল কাসেম বাইনা আজওয়াজ।
৩. সহীহ বুখারী : বাবুত তাইয়্যামুম। সহীহ মুসলিম : বাবুল কাসেম বাইনা আজওয়াজ।
৪. আবু দাউদ : কিতাবুল আদব, বাবুল মিরাহ।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 পবিত্র জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে

📄 পবিত্র জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে


হযরত আয়েশা রাযি.-এর শিক্ষা-দীক্ষা ও শিষ্টাচার গ্রহণের প্রকৃত ক্ষেত্র আসে রোখসতের পর-পবিত্র জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে এসে। তিনি জীবনের মর্ম অনুধাবন করেন ও জ্ঞানের স্বরূপ আবিষ্কার করেন এই চিরসুন্দর, চিরমহিমান্বিত সাহচর্য থেকেই। তিনিও যে জ্ঞানের ধর্ম তুলে ধরবেন, জীবনের মর্ম ব্যাখ্যা করবেন-ইসলামের আলোয়-আসা ভাগ্যবতী নারী সমাজের জন্য।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 শেখা পড়া

📄 শেখা পড়া


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে এসে হযরত আয়েশা রাযি. পড়তে শিখেছিলেন। তিনি দেখে দেখে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন।
একটি বর্ণনায় আছে, তিনি লিখতে পারতেন না। বিভিন্ন হাদীসে এসেছে, গোলাম যাকওয়ান হযরত আয়েশা রাযি.-কে কুরআন লিখে দিতেন।’ তাই অনুমান করা হয়, তিনি নিজে লিখতে পারতেন না।
অবশ্য কিছু কিছু বর্ণনায়—অমুক পত্রের জবাবে তিনি লিখেছেন—এমন কথাও পাওয়া যায়।’ হতে পারে, বর্ণনাকারী রূপকভাবে 'লিখিয়েছেন' পরিবর্তে 'লিখেছেন' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন; এবং এর প্রচলনও আছে।
যাই হোক, লেখাপড়া তো মানুষের বাহ্যিক শিক্ষা। প্রকৃত জ্ঞান আরও ওপরের বিষয়। মনুষ্যত্বের বিকাশ, চারিত্রিক গুণাবলি, অনিবার্য ধর্মীয় জ্ঞান, শরীয়তের রহস্য সম্পর্কে অবগতি, কালামে পাকের মারেফাত, আহকামে নববীর ইলম ইত্যাদি জ্ঞানের উন্নততর পর্যায়। আর এ শিক্ষায় হযরত আয়েশা রাযি. ছিলেন স্বয়ংসম্পূর্ণা।

টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী : বাবে তা’লীফীল কুরআন। বালাযুরি : ফাসলুল খাত্ত।
৬. বালাযুরি : ফাসলুল খাত্ত।
৭. সহীহ বুখারী : আসসালাতুল উসতা। মুসনাদে আহমদ : ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ৭১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00