📄 কুসংস্কারের অপনোদন
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে কারও বুঝতে বাকি থাকে না যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ, মোহর, রোখসত কতটা সাদামাটাভাবে হয়েছিল। অপচয়, আড়ম্বরতার লেশ পর্যন্ত ছিল না। وَفِي ذَالِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُوْنَ (প্রতিযোগিতা করতেই হয়, তো এতেই করা উচিত)।
হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের কল্যাণে আরবে বিরাজিত অসংখ্য কুসংস্কারের অপনোদন ঘটে। আরবরা মুখে-বলা ভাইয়ের মেয়েকেও বিয়ে করত না। হযরত খাওলা রাযি. যখন আবু বকর রাযি.-এর কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন তখন আবু বকর রাযি. বলেছিলেন, এ কী করে সম্ভব? আয়েশা তো রাসূলের ভাতিজি! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিয়েছিলেন, أَنْتَ أَخٌ فِي الْإِسْلام অর্থ : তুমি আমার ভাই; কিন্তু ধর্মের সূত্রে।
আরবরা শাওয়াল মাসে বিবাহ করত না। কোনো এককালে এ মাসে আরবে মহামারী দেখা দিয়েছিল। তাই এ মাস তাদের দৃষ্টিতে ছিল অশুভ।’ হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ, রোখসত উভয়ই শাওয়াল মাসে হয়েছিল। এ জন্য তিনি শাওয়াল মাসেই এসব অনুষ্ঠান পছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, আমার বিবাহ রোখসত উভয়ই শাওয়াল মাসে হয়েছে। জীবনসঙ্গীর বিচারে আমার চেয়ে ভাগ্যবতী কে আছে?
আরবে পূর্ব থেকেই রীতি ছিল যে, কন্যার সামনে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত থাকতে হবে। এও রীতি ছিল যে, স্বামী-স্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ হবে পালকির ভেতর। ইমাম বুখারী রহ. এবং ইমাম কসতলানি রহ. লিখেছেন—এই সব কুসংস্কার হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের মধ্য দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়।
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আয়েশা রাযি.।
২. উমদাতুল কারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৫।
৩. সূরা মুতাফফিফিন, আয়াত: ২৬।
১. তাবাকাত, ইবনে সাদ, পৃষ্ঠা: ৪১।
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম, বিবাহ অধ্যায়।
৩. সহীহ বুখারী, বিবাহ অধ্যায়।