📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 নাম, নসব ও খানদান

📄 নাম, নসব ও খানদান


নাম: আয়েশা, উপাধি: সিদ্দীকা, খেতাব: উম্মুল মুমিনীন, কুনিয়ত বা উপনাম: উম্মে আবদুল্লাহ, আরও উপাধি: হুমায়রা।১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনতুস সিদ্দীক’ বলেও সম্বোধন করেছেন।২
আবদুল্লাহ হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার ভাগ্নে। তিনি মূলত হযরত আসমা রাযি.-এর পুত্র। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের নামে অধিক পরিচিত। আরবে উপনাম ছিল মর্যাদার প্রতীক। যেহেতু হযরত আয়েশা রাযি.-এর সন্তান ছিল না, সেহেতু উপনামও ছিল না। একবার তিনি আক্ষেপের সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরজ করলেন, অন্যদের কুনিয়ত তো তাদের সন্তানদের নামে হয়েছে; কিন্তু আমার কুনিয়ত হবে কার নামে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমার ভাগ্নে আবদুল্লাহর নামে।’ সেদিন থেকেই হযরত আয়েশা রাযি.-এর কুনিয়ত-উম্মে আবদুল্লাহ।
হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার পিতার নাম আবদুল্লাহ, উপাধি সিদ্দীক ও উপনাম আবু বকর। মাতার নাম উম্মে রুমান। পিতার দিক থেকে বংশধারা—আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক, ইবনে আবু কুহাফা, ইবনে উসমান, ইবনে আমের, ইবনে উমর, ইবনে কাব, ইবনে সাদ, ইবনে তাইম, ইবনে মুরা, ইবনে লুওয়াই, ইবনে গালিব, ইবনে ফিহর, ইবনে মালিক।
মাতার দিক থেকে বংশধারা—আয়েশা বিনতে উম্মে রুমান, বিনতে আমের, ইবনে উআইমের, ইবনে আবদে শামস, ইবনে ইতাব, ইবনে উযাইনা, ইবনে সাবি, ইবনে অহমান, ইবনে হারিস, ইবনে গুনাইম, ইবনে মালিক, ইবনে কিনানা।
সুতরাং পিতার দিক থেকে তিনি কুরাইশিয়া তাইমিয়া এবং মাতার দিক থেকে কিনানিয়া।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর পিতৃকূলের বংশপরম্পরা সপ্তম বা অষ্টম পুরুষে এবং মাতৃকুলের বংশপরম্পরা একাদশ বা দ্বাদশ পুরুষে গিয়ে মিলিত হয়।
হযরত আয়েশা রাযি.-এর পিতা হযরত আবু বকর রাযি. ১৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মাতা উম্মে রুমানের ব্যাপারে অধিকাংশ

টিকাঃ
১. 'হুমায়রা' উপাধিসংবলিত বর্ণনাগুলো সনদের বিচারে মুহাদ্দিসগণের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। মাওযুআতের মধ্যে এসেছে : خذُوا شطر دينكم من الحميراء: তোমরা তোমাদের ধর্মের একটি বড় অংশ গ্রহণ করো হুমায়রার কাছ থেকে। অনেকে লিখেছেন-নাসাঈ শরীফে 'হুমায়রা' উপাধি সহীহ সনদেই এসেছে, কিন্তু অনেক খুঁজেও আমি পাইনি; বরং ইবনুল কাইয়্যুম রহ. লিখেছেন- যত হাদীসে 'হুমায়রা' উপাধি এসেছে সবই ভিত্তিহীন**। كشف الخفاء و مزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৭৪। তবে রিজালগ্রন্থগুলোতে 'হুমায়রা' উপাধি এসেছে। البحار-সহ مجمع আধুনিক আরবী অভিধানগুলোতে ধাতুমূলের অধীনেও বিষয়টি আলোচিত।
(** শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ. আল মানারুল মুনীফের টীকায় ইবনুল কাইয়্যিম রহ.- এর এই কথার ওপরে নোট লিখেছেন: "এই কথা স্বীকৃত নয়। তিনটি সহীহ হাদীস পাওয়া যায়, যেখানে 'হুমায়রা' শব্দটি এসেছে। বদরুদ্দীন যারকাশী রহ. আল ইজাবাহ লি ই-রাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ (পৃ. ৬১-৬২)-তে আয়েশা রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন..." [উক্ত টীকাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আগ্রহী পাঠক তা দেখে নিতে পারেন। আল-মানারুল মুনীফ, পৃ. ৬০, টীকা ২, বর্ণনা নং ৮৯-এর অধীনে, একাদশতম সংস্করণ, বৈরুত, মিশর ২০০৪ ইং-সম্পাদক)
২. তিরমিযী, তাফসীর-সূরা আল মুমিনুন।
১. আবু দাউদ, শিষ্টাচার অধ্যায়। মুসনাদে আহমাদ—মুসনাদে আয়েশা রাযি., ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৩, ১০৭।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 জন্মগ্রহণ

📄 জন্মগ্রহণ


ঐতিহাসিকের মত—তিনি পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন’; কিন্তু এ তথ্য ভুল। একাধিক গ্রহণযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, উম্মে রুমান রাযি. হযরত উসমান রাযি.-এর খেলাফত পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। ষষ্ঠ হিজরীতে ঘটে যাওয়া ইফক-সংক্রান্ত প্রায় সবগুলো হাদীসে তাঁর নাম এসেছে। সপ্তম হিজরীর তাখঈর বা ইচ্ছাধিকার প্রদানের ঘটনায়ও তিনি জীবিত।’ সহীহ বুখারীতে তাবেঈ মাসরুকের বর্ণনা উম্মে রুমান থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণিত আছে। ইমাম বুখারী রহ. তারীখে সগীর গ্রন্থে উম্মে রুমানকে হযরত আবু বকর রাযি.-এর খেলাফতকালে ইন্তেকালকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন; সঙ্গে সঙ্গে প্রথম বর্ণনার ওপর আপত্তি করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার তাহযিব গ্রন্থে তুলনামূলক আলোচনায় প্রমাণ করেছেন যে, ইমাম বুখারী রহ.-এর বক্তব্যই যথার্থ।
হযরত উম্মে রুমান প্রথমে আবদুল্লাহ আযদির সঙ্গে এবং তার মৃত্যুর পর আবু বকর রাযি.-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আবু বকর রাযি.-এর ঔরসে তাঁর গর্ভে হযরত আবদুর রহমান রাযি. ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্ম। হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্মতারিখ-নির্ণয়ে ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থগুলো নীরব।
ইবন সাদের অনুসরণে অধিকাংশ ঐতিহাসিক লিখেছেন, হযরত আয়েশা রাযি. নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের প্রথম দিকে জন্মগ্রহণ করেন। নবুওয়াতের দশম বর্ষে ছয় বছর বয়সে তাঁর বিবাহ হয়। কিন্তু এ বক্তব্য কোনোভাবেই যথার্থ নয়। কেননা, যদি নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের প্রথম দিকে তাঁর জন্ম হয়, তা হলে নবুওয়াতের দশম বর্ষে তাঁর বয়স ছয় বছর হয় না; বরং সাত বছর হয়।

টিকাঃ
২. উসুদুল গাবাহ, ইবনে আসির, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৮৩ (মিশরের ছাপা)।
২. তাবাকাতুন নিসা, ইবনে সাদ, পৃষ্ঠা: ৫৪। সহীহ বুখারী ও মুসলিম, তাখঈর অধ্যায়। মুসনাদে আহমাদ, ২য় খণ্ড।
৩. সহীহ বুখারী, তাফসীর-সূরা নূর।
৪. তারীখে সগীর, ইমাম বুখারী, পৃষ্ঠা: ২১ (এলাহাবাদের ছাপা)।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 শৈশব

📄 শৈশব


প্রকৃত প্রস্তাবে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স-সম্পর্কিত কয়েকটি তথ্য সর্বসম্মতিক্রমে সাব্যস্ত। হিজরতের তিন বছর পূর্বে ছয় বছর বয়সে বিবাহ হয়। শাওয়াল ১ হিজরী রোখসতের সময় বয়স ছিল নয় বছর। রবিউল আওয়াল ১১ হিজরী আঠারো বছর বয়সে বিধবা হন। এ দৃষ্টিকোন থেকে হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্ম হয় নবুওয়াতের পঞ্চম বর্ষের শেষের দিকে; অর্থাৎ হিজরতপূর্ব নবম বর্ষের শাওয়াল মাস মোতাবেক ৬১৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে।
উল্লেখ্য, সামনে যে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর বিবরণ আসবে সেগুলো বোঝার জন্য মনে রাখতে হবে যে, দীর্ঘ তেইশ বছরব্যাপী নবুওয়াতকালের প্রায় তেরো বছর মক্কায় এবং দশ বছর মদীনায় অতিবাহিত হয়েছে। হযরত আয়েশা রাযি. যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন নবুওয়াতের চতুর্থ বর্ষ তো পার হয়েছেই; পঞ্চম বর্ষেরও অনেকখানি কেটে গিয়েছিল।
সিদ্দীকে আকবর রাযি.-এর ছোট্ট কুটিরেই ইসলামের আলো পড়ে সবার আগে-যার কল্যাণে হযরত আয়েশা রাযি.-এর আপাদমস্তক সমগ্র সত্তা পবিত্র ছিল যে-কোনো প্রকারের কুফর ও শিরক থেকে। স্বয়ং হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনা-যখন থেকে আমি আমার মা-বাবাকে চিনতে শুরু করেছি, তাঁদেরকে মুসলমান পেয়েছি।’
হযরত আয়েশা রাযি.-কে দুধ পান করিয়েছিলেন ওয়াইলের পত্নী। ওয়াইলের উপনাম ছিল আবুল ফুকাইঈস। হযরত আয়েশা রাযি.-এর দুধচাচা আফলাহ ও দুধভাই মাঝেমধ্যে হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতিক্রমে হযরত আয়েশা রাযি. তাদের সঙ্গে দেখা করতেন।
যারা অসাধারণ, ছোট থেকেই অসাধারণ। আচরণ-উচ্চারণ, গতি- স্থিতি, বুদ্ধি-বৃদ্ধি-সবকিছুতেই। চোখেমুখে তাদের আলাদা আকর্ষণ। ললাটে তাদের জ্বলজ্বল করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঠিকানা। এমনই একজন অসাধারণ মুসলিম নারী-ব্যক্তিত্ব হযরত আয়েশা রাযি.। বাল্যকালেই তাঁর মাঝে ছিল মহত্ত্ব, বড়ত্ব ও সৌভাগ্যের আভাস। তবু শিশু শিশুই। খেলা আর খেলনাই তাঁর বয়সের দাবি। হযরত আয়েশা রাযি.-এরও বাল্যকালে যে খেলার আগ্রহ ছিল না তা নয়। পাড়ার শিশুকন্যারা তাঁর কাছে জড়ো হতো এবং তাঁর সঙ্গে খেলা করত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তাঁর শিশুমানস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার প্রতি কখনোই তাঁকে অমনোযোগী করেনি।
প্রায়ই এমন হতো যে, হযরত আয়েশা রাযি. খেলছেন। চারপাশে তাঁর সই-সখীদের ভিড়। হঠাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন! হযরত আয়েশা রাযি. জলদি খেলনাগুলো লুকিয়ে ফেলতেন। শিশুরা এদিক-সেদিক লুকিয়ে পড়ত। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের ভীষণ ভালোবাসতেন। শিশুদের খেলাধুলাকে মন্দজ্ঞান করতেন না। তাই শিশুদের ডেকে ডেকে আবার হযরত আয়েশা রাযি.-এর সঙ্গে খেলতে বলতেন।’ দুটো খেলা হযরত আয়েশা রাযি.-এর সবচেয়ে প্রিয় ছিল-কাপড়ের পুতুলখেলা ও দোলনায় দোল খাওয়া।
একবার হযরত আয়েশা রাযি. পুতুল খেলছিলেন। এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। পুতুলগুলোর মধ্যে একটি ঘোড়াও ছিল। ঘোড়াটির ডানে বামে দু'পাশে দুটো পেখম ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? শিশু আয়েশা রাযি. উত্তর দিলেন-ঘোড়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন-ঘোড়ার পেখম হয়? হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে সঙ্গে বললেন-কেন? হযরত সুলাইমান আ.-এর ঘোড়ার তো পেখম ছিল। এমন সহজ-সরল-স্বতঃস্ফূর্ত উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু না হেসে পারলেন না। এ ঘটনা থেকে শৈশবেই হযরত আয়েশা রাযি.-এর প্রকৃতিগত উপস্থিত বুদ্ধি, ধর্মীয় জ্ঞান, মেধা-প্রতিভা-বুদ্ধিমত্তা ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব অনুমান করা যায়।
এ যুগে সে যুগে, বাচ্চাদের সাধারণ অবস্থা তো এই যে, সাত-আট বছর বয়স পর্যন্ত না তাদের ভালো-মন্দের হুঁশ থাকে, না কিছুর গভীরে পৌছার সক্ষমতা থাকে। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. একেবারে শৈশবের কথাগুলোও মনে রেখেছিলেন ভালোভাবে। তিনি সেগুলোর শুধু বর্ণনাই করতেন না; বরং শিশু ও শৈশবের নানা বিধানও উদ্ঘাটন করতেন নিজের শৈশবে ঘটে-যাওয়া নানা ঘটনা থেকে। শিশুদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নানা বিষয়ের কল্যাণ-অকল্যাণ নিয়েও আলোচনা করতেন তিনি। ছোটবেলায় খেলাধুলার মধ্যেও কোনো আয়াত বা হাদীস তাঁর মনোযোগ এড়াত না। যেমন—তিনি বর্ণনা করেন, بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَذْهَى وَأَمَرُّ [سورة القمر : 46] আয়াতটি যখন মক্কায় অবতীর্ণ হয় তখন আমি খেলছিলাম।’ হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র আট বছর। এত অল্প বয়সেও তাঁর মনোযোগিতা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতা দেখুন! হিজরতে নববীর পূর্ণাঙ্গ ঘটনা সকল অনুষঙ্গসহ তিনি মনে রেখেছিলেন! অথচ কোনো সাহাবীই হিজরতের সকল ঘটনা ধারাবাহিকভাবে তাঁর চেয়ে চমৎকাররূপে সংরক্ষণ করতে পারেননি।

টিকাঃ
১. বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৫২; তাসহীহ-মাওলানা আহমদ আলী রহ.।
২. বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৬০-৩৬১।
১. ইবনে মাজাহ, باب مداراة النساء। সহীহ মুসলিম, ফাজায়েলে আয়েশা।
২. আবু দাউদ, কিতাবুল আদব।
৩. মেশকাত, باب عشرة النساء। আবু দাউদের আল-আদব অধ্যায়ে আছে, এটা গাযওয়ায়ে খায়বার কিংবা গাযওয়ায়ে তাবুকের সময়কার ঘটনা। এই বিবেচনায় তখন হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স তেরো কিংবা পনেরো বছর।
১. সহীহ বুখারী, তাফসীর-সূরা কমার।
২. সহীহ বুখারী, হিজরত।

📘 উম্মুল মুমিনীন সীরাতে আয়েশা রা > 📄 বিবাহ

📄 বিবাহ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী হযরত খাদীজা রাযি.। হযরত খাদীজা রাযি.-এর সঙ্গে বিবাহের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল পঁচিশ বছর; আর হযরত খাদীজা রাযি.-এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। হযরত খাদীজা রাযি. পঁচিশ বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে ধন্য হন। এরপর হিজরতের তিন বছর পূর্বে নবুওয়াতের দশম বর্ষের রমযান মাসে পরপারে পাড়ি জমান। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স হয়েছিল পঞ্চাশ বছর আর হযরত খাদীজা রাযি.-এর বয়স হয়েছিল পঁয়ষট্টি বছর।
ইসলামে স্ত্রীর অবস্থান কী হওয়া উচিত? তা এ থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, সারা পৃথিবীতে নিজ প্রিয় স্বামীর পর হযরত খাদীজা রাযি.-ই ছিলেন দ্বিতীয় মুসলমান, বন্ধুহীন-নিঃসঙ্গ জীবনের কষ্টে, বিপদ-আপদ ও মুসিবতের ভিড়ে এবং জুলুম-নির্যাতনের ভয়াল থাবার মুখে-প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি প্রিয়তম জীবনসঙ্গীর সঙ্গে থেকেছেন; নিপীড়ন ও প্রতিবন্ধকতার এরূপ সকল স্থানে তিনি সান্ত্বনা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতায় একাত্ম হয়েছেন। এমন অন্তরঙ্গ অকৃত্রিম স্ত্রী ও বন্ধুর বিরহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষণ্ণ হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। জীবন তাঁর দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, সেটাই যৌক্তিক।’
অবস্থাদৃষ্টে জীবন-উৎসর্গকারী সাহাবায়ে কেরام রাযি. বিচলিত হয়ে পড়লেন। বিখ্যাত সাহাবী হযরত উসমান ইবনে মাযউন রাযি.-এর স্ত্রী হযরত খাওলা রাযি. রাসূলের কাছে এলেন এবং মিনতি করলেন-হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আবার বিবাহ করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কাকে? হযরত খাওলা রাযি. বললেন, কুমারীও আছে, বিধবাও আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাদের কথা বলছ? হযরত খাওলা রাযি. বললেন, কুমারী আছে আবু বকরের’ কন্যা আয়েশা, আর বিধবা আছে যামআর কন্যা সাওদা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-আচ্ছা, কথা বলো।
হযরত খাওলা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মতি পেয়ে আবু বকর রাযি.-এর গৃহে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন। জাহেলি যুগে 'আপন ভাই'-এর ছেলেমেয়ের মতো 'মুখে বলা ভাই'-এর ছেলেমেয়ের সঙ্গেও বিবাহ না হওয়ার রেওয়াজ ছিল। তাই আবু বকর রাযি. বললেন, আয়েশা তো রাসূলের ভাতিজি। এ বিবাহ হবে কী করে? হযরত খাওলা রাযি. ফিরে এলেন এবং রাসূলের কাছে জানতে চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর আমার ধর্মভাই। এমন সম্বন্ধ বিবাহের প্রতিবন্ধক নয়।’ হযরত আবু বকর রাযি. এ কথা শুনে আর আপত্তি করলেন না।
কিন্তু এরও আগে জুবাইর ইবনে মুতইম রাযি.-এর ছেলের সঙ্গে হযরত আয়েশা রাযি.-এর সম্বন্ধের কথা হয়েছিল। তাই তড়িঘড়ি না করে তাকেও জিজ্ঞেস করা আবশ্যক ছিল। হযরত আবু বকর রাযি. জুবাইর রাযি.-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, তুমি তো আয়েশার সম্বন্ধ তোমার ছেলের সঙ্গে করবে বলেছিলে। তো এখনো কি সেই মতের উপরে আছ, না অন্য কিছু ভাবছ? জুবাইর রাযি. স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইলেন। তখনো জুবাইর-পরিবার ইসলামের আলো থেকে দূরে ছিল। জুবাইর রাযি.-এর স্ত্রী উত্তর দিলেন, এই মেয়ে বদ-দীন, এই মেয়ের মা বাপ বদ- দীন, এ আমাদের ঘরে এলে আমাদের পরিবারও বদ-দীন হয়ে যাবে। আমি এ সম্বন্ধ মানি না।’
হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স ছিল কম। কখনো কখনো মায়ের মর্জির খেলাফ কথা বলে ফেলতেন আর মা তাঁকে শাস্তি দিতেন, ভর্ৎসনা করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এটা ভালো লাগত না। তাই উম্মে রুমান রাযি.-কে বলে দিয়েছিলেন, অন্তত আমার খাতিরে ওকে কষ্ট দিয়ো না। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর রাযি.-এর গৃহে এসে দেখলেন, হযরত আয়েশা রাযি. কপাটে মুখ লাগিয়ে কাঁদছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে রুমান রাযি.-কে বললেন, তুমি আমার কথা রাখলে না। উম্মে রুমান রাযি. আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার বিরুদ্ধে সে বাপের কাছে নালিশ করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা-ই হোক, আর ওকে কিছু বোলো না।’
বিভিন্ন হাদীসে এসেছে, বিবাহের পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেছিলেন, একজন ফেরেশতা রেশমের কাপড়ে করে কী যেন পেশ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কী এটা? ফেরেশতা বললেন, আপনার স্ত্রী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবরণ সরিয়ে দেখলেন—হযরত আয়েশা রাযি.।’
বিবাহের সময় হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। এত অল্প বয়সে বিবাহ হওয়ার রহস্য ছিল নবুওয়াত ও খেলাফতের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়া। প্রথমত আরবের শুষ্ক আবহাওয়ায় মেয়েরা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠত। আবার অভিজ্ঞতা বলে, বিশেষ ব্যক্তিদের মেধা-প্রতিভা-চেতনায় যেমন বিশেষত্ব থাকে, তেমনি থাকে শারীরিক গঠনেও; যাকে ইংরেজিতে বলে প্রিকৌশাস—অকালপক্ব। যাই হোক, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে এত অল্প বয়সে জীবনসঙ্গিনীরূপে গ্রহণ করা প্রমাণ করে যে, শৈশবেই তাঁর মাঝে অসাধারণ মেধা-প্রতিভা ও অস্বাভাবিক বর্ধনশীলতা লক্ষ করা গিয়েছিল।
হযরত আতিয়া রাযি. হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ সম্পর্কে কেমন সাদামাটা বর্ণনা দিচ্ছেন—হযরত আয়েশা রাযি. বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছিলেন। দুধমা এলেন এবং নিয়ে গেলেন। হযরত আবু বকর রাযি. এসে বিবাহ পড়িয়ে দিলেন।
মুসলিম রমণীর বিবাহ এটুকু গুরুত্বই চায়। কিন্তু আজ কোনো মুসলিম মেয়ের বিবাহ আর্থিক অপচয়, নৈতিক অবক্ষয় এবং শিরকী ক্রিয়াকলাপের সমষ্টি ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের বিবাহই কি এর কার্যত প্রত্যাখ্যান নয়? হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন, যখন আমার বিবাহ হয় তখন খবরও ছিল না যে, আমার বিবাহ হয়ে গেছে। যখন আমার মা বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে বকাঝকা করতে শুরু করলেন, তখন বুঝতে পারলাম, আমার বিবাহ হয়ে গেছে। অবশ্য পরবর্তীতে আমার মা আমাকে বুঝিয়েও দিয়েছিলেন।’
ইবনে সাদের দুটো বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোহরস্বরূপ হযরত আয়েশা রাযি.-কে একটি জমি দিয়েছিলেন। জমিটির মূল্য ছিল পঞ্চাশ দিরহাম। কিন্তু সূত্রের বিচারে তা তো গ্রহণযোগ্য নয়-ই, যুক্তির বিচারেও এ তথ্য অগ্রহণযোগ্য। মাত্র পঞ্চাশ দিরহাম তো নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর এবং ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জমিরও মূল্য হতে পারে না। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী মোহরস্বরূপ চারশো দিরহাম নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু ইবন সাদেরই অন্য একটি বর্ণনা, যা স্বয়ং হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, প্রমাণ করে যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর মোহর ছিল বারো উকিয়া এক নশ'- অর্থাৎ পাঁচশো দিরহাম। সহীহ মুসলিমে হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, উম্মাহাতুল মুমিনীনের মোহর সাধারণত পাঁচশো দিরহাম ধার্য হতো। মুসনাদে আহমদেও হযরত আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর মোহর ছিল পাঁচশো দিরহাম।
যাই হোক, উম্মাহাতুল মুমিনীনের মোহর এবং আজকালকার মেয়েদের মোহর-তুলনা করে দেখুন-আকাশ-পাতাল ফারাক। ভেবে দেখুন, মোহর নিয়ে আমাদের বাড়াবাড়ি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোহর কম হলে যেন বংশের অমর্যাদা হয়। অথচ মুসলিমসমাজে এমন কোনো বংশ আছে কি, যা সিদ্দীকে আকবরের বংশের চেয়েও অধিক মর্যাদার? এমন কোনো কন্যা আছেন কি, যিনি সিদ্দীকায়ে কুবরার চেয়েও অধিক মরতবার?
হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের তারিখ নিয়েও মতভেদ আছে। আল্লামা আইনী রহ. বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেছেন, হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হিজরতের দুই বছর পূর্বে, অন্য বর্ণনায় তিন বছর পূর্বে এবং এও কথিত আছে যে, দেড় বছর পূর্বে হয়েছিল।’ আরও কিছু বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যুর তিন বছর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে বিবাহ করেছিলেন। আবার অনেক জীবনীকার মনে করেন, যে বছর খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যু হয় সে বছরই হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হয়।
হযরত খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যু-তারিখ থেকে হযরত আয়েশা রাযি.- এর বিবাহ-তারিখ নির্ণিত হতে পারত; কিন্তু হযরত খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যু-তারিখ নিয়েও একাধিক মত। একটি বর্ণনায় হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে, অন্য একটি বর্ণনায়-চার বছর পূর্বে এবং আরও একটি বর্ণনায়-তিন বছর পূর্বে। এত সব বর্ণনার ভিড়ে স্বয়ং হযরত আয়েশা রাযি.-এর বক্তব্য কোনো সমাধান দিতে পারত। কিন্তু মজার ব্যাপার, খোদ তাঁর থেকেও সহীহ বুখারী ও মুসনাদে দু'রকম বক্তব্য বিদ্যমান। একটি বর্ণনায় আছে, হযরত খাদীজা রাযি.-এর ওফাতের তিন বছর পর বিবাহ হয়েছিল। অন্য একটি বর্ণনায় আছে, এটা সে বছরেরই কথা।
বিশ্লেষকদের মতে—এবং বেশির ভাগ গ্রহণযোগ্য বর্ণনা এ মতেরই সমর্থন করে—হযরত খাদীজা রাযি. নবুওয়াতের দশম বর্ষে হিজরতের তিন বছর পূর্বে রমযান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। এক মাস পর সে বছরই শাওয়াল মাসে হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহ হয়। তখন হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স ছিল ছয় বছর। এই হিসাব অনুযায়ী হিজরতের তিন বছর আগে শাওয়ানে (মোতাবেক ৬২০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে) বিবাহ হয়েছে। ইসতিআব গ্রন্থে আল্লামা ইবনে আবদুল বার এ মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত স্ববিরোধী বক্তব্য দুটো—আমার মতে—বর্ণনাকারীর বুঝের ভুল। বিবাহ আসলে সে বছরই হয়েছিল যে বছর হযরত খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যু হয়; কিন্তু রোখসত ও স্বামী-স্ত্রীর মিল হয়েছিল তিন বছর পর, যখন হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স হয়েছিল নয় বছর।

টিকাঃ
১. তাবাকাত, ইবনে সাদ, খণ্ড পৃষ্ঠা: ৪১ (লন্ডনের ছাপা)।
২. ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদ ও খ্রিস্টান গবেষকদের লজ্জাজনক মূর্খতার একটি উদাহরণ এই যে, তাদের দাবি, যেহেতু আরবী ভাষায় কুমারী মেয়েকে بکر বলে আর কেবলমাত্র হযরত আয়েশা রাযি.-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুমারী স্ত্রী ছিলেন, তাই সেই সম্মানের খাতিরে তাঁর পিতা ইসলামে আবু বকর উপনামে খ্যাত হন। বাইরের লোকেরা প্রকৃত ঘটনা যদি না জানেন, তা হলে দুঃখের কিছু নেই; কিন্তু ঘরের লোকেরা ভুল করলে কীভাবে চলে। আধুনিক শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ স্যার সৈয়দ আমীর আলীও লাইফ অফ মুহাম্মাদ গ্রন্থের ১৪ নং অধ্যায়ে এ ভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। আরবে কুনিয়ত বা উপনাম সম্মান ও আভিজাত্যের প্রতীক। সেকালে সম্মানিত ব্যক্তিবৃন্দ উপনামে সম্বোধিত হতেন। অনেক অভিজাত ব্যক্তিরই প্রকৃত নাম হারিয়ে গেছে উপনামের আড়ালে। কে আছেন যিনি আবু সুফিয়ান, আবু জেহেল, আবু লাহাব ও আবু যর প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের প্রকৃত নাম জানেন? আবু বকর নামটিও এমন। হযরত আবু বকর রাযি. শুধু হযরত আয়িশা রাযি.-এর জন্মের পূর্বেই নয়; ইসলামেরও জন্মের পূর্বে 'আবু বকর' উপনামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তা ছাড়া এই পণ্ডিতদের কে জানাবেন যে, আরবী ভাষায় কুমারীকে (بِكر (بفتح الباء (ফাতহা দিয়ে-বক্স) বলা হয় না; বরং (بكر (بكسر الباء )কাসরা দিয়ে-বিক্র) বলা হয়। যায়েদ, আমর, উমর ইত্যাদির মতো বকরও একটি 'আলাম' বা নামবাচক বিশেষ্য। বনু বকর নামে আরবে একটি বিখ্যাত গোত্র ছিল। 'বিকর' শব্দের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
১. সহীহ বুখারী, تزويج الصغر من الكبر , পৃষ্ঠা: 940।
২. মুসনাদে আহমদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা : ২১১।
১. মুসতাদরাকে হাকেম।
২. সহীহ বুখারী, মানাকিবে আয়েশা রাযি.।
৩. কিছু অপরিণামদর্শী মানুষ এই বাল্যবিবাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে অশোভন মনে করেছেন। তাই তারা বিবাহের সময় হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স বারো বছর প্রমাণ করতে চেয়েছেন; কিন্তু তাদের প্রয়াস অনর্থক, প্রমাণ অগ্রহণযোগ্য। ইসলামের ইতিহাসের কোনো নথিপত্র তাদের পক্ষে নেই। বিশদ জানার জন্য বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের শেষে প্রদত্ত 'হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স' শীর্ষক নিবন্ধটি দ্রষ্টব্য।
১. তাবাকাত, ইবনে সাদ, পৃষ্ঠা: ৪০।
২. তাবাকাত, ইবনে সাদ, পৃষ্ঠা: ৪১।
৩. সহীহ মুসলিম, কিতাবুন নিকাহ।
৪. মুসনাদে আয়েশা রাযি., পৃষ্ঠা: ৯৪।
১. উমদাতুল কারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৫।
২. সহীহ বুখারী, ফজিলতে খাদীজা রাযি.। মুসনাদে আহমদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৮।
৩. সহীহ বুখারী, হযরত আয়েশা রাযি, এর বিবাহ। মুসনাদে আয়েশা রাযি., পৃষ্ঠা: ১১৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00