📘 উম্মতের ওপর সাহাবীদের অধিকারসমূহ > 📄 নবম অধিকার: যারা তাদেরকে অপছন্দ ও ঘৃণা করে তাদেরকেও অপছন্দ ও ঘৃণা করা, তাদের ওপর মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করা ও তাদের প্রতি শত্রুতা রুখে দাঁড়ানো

📄 নবম অধিকার: যারা তাদেরকে অপছন্দ ও ঘৃণা করে তাদেরকেও অপছন্দ ও ঘৃণা করা, তাদের ওপর মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করা ও তাদের প্রতি শত্রুতা রুখে দাঁড়ানো


এটি তাদের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি প্রকার ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সত্যবাদী হওয়ার প্রমাণ। রাদিয়াল্লাহু আনহুম। কবি বলেছেন, 'আহলে বাইত তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার ও সমস্ত সাহাবীগণের থেকে আমরা অপবাদ প্রতিহত করব, তাদের সকলকে ভালোবাসায় আমরা বিশ্বাস করব।'৯0
ইমাম যাহাবী রহ. বলেছেন, ‘আর আমরা তাদেরকে অপছন্দ করব, যারা সাহাবীগণকে অপছন্দ করে এবং অকল্যাণের সাথে তাদেরকে স্মরণ করে।'৯1 এ কথার দলীল হলো নিম্নোক্ত হাদীস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَوْثَقُ عُرَى الْإِيمَانِ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ. “ঈমানের সবচেয়ে মজবুত রশি হচ্ছে কাউকে আল্লাহ্ ওয়াস্তে ভালোবাসা আবার কাউকে আল্লাহ্র জন্যই ঘৃণা করা।”৯2 নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র জন্য কাউকে ঘৃণা করার সর্বাধিক উপযুক্ত ক্ষেত্র হলো তাদেরকে ঘৃণা করা যারা সাহাবীগণকে অপবাদ দেয়। রাদিয়াল্লাহু আনহুম।
অন্যদিকে সাহাবীগণের শত্রুদের প্রতিহত করা, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অপবাদের জবাব দেওয়া, তাদের বিরুদ্ধে আনীত দ্বিধা-সংশয়ের নিরসন করা আল্লাহ্র রাস্তায় সর্বোত্তম জিহাদের অন্যতম।

টিকাঃ
৯0 আল-জাওয়াহিরুল ফারিদাহ ফি তাহকীকিল আকীদাহ, পৃষ্ঠা ৪৩, পরিচ্ছেদ ১০৮।
৯1 প্রান্তক্ত।
৯2 মু'জামুল কাবীর, তাবারানী, ১/৩৩২-৩৩৪, হাদীস নং ৬২৪। আলবানী রহ. হাদীসটির অনেক সনদের সমন্বয়ে ‘সিলসিলাতুস সাহীহা’ ১/৬৬৬ তে হাসান বলেছেন, হাদীস নং ৯৯৮।

📘 উম্মতের ওপর সাহাবীদের অধিকারসমূহ > 📄 দশম অধিকার: তাদের অনুসরণ করা ও তাদের পথে চলা

📄 দশম অধিকার: তাদের অনুসরণ করা ও তাদের পথে চলা


আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পদ্ধতি নিম্নোক্ত এ মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, ‘সর্বোত্তম ইলম তা হলো যা সাহাবীগণের ইলম অনুসরণ করে অর্জিত হয়েছে, আর সর্বোত্তম আমল হলো যা সাহাবীগণের আমল অনুসরণ করে করা হয়েছে। তারা মনে করেন, সাহাবীগণ সব ফযীলত ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সবার উপরে।'৯3 কবি বলেছেন, 'দীনের ব্যাপারে তাদের (সাহাবীগণের) অনুসরণ করা ফরয (অত্যাবশ্যকীয়), অতএব, তাদের অনুসরণ করো, আর অনুসরণ করো কুরআনের আয়াত ও সূরার।'৯4 ইমাম আহমাদ রহ. বলেছেন, সুন্নাতের উসূল বা মূলনীতি হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যা আমল করেছেন তা আঁকড়ে ধরা এবং তাদের অনুসরণ করা।'৯5 ন্যায়পরায়ণ ইমাম উমার ইবন আব্দুল আযীয রহ. বলেছেন, ‘সাহাবীগণ তাদের নিজেদের ব্যাপারে যে সব বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন তুমিও সে সব বিষয়ে নিজেকে সন্তুষ্ট রাখো অর্থাৎ তাদের পথ অনুসরণ করো। কেননা তারা দীনের গভীর ইলম অনুযায়ীই কোনো অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং দিব্যদৃষ্টি হারাই কোনো কাজ করা থেকে বিরত থেকেছেন।'৯6 আর আল্লাহ্ তা'আলা শ্রেষ্ঠতম সাহাবীগণের অনুসরণ করার ব্যাপারে লোকদের প্রশংসা করে বলেছেন,
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴾ [التوبة: ١٠٠] “আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফাল্য”। [সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০]
আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অনুসরণ করতে আরও বলেছেন, ﴿ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ﴾ [لقمان: ١٥] “আর অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়।” [সুরা লুকমান, আয়াত: ১৫] নিঃসন্দেহে নবীদের পরে তারা এ গুণের বেশি হকদার ছিলেন (অর্থাৎ নবীদের পরে তারাই সবচেয়ে বেশি আল্লাহ অভিমুখী লোক ছিলেন)।
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন, ﴿ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ ﴾ [التوبة: ١١٩] “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।” [সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৯] দাহহাক রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘তোমরা আবু বকর, উমার ও এতদোভয়ের সাথীদের (সাহাবীগণের) সাথে থাকো।’৯৭ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন নাজাতপ্রাপ্ত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দলটির বর্ণনা জিজ্ঞেস করা হলো তখন তিনি বললেন, «مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي» “আমি এবং আমার সাহাবীরা যার উপর প্রতিষ্ঠিত।”৯৮
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘হে কারীগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের (সাহাবীগণের) পথে চলো, নিঃসন্দেহে তোমরা যদি তাদের পথ অনুসরণ করো তাহলে তোমরা মহা সফলকাম হবে, আর যদি তাদের পথ থেকে সামান্য পরিমাণ এদিক সেদিক চলে যাও তবে তোমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হবে।’৯৯
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবীগণের পথে চলা হলো হিদায়াত এবং এ পথই নাজাতের।
ইবন কাসীর রহ. এর নিম্নোক্ত আয়াতের সুন্দর তাফসীর দ্বারা আমার আলোচনা শেষ করব, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ ءَامَنُوا لَوْ كَانَ خَيْرًا مَا سَبَقُونَا إِلَيْهِ﴾ [الأحقاف: ١١] “আর যারা কুফুরী করেছে তারা যারা ঈমান এনেছে তাদের সম্পর্কে বলে, যদি এটা ভালো হতো তবে তারা আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না।” [সুরা আল- আহকাফ, আয়াত: ১১] তিনি বলেছেন, ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতও বলেন যে, যে সব কাজ ও কথা সাহাবীগণের থেকে সাব্যস্ত নয় তা বিদ্‘আত। কেননা কাজটি ভালো হলে সাহাবীগণ আমাদের থেকে অগ্রণী হতেন। কেননা এমন কোনো উত্তম কাজ ছিলো না যে কাজে তারা দ্রুত অগ্রণী ছিলেন না।’১০০

টিকাঃ
৯৩ শরহুল আকীদাতিল আসফাহানিয়্যাহ, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২৮।
৯৪ দীওয়ানে ইবন মুশাররফ, পৃষ্ঠা ২০।
৯৫ উসূলুস সুন্নাহ, আবদুস ইবন মালিকের বর্ণনা- পৃষ্ঠা ২৯; ইমাম আহমাদ রহ. থেকে লালকায়ী ও শরহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ, ১/৬৬৬ তে বর্ণনা করেছেন।
৯৬ আবু দাউদ, ৬/৫৮, হাদীস নং ৪৬১২; আলবানী রহ সহীহ সুনানে আবু দাউদ ৫/১২২-১২৫, হাদীস নং ৪৬১২ তে হাদীসটিকে সহীহ মাকূ' বলেছেন।
৯৭ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৭/৩১৪।
৯৮ তিরমিযী, কিতাবুল ঈমান, বাব: এ উম্মতের বিভক্তি সম্পর্কে, ৫/২৫, হাদীস নং ২৬৪১, ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি মুফাস্সার ও গরীব, বর্ণনার এ সূত্র ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে জানা যায় নি। আলবানী রহ. সহীহুত তিরমিযীতে ৩/৫৪, হাদীস নং ২৬৪১ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
৯৯ ইবনু আব্দুল বার তার জামে'উ বায়ুনিল ইলম ওয় ফাযলিহি, ২/৯৮৭ তে বর্ণনা করেছেন। আসরটি কাছাকাছি শব্দে সহীহ বুখারীতে ১০/১২২ রয়েছে।
১০০ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ১০/১৯২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00